আরো বিশ্বাসযোগ্যভাবে, এই ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল হয়তো কোনো শিশু কোকিলের স্বার্থ রক্ষা করে। সুপরিচিত একটি বিষয় হচ্ছে স্ত্রী কোকিলরা একটা করে ডিম পাড়ে তাদের বেশ কয়েকটি ‘পোষক’ পাখির নীড়ে এবং তারপর সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির পোষক পাখি পিতামাতাদের উপর তাদের অজান্তেই শিশু কোকিলকে প্রতিপালন করার দ্বায়িত্ব দিয়ে যায়। সুতরাং কোনো একটি শিশু কোকিলের জিনগত কোনো দায়ভার থাকে না তার পোষক ভাইবোনদের সাথে কিছু কোকিল প্রজাতির শিশু তো কোনো পোষক ভাইবোনই রাখে না, আরো অশুভ সেই কারণ নিয়ে আমরা পরে আলোচনা করছি। আপাতত আমি ধরে নিচ্ছি আমরা এমন কোনো প্রজাতির কোকিলের কথা বলছি, যারা পোষক পিতামাতার সন্তানের সাথে বড় হয়); যদি কোনো শিশু কোকিল, শিকারী প্রাণীতে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট জোরে চিৎকার করতে পারে, তার অনেক কিছু হারাবার সম্ভাবনা আছে– তার জীবনটাও যেতে পারে– কিন্তু তার তুলনায় পোষক মার হারাবার আছে আরো বেশী, হয়তো তার চারটি বাচ্চাই মারা যেতে পারে। সুতরাং তার জন্য বরং উপকারী হবে এই চিৎকার করা পাখিটাকে তার নায্য ভাগের চেয়ে বেশী পরিমানে খাওয়ালে এবং কোকিলের জন্য এর সুবিধা হয়তো এর ঝুঁকির চেয়েও বড়।
এটি হচ্ছে সেই উপলক্ষ্যগুলোর অন্যতম যখন সংশ্লিষ্ট জিনের ভাষায় পুনরায় অনূদিত করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, শুধুমাত্র আমাদের অন্তত আশ্বস্ত করার জন্য যে আমাদের ব্যক্তিক ধারণার রুপকগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা মূল সত্যটির খেই হারিয়ে ফেলিনি। শিশু কোকিলরা তাদের পোষক পিতামাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে চিৎকার করে, “শিকারী পাখি, শিখারী পাখি আসো আমাকে আর আমার সব ছোট ভাইবোনদের খেয়ে ফেলো’ এমন কোনো হাইপোথিসিস দাঁড় করানোর আসল অর্থ কি? জিনগত ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে একরম:
উচ্চস্বরে চিৎকার করার জন্য কোকিলের জিনটি কোকিলদের জিন পুলে সংখ্যায় বাড়ে কারণ তাদের উচ্চস্বরে চিৎকার সেই সম্ভাবনাটিকে বাড়িয়ে দেয় যে তার পোষক পিতামাতা চিৎকার করা শিশু কোকিলদের আগে খাওয়া দেবে। এবং পোষক পিতামাতা এইভাবে চিৎকারের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া দেখায় তার কারণ সেই জিনটি পোষক প্রজাতির জিনপুলে বিস্তার লাভ করে। আর এই জিনটি পোষক পাখিদের প্রজাতির জিনপুলে বিস্তারের কারণ হচ্ছে যে, পোষক প্রজাতির পিতামাতারা যারা কোকিলদের বাড়তি খাদ্য দেয়নি, তারা সংখ্যায় কম নিজেদের সন্তানদের প্রতিপালন করতে পেরেছে– তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রজাতিদের তুলনায় কম, যারা কোকিলের শিশুকে বাড়তি খাওয়া দিয়েছে। এর কারণ শিকারী প্রাণীরা পাখির নীড়ের প্রতি আকর্ষিত হয় কোকিল শিশু চিৎকারের কারণে। যদিও চিৎকার না করার জন্য কোকিলের জিনের কম সম্ভাবনা থাকে চিৎকারের জন্য জিনের তুলনায় শিকারী প্রাণীর খাদ্য হবার, চিৎকার না করা কোকিল শিশু আরো আরো বড় শাস্তি পায় বাড়তি খাদ্য না পাওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং চিৎকার করা জিন কোকিলের জিনপুলে বিস্তার লাভ করে।
একই ধরনের জিনগত যৌক্তিকতার শৃঙ্খল, যা উপরে উল্লেখিত অপেক্ষাকৃত বেশী আত্মগত যুক্তিকে অনুসরণ করলে আমাদের দেখাবে যে, যদি এমন কোনো ব্ল্যাকমেইল করা জিন কল্পনা করা যেতে পারে, যা কোকিলের জিন পুলে বিস্তার লাভ করে ঠিকই, তবে কোনো এটি সাধারণ প্রজাতির মধ্যে বিস্তার লাভ করার সম্ভাবনা খুব কম। অন্ততপক্ষে সেই বিশেষ কারণে না– শিকারী প্রাণীকে আকর্ষণ করা। অবশ্যই, কোনো সাধারণ প্রজাতিদের মধ্যে এই চিৎকার করার জিনটি বিস্তার লাভ করার আরো অন্য কারণ থাকতে পারে, যেমন আমরা দেখেছিলাম এবং এর একটি সংশ্লিষ্ট ‘ঘটনাক্রমে’ প্রভাব থাকবে মাঝে মাঝে শিকারী প্রাণীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করায়। কিন্তু এখানে শিকারী প্রাণী আক্রমনের স্বীকার হবার নির্বাচনী প্রভাবটি হবে, যদি কিছু হয়ে থাকে, সেই কান্নাটি তীব্রতা কমানোর দিকে। কোকিলদের এই হাইপোথেটিকাল কেসে, শিকারী প্রাণীদের মূল প্রভাব হতে পারে, যদিও ধাঁধার মত শোনাবে প্রথমে, এই চিৎকারটির তীব্রতা আরো বৃদ্ধি করা।
কোনো প্রমাণ নেই, যেকোনো দিক বরাবর, আসলেই কি কোকিলরা বা অন্যান্য পাখিরা যারা একই ধরনের ব্রুড় প্যরাসাইট বা প্রজনন পরজীবি আচরণ প্রদর্শন করে, আসলেই এমন কোনো ব্ল্যাকমেইলের কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু অবশ্যই তাদের আচরণে নিষ্ঠুরতার কোনো ঘাটতি নেই। যেমন, হানিগাইড পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোকিলদেও মতই তারা তাদের ডিম পাড়ে প্রজাতির পাখির নীড়ে। শিশু হানিগাইড পাখিদের ধারালো আর বাঁকানো ঠোঁট থাকে, যে মুহর্তে সে ডিম থেকে বের হয়ে আসে, যদিও তখন সে চোখে কিছু দেখে না, গায়ে কোন পালকও নেই, অন্যথায় অসহায়, ঠিকই সে তার ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে তার পোষক বাবা মার সন্তানদের মেরে ফেলে: মত ভাইবোনরা খাদ্য নিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেনা। পরিচিত ব্রিটিশ কোকিলও সেই একই কাজটি করে একটু অন্যভাবে; যেহেতু তাদের তা দেবার পর ডিম ফুটে বের হয়ে আসার সময় কিছুটা দ্রুত, শিশু কোকিল তাই আগেই ডিম ফুটে বের হয়ে আসতে পারে তার পোষক পিতামাতার সন্তানদের তুলনায়। যেই মুহূর্তে এটি ডিম ফুটে বের হয়ে আসে, অন্ধের মত, যান্ত্রিকভাবে, কিন্তু মারাত্মক বিধ্বংসী দক্ষতায়, এটি অন্য ডিমগুলোকে নীড় থেকে বের করে ফেলে দেয়। কোনো একটি ডিমের নিচে এটি ঢুকে ডিমটিকে সে তার পিঠের ভবিষ্যতের ডানা হবার সেই খানিকটা উঁচু হবার জায়গায় ধরে ভারসাম্য রক্ষা করে বহন করে নিয়ে যায় নীড়ের একেবারে কিনারায়, তারপর নীড়ের বাইরে সে ডিমটিকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। একইভাবে সে প্রতিটি ডিমের সাথে একই কাজ করে, যতক্ষণ না সেই নীড়টিকে সে তার নিজের দখলে না নেয়, এভাবে তার পালক পিতামাতা পূর্ণ মনোযোগ সে দখল করে নেয়।
