কিছু আদিম জীবে, যেমন ধরুন কিছু ছত্রাক, স্ত্রী আর পুরুষ, দুটি লিঙ্গ হিসাবে বিষয়টি ঘটে না, যদিও একধরনের যৌন প্রজনন সেখানে ঘটছে। কোনো একটি সিস্টেম যা পরিচিত ‘আইসোগ্যামি’ হিসাবে, যেখানে কোনো একক সদস্যরা দুটি পৃথক লিঙ্গে শনাক্তযোগ্য নয়। যে কেউই যে কারো সাথে প্রজনন করতে পারে। দুটি ভিন্ন ধরনের গ্যামেট– শুক্রাণু আর ডিম্বাণু সেখানে নেই বরং সব জনন কোষই একই রকম, যাদের বলা হয় “আইসোগ্যামেট। নতুন সদস্যদের জন্ম হয় এই দুটি আইসোগ্যামেটের মিলনে, যাদের প্রতিটি মাইওটিক কোষ বিভাজনের মাধ্যমে তৈরী হয়েছে। আমাদের যদি তিনটি আইসোগ্যামেট থাকে, ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’; ‘ক’, ‘খ’ কিংবা ‘গ’ এর সাথে মিলিত হতে পারে, যেমন, ‘খ’ পারে ‘ক’ এবং ‘গ’ এর সাথে মিলিত হতে। কিন্তু সাধারণ যৌন প্রজনন পদ্ধতিতে সেটি কখনোই সম্ভব নয়। সেখানে যদি ‘ক’ একটি শুক্রাণু হয় এবং এটি ‘খ’ ও ‘গ’ এর সাথে মিলিত হতে পারে, তাহলে ‘খ’ ও ‘গ’ কে অবশ্যই ডিম্বাণু হতে হবে এবং ‘খ’ ডিম্বাণু কখনোই ‘গ’ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পারবেনা।
যখন দুটি আইসোগ্যামেট মিলিত হয়, দুটি কোষই সমপরিমান জিন প্রদান করে মিলনে অংশগ্রহন করে কোনো একটি নতুন সদস্যের জন্মের কারণ হয়, এবং তারা একইভাবে সমপরিমান খাদ্য মজুদও সরবরাহ করে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুও একই সংখ্যক জিন দান করে কিন্তু ডিম্বাণু সংরক্ষিত খাদ্যের সিংহভাগ তৈরী করে: আসলেই শুক্রাণুরা সংরক্ষিত খাদ্য মজুত তৈরীতে কোনো অংশগ্রহন করেনা, তাদের একটি কাজ শুধু যত দ্রুত সম্ভব ডিম্বাণুতে তাদের ভাগের জিনগুলোকে পৌঁছে দেয়া। সুতরাং, ডিম্বাণু নিষিক্ত হবার মুহূর্তে, পিতা তার সন্তানের জন্য তার সম্পদের নায্য ভাগের চেয়ে কম অংশ বিনিয়োগ করে ( যেমন, ৫০ শতাংশ)। যেহেতু প্রতিটি শুক্রাণ আকারে এত ছোট যে কোনো পুরুষ দিনে বহু মিলিয়ন সংখ্যক শুক্রাণু তৈরী করতে পারে। এর মানে হচ্ছে, অল্প একটি সময় পর্বে পুরুষ সদস্যটি বিভিন্ন স্ত্রী সদস্যদের দ্বারা বহু সংখ্যক সন্তান জন্ম দেবার সম্ভাবনা ধারণ করে। এবং এটি শুধুমাত্র সম্ভব কারণ প্রতিটি নতুন ভ্রূণে যথেষ্ট পরিমান খাদ্য মজুত থাকে, প্রতিটি ক্ষেত্রে যা করে তার মা, আর সেটাই কোনো একটি স্ত্রী সদস্য কয়টি সন্তানের জন্ম দিতে পারবে তার উপর একটি সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। কিন্তু কোনো একটি পুরুষ কয়টি সন্তানের পিতা হবে সেই সংখ্যাটি হতে পারে অসীম। স্ত্রী-সদস্যদের নিজস্ব স্বার্থসাধনে ব্যবহার করার সূচনা এখান থেকে (২)।
পার্কার এবং অন্যরা দেখিয়েছিলেন যে কিভাবে এই অসাম্যতা মূলত কোনো একটি আইসোগ্যামেট নির্ভর প্রজনন পদ্ধতি থেকে বিবর্তিত হতে পারে। সেইসব দিনগুলোয় যখন সব জনন কোষরা মূলত পারস্পরিকভাবে প্রতিস্থাপনযোগ্য এবং মোটামুটিভাবে আকারে একই রকম ছিল, সেখানে ঘটনাচক্রে কিছু আইসোগ্যামেট হয়তো ছিল, যারা অন্যদের তুলনায় আকারে বড় ছিল। কিছু ক্ষেত্রে একটি বড় আইসোগ্যামেটের গড়পড়তা আকারের কোনো গ্যামেটের চেয়ে বাড়তি কিছু সুবিধা ছিল, কারণ এটি তার ভ্রূণকে শুরু থেকেই ভালো পরিমান খাদ্য-মজুদ সরবরাহ করে বাড়তি সুবিধা দিতো তার যাত্রা শুরু করতে। হয়তো একটি বিবর্তনীয় প্রবণতা থাকতে ডপারে যা ক্রমান্বয়ে বড় আকারের জনন কোষের বিবর্তনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু এখানে অন্য একটি ব্যাপারও ঘটে। সুনির্দিষ্টভাবে যা প্রয়োজন, আকারে তার তুলনায় খানিকটা বড় আইসোগ্যামেটের বিবর্তন হয়তো স্বার্থপর উদ্দেশ্যপূরণ করার দরজাটাও উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। যে সদস্যরা গড়পড়তা আকারের চেয়ে ছোট জনন কোষ তৈরী করে তারাও সুবিধা নিতে পারে, যদি তারা নিশ্চিৎ করতে পারে আকারে বড় জননকোষগুলোর সাথে তারা মিলিত হবে। আর এটি অর্জিত হতে পারে যদি খুব ছোট জনন কোষগুলোকে আরো বেশী গতিশীল করে তৈরী করা যায়, যারা সক্রিয়ভাবে আকারে বাড়তি গ্যামেটগুলো খুঁজে বের করে। আকারে ছোট, দ্রুত গতি সম্পন্ন জনন কোষ তৈরী করে এমন কোনো একটি সদস্যের জন্য বড় সুবিধা হচ্ছে তারা বহু সংখ্যক জনন কোষ তৈরী করতে পারে, সুতরাং তাদের বহু সংখ্যক সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে। প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব জনন কোষ উৎপাদনের বিষয়টিকে সহায়তা করবে যারা মিলিত হবার জন্য সক্রিয়ভাবে বড় জনন কোষগুলোকে খুঁজে বের করে। সুতরাং আমরা দুটি ভিন্ন ধরনের কৌশল বিবর্তিত হয়েছে বলে ভাবতে পারি। প্রথমে আছে বড়-বিনিয়োগ বা “সৎ’ কৌশল। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্বল্প বিনিয়োগকারী, নিজের স্বার্থ হাসিলের কৌশল বিবর্তিত হবার সুযোগ করে দেয়। যখন এই দুটি কৌশলের মধ্যে বিভাজন শুরু হয়, এটি খুব দ্রুততার সাথে চলার কথা। মাঝারী আকারের কোনো জনন কোষের মধ্যবর্তী রুপ সেখানে শাস্তি পেতে পারে, কারণ তারা আরো বেশী চরম দুটি কৌশলের কোনোটিরও সুবিধা নিতে পারেনা। যারা এই পরিস্থিতিকে নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করবে তারা আকারে ক্রমশই ছোট থেকে আরো ছোট এবং আরো দ্রুতগতি সম্পন্ন হবার মাধ্যমে বিবর্তিত হবে। সৎ কৌশলটি বিবর্তিত হয়, ক্রমেই আকারে বড় থেকে আরো বড় হয়, ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকা তাদের স্বার্থপর-ব্যবহারকারীদের (শুক্রাণু) কম বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ করার প্রচেষ্টায় এবং তারা স্থির নিশ্চল হয়ে পড়ে কারণ এমনিতেই তাদের সবসময় সক্রিয়ভাবে মিলনের জন্যে খুজবে স্বার্থপর-ব্যবহারকারীরা। প্রতিটি সৎ জনন কোষ ‘চাইবে’ এরকম ‘সৎ’ কোন জনন কোষের সাথে মিলিত হতে। কিন্তু নির্বাচনী চাপ তাদের স্বার্থপর-ব্যবহারকারীদের সীমানার বাইরে রাখার জন্যে যে চাপ সৃষ্টি করে সেটি সেই চাপটির থেকে দূর্বলতর, যা এই স্বার্থপর-ব্যবহারকারীদের বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সীমানা অতিক্রম করতে চাপ দেবে: স্বার্থপর-ব্যবহারকারীদের হারাবার পরিমান অনেক বেশী এবং সেকারণে তারা বিবর্তনীয় যুদ্ধে জয়লাভ করে। সৎ’ কৌশলের কোষগুলো ‘ডিম্বাণু জনন কোষে এবং তাদের স্বার্থপর-ব্যবহারকারীরা শুক্রাণু জনন কোষে রূপান্তরিত হয়।
