তারপরও, কোনো পিতামাতার জন্য সুবিধা হচ্ছে জানা যখন একটি শিশু তৃপ্ত এবং এটিও ভালো বিষয় কোনো শিশুর জন্য তার পিতামাতাকে জানানো যখন সে তৃপ্ত আর আনন্দিত। গরগর শব্দ করা বা হাসা এধরনের সংকেত হয়তো একারণেই নির্বাচিত হয়েছে কারণ সেগুলো পিতামাকে বুঝতে সাহায্য করে তাদের কোন কাজটি তাদের সন্তানের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কোনো শিশুর হাসি মুখ বা সে যদি বিড়াল হয় তার বাচ্চাদের গরগর শব্দ মায়ের জন্য সন্তোষজনক একই ভাবে কোনো গোলকধাঁধার মধ্যে থাকা ইঁদুরের পেটে খাদ্য যেমন তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু একবার যখন এটি সত্যে রূপান্তরিত হয় যে কোনো মিষ্টি হাসি বা উচ্চ স্বরে ডাকা লাভজনক, তখন শিশুটি তার সেই অবস্থানে উপনীত হয়, যেখান থেকে সে তার পিতামাতার আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং পিতামাতার বিনিয়োগের তার নায্যভাবে প্রাপ্য ভাগের চেয়ে বেশী সে অর্জন করে।
তাহলে, দেখা যাচ্ছে সেই প্রশ্নটির কোনো সাধারণ উত্তর নেই কে আসলে প্রজন্মের মধ্যে এই দ্বন্দ্বে জয়লাভ করবে। পরিশেষে যা বেরিয়ে আসে হয় তাহলো, কোনো একটি আদর্শ পরিস্থিতি যা কিনা কোনো শিশু কামনা করে এবং পিতামাতা যে আদর্শ পরিস্থিতি কামনা করে তার মধ্যে একটি সমঝোতা। এটি সেই যুদ্ধের সাথে তুলনাযোগ্য, কোকিল ও তার পোষক পিতামাতার মধ্যে যে যুদ্ধ হচ্ছে। অবশ্যই কোনো হিংস্র যুদ্ধ না নিশ্চয়ই, কারণ শত্রুদের একটি সাধারণ জিনগত স্বার্থ আছে– তারা শুধু শক্র একটি নির্দিষ্ট সীমা অবধি বা কোনো নির্দিষ্ট সংবেদনশীল সময়েই সীমাবদ্ধ। তবে, কোকিলদের ব্যবহৃত বহু প্রতারণা আর স্বার্থপরভাবে কোনো কিছু নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার কৌশল হয়তো ব্যবহার করতে পারে পিতামাতা নিজেদের সন্তানরাও, যদিও পিতামাতার নিজেদের সন্তান পুরোপুরি স্বার্থপর হবার আগেই থেমে যাবে, যে চূড়ান্ত স্বার্থপরতা প্রত্যাশা করা যেতে পারে কোকিলদের মধ্যে।
এই অধ্যায়টি ও পরবর্তী অধ্যায়টি, যেখানে আমরা সঙ্গীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করবো, মনে হতে পারে ভয়াবহ হতাশাবাদী এবং মনে হতে পারে এমনকি মানব পিতামাতার জন্য রীতিমত যন্ত্রণাদায়ক, যেহেতু তারা তাদের সন্তানদের প্রতি এবং একে অপরের সাথে খুব বেশীভাবে নিবেদিত প্রাণ। আবারো আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি, আমি কিন্তু কোনো সচেতন উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছিনা। কেউই প্রস্তাব করছে না যে শিশুরা সুপরিকল্পিতভাবে এবং সচেতনভাবই তাদের পিতামাতার সাথে প্রতারণা করে, কারণ তাদের মধ্যে ধারণ করা স্বার্থপর জিনগুলো। এবং আমি অবশ্যই পুনরাবৃত্তি করতে চাই যখন আমি কিছু বলি যেমন, কোনো একটি শিশুর উচিৎ না প্রতারণার করার কোনো সুযোগ হারানো .. মিথ্যা বলা, ছলনা করা, নিজের স্বার্থে কোনো কিছুকে ব্যবহার করা..’; আমি ‘উচিৎ’ শব্দটা ব্যবহার করছি বিশেষ অর্থে। এগুলো নৈতিক বা কাঙ্খিত কোনো আচরণ হিসাবে আমি এই ধরনের কোনো আচরণের সপক্ষে কোনো সাফাই গাইছি না। আমি শুধুমাত্র বলছি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব শিশুদের পক্ষে আনুকুল্যতা প্রদর্শন করে যারা এইভাবে আচরণ করে। এবং সেটাই সুতরাং যখন আমরা বন্য প্রাণী জনগোষ্ঠীদের দিকে তাকাই, আমরা প্রত্যাশা করতে পারি পরিবারদের মধ্যে প্রতারণা আর স্বার্থপরতা দেখার। শিশুর প্রতারণা করা উচিৎ হবে’ এই বাক্যটির অর্থ যে জিন যা কোন শিশুকে দিয়ে প্রতারণা করায় তাদের বাড়তি সুবিধা আছে জিন পলে। যদি কোনো ধরনের মানবিক নৈতিকতার শিক্ষা আমাদের এখানে থেকে বের করে আনতে হয়, সেটি হবে আমাদের অবশ্যই আমাদের শিশুদের ‘পরার্থবাদীতা’ শেখাতে হবে, কারণ আমরা এটিকে তাদের জৈববৈজ্ঞানিক প্রকৃতির অংশ হিসাবে প্রত্যাশা করতে পারিনা।
নোটস: (অধ্যায় ৮)
(১) রবার্ট ট্রিভার্স– যার সত্তরের দশকের শুরুর দিকে প্রবন্ধগুলো আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ছিল এই বইটি প্রথম সংস্করণ লেখার জন্য, এবং তার সেই ধারণাগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে অধ্যায় ৮ এ– পরিশেষে তিনি নিজেই তার বই প্রকাশ করেছেন, Social Evolution; আমি এই বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করবো শুধুমাত্র এর ভিতরে যা আছে তার জন্য না, এছাড়া এর লেখক শৈলীর জন্য। সুস্পষ্ট চিন্তা, অ্যাকাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্ভূল, কিন্তু সেই যথেষ্ট পরিমান নরাত্বরোপমূলক দ্বায়িত্বহীনতা, যা হামবড়াদের তিরষ্কার করার মত এবং ব্যাক্তিগত জীবনের কাহিনী কিছু ঘটনার মশলায় মিশ্রিত। আমি নিজেকে সংবরণ করতে পারছি না সেখান থেকে একটি উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ না করতে, কারণ এটি এত বেশী বৈশিষ্ট্যসূচক; এখানে ট্রিভারস তার উত্তেজনার কথা বর্ণনা করছেন কেনিয়াতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী বেবুনদের আচরণ চাক্ষুষ দেখে: ‘আমার উত্তেজনার আরো একটি কারণ ছিল এবং সেটি হচ্ছে অবচেতন মনের স্তরে আমি আর্থার এর সাথে নিজেকে একাত্ম অনুভব করেছিলাম। আর্থার চমৎকার একটি পুরুষ, তার জীবনে শিখরে’; ট্রিভার্সের নতুন অধ্যায় যা আলোচনা করেছে পিতামাতা ও সন্তানের দ্বন্দ্ব, এই আলোচনাটাকেই হালনাগাদ করেছেন। ১৯৭৪ সালে তার সেই প্রবন্ধে আসলেই আর তেমন কিছু যোগ করার মত নেই, কিছু নতুন সত্যিকারের উদাহরণ ছাড়া। তত্ত্বটি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আরো বিস্তৃত গাণিতিক ও জিনগত মডেলগুলো নিশ্চিৎ করেছে ট্রিভারস এর মূলত মৌখিক যুক্তি আসলেই এসেছে বর্তমানে গৃহীত ডারউইনীয় তত্ত্ব থেকে।
