এই তত্ত্বটির মূল বিরোধিতা হচ্ছে যে খুবই কঠিন বিশ্বাস করা যে কেউই এই অশুভ আচরণ দেখবেন না যদি এটি সত্যি ঘটে। আমার কাছে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নেই এর। বহু ধরনের সোয়ালো পাখি আছে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে। আমরা জানি যে সোয়ালোদের স্প্যানিশ গ্রুপটি কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন ব্রিটিশ সোয়ালোদের থেকে ভিন্ন। ব্রিটিশ সোয়ালোদের মত স্প্যানিশ সোয়ালোদের উপর একই মাত্রার নিবিড় কোনো গবেষণা হয়নি এবং আমার মনে হয় এটি সম্ভাব্য যে ভাতৃহত্যা সেখানেও ঘটে কিন্তু বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি।
এখানে ভাতৃহত্যা হাইপোথিসিসের এমন কোনো অসম্ভাব্য ধারণা প্রস্তাব করার জন্যে আমার কারণ হচ্ছে যে, আমি একটি সাধারণ বিষয় সামনে আনতে চাই। সেটি হচ্ছে শিশু কোকিলদের নিষ্ঠুর ব্যবহার হচ্ছে চূড়ান্ত কোনো উদাহরণ যা কোনো পরিবারে অবশ্যই ঘটে থাকে। আপন ভাইরা একে অপরের আরো বেশী জিনগতভাবে ঘনিষ্ঠ, যতটা কোনো কোকিল শিশু তার পোষক পিতামাতার সন্তানদের সাথে ঘনিষ্ঠ। কিন্তু পার্থক্যটি হচ্ছে শুধুমাত্র মাত্রায়। এমনকি যদিও আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা যে ভাতৃহত্যা বিবর্তিত হতে পারে, তবে অবশ্যই প্রকৃতিতে অসংখ্য অপেক্ষাকৃত কম নিষ্ঠুর স্বার্থপরতার উদাহরণ আছে, যেখানে শিশুর পরিশোধিত মূল্য বেশী হয়, তার ভাইবোনদের ক্ষতি রুপে, দ্বিগুণের বেশী, তার নিজের প্রতি লাভের দ্বারা। এই সব ক্ষেত্রে, যেমন বুকের দুধ খাওয়ানো সময়ের উদাহরণে, আসলেই একটি সত্যিকারের স্বার্থের সংঘর্ষ আছে পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে।
কে তাহলে সবচেয়ে সম্ভাব্য বিজয়ী এই প্রজন্ম যুদ্ধে? আর. ডি. আলেকজান্ডার একটি চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেখানে তিনি প্রস্তাব করেন, এই প্রশ্নটির একটি সাধারণ উত্তর আছে। তার মতানুযায়ী পিতামাতাই সবসময় বিজয়ী হয় (২)। এখন যদি এটাই ঘটে থাকে, তাহলে আপনি এই অধ্যায়টি পড়ে আপনার সময় নষ্ট করছেন। যদি আলেকজান্ডার সঠিক হন, কৌতূহলোদ্দীপক সব বিষয়গুলোর মুখোমুখি আমরা হবে। যেমন, পরার্থবাদী আচরণ বিবর্তিত হতে পারে, সেই একক সদস্যের জিনদের সুবিধা হবে সেই কারণে না বরং পুরোপুরি এর কারণ তার পিতামাতার জিনদের স্বার্থে। পিতামাতার নানা কৌশল বা আর, ডি, আলেকজান্ডারের ভাষায় ‘প্যারেন্টাল ম্যানিপুলেশন’, পরার্থবাদী আচরণের বিকল্প বিবর্তনীয় একটি কারণে পরিণত হয়, যা স্পষ্টভাবে কিন সিলেকশন থেকে স্বতন্ত্র। সেকারণেই আমরা আলেকজান্ডারের যুক্তিটি পরীক্ষা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বাসের সাথে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা বুঝতে পেরেছি, তিনি কেন ভুল। এটা আসলেই করা সম্ভব গাণিতিকভাবে, কিন্তু আমরা সুস্পষ্টভাবে কোনো গাণিতিক ব্যাখ্যা এড়িয়ে চলছি এই বইয়ে। তবে যে আলেকজান্ডারের মূল প্রস্তাবনায় ভুলটা আসলে কোথায় সেটি বোঝানোর জন্য একটি সহজাত ধারণা দেয়া সম্ভব।
তার মৌলিক জিন নির্ভর যুক্তিটি নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতির মধ্যে আমরা দেখতে পাবো: ‘ধরুন কোনো একটি অল্পবয়স্ক প্রাণী ..তার নিজের সুবিধার স্বার্থে পিতামাতার বিতরণ করা সম্পদের অসম বন্টনের কারণ হয় এবং এভাবে মায়ের সার্বিক প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস। করে। একটি জিন যে এই নিয়মে কোনো একক সদস্যর ফিটনেসের উন্নতি করে যখন কিনা সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, সেটি আরো বেশী ফিটনেস কমাতে ব্যর্থ হতে পারে না যখন কিনা সে প্রাপ্ত বয়স্ক, কারণ এমন কোনো পরিবর্তিত জিন কোনো মিউট্যান্ট সদস্যের সন্তানদের মধ্যে অনেক বেশী হারে উপস্থিত থাকবে। যে বিষয়টি আলেকজান্ডার এখানে তার বিবেচনায় এনেছেন তাহলে একটি নতুন মিউটেশন হওয়া জিন এই যুক্তির জন্য আবশ্যিক কোনো মৌলিক বিষয় না। বরং আরো ভালো হয় কোন দূর্লভ জিনের কথা ভাবলে, যা সে পিতামাতার কোনো একজনের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। ‘ফিটনেস’ এর একটি বিশেষ কারিগরী অর্থ আছে প্রজনন সাফল্যের ব্যপারে। আলেকজান্ডার মূলত যা বলছেন সেটি হোলো, কোনো একটি জিন যা কোনো শিশুকে তার নায্য ভাগের চেয়ে বেশী পরিমান দখল করতে সাহায্য করেছে যখন সে শিশু ছিল, তার পিতামাতার মোট প্রজনন সাফল্য কমে যাওয়ার মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে, আসলেই হয়তো সে তার টিকে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়াবে। কিন্তু সে যখন নিজেই পিতামাতা হবে তাকেও এই একই শাস্তি পেতে হবে, কারণ তার নিজের শিশুরও সেই একই স্বার্থপর জিনটিকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাবার সম্ভাবনা থাকবে এবং সেটি তার নিজেরই প্রজনন সাফল্য হ্রাস করবে। সেই প্রাণীটি নিজের অস্ত্রে নিজেই ঘায়েল হয়। সুতরাং জিনটি সফল হতে পারবে না এবং পিতামাতাই সবসময় জিতবে এই দ্বন্দ্বে।
আমাদের মনে এই যুক্তিটির তাৎক্ষণিকভাবেই সন্দেহ উদ্রেক করা উচিৎ, কারণ এটির মূল ভিত্তি হচ্ছে জিনগত অসাম্যতার ধারণাটি, যা আসলেই সেখানে অনুপস্থিত। আলেকজান্ডার ‘পিতামাতা/প্যারেন্ট’ আর ‘সন্তান বা অফস্প্রিঙ’ শব্দগুলো ব্যবহার করছেন যেন তাদের মধ্যে মৌলিকভাবে কোনো জিনগত পার্থক্য আছে। যেমন আমরা দেখেছি, যদি পিতামাতা আর সন্তানের মধ্যে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কিছু না কিছু পার্থক্য আছে, যেমন পিতামাতারা তাদের সন্তানের চেয়ে বয়সে বড় এবং সন্তানের জন্ম হয় পিতামাতা শরীর থেকেই, কিন্তু সেখানে আসলেই কোনো মৌলিক ‘জিনগত অসাম্যতা নেই। তাদের সম্পর্কের মাত্রা ৫০ শতাংশ, যেদিক থেকেই আপনি দেখুন না কেন। আমি যা বলতে চাইছি সেটির উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর জন্য আমি আবারো আলেকজান্ডারে পুনরাবৃত্তি করবো, কিন্তু ‘পিতামাতা’, ‘তরুণ সন্তান এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শব্দ প্রতিবর্তন করে। ধরুন যে কোনো ‘পিতামাতার একটি জিন আছে, যে জিনটি পিতামাতার উপকারিতা ‘সমানভাবে তাদের সন্তানদের মধ্যে যেন বন্টন হয় সেটি নিশ্চিৎ করে। কোনো জিন যা এইভাবে একটি একক সদস্যর ফিটনেসের উন্নতি করে যখন এটি ‘পিতামাতা’ এবং এটি তার ফিটনেসকে হ্রাস করতে পারেনা যখন কিনা সে অল্পবয়সী ‘সন্তান। সুতরাং আমরা আলেকজান্ডার এর বিপরীত কোনো উপসংহারে পৌঁছাই, সেটি হচ্ছে যে কোন পিতামাতা/সন্তান দ্বন্দ্বে সন্তানরা অবশ্য জয় লাভ করে।
