আমি বিষয়টি উল্লেখ করিনি যখন আমরা ল্যাক-এর ক্লাচ সাইজের তত্ত্বটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, কিন্তু পিতামাতার জন্য নিম্নে বর্ণিত কৌশলটি যুক্তিসঙ্গত একটি কৌশল হতে পারে, যারা কিনা এখনও মনস্থির করতে পারেনি সেই সাম্প্রতিক বছরে তার জন্য সবচেয়ে অনুকূল ক্লাচ সাইজ কি হতে পারে। তার জন্য যেটি সত্যিকারভাবে সবচেয়ে অনুকূল সংখ্যা হতে পারে বলে সে ‘ভাবছে’, তারচেয়ে সে হয়তো আরো একটি বাড়তি ডিম পাড়তে পারে। তারপর যদি বছরের খাদ্যের পরিমান যা আশা করা হয়েছে। তার চেয়ে ভালো হয়, তাহলে সে আরো একটা বাড়তি শিশু প্রতিপালন করতে পারবে। যদি সেটি না হয় তাহলে সে তার ক্ষতির পরিমান হ্রাস করতে পারবে। তার সন্তানদের খাওয়ানোর সময় সবসময় সতর্কভাবে একই ক্রম অবলম্বন করে, যেমন ধরুন শরীরের আকার অনুযায়ী তার বাচ্চাদের খাওয়ানো মাধ্যমে, যেন সে লক্ষ্য রাখে একটি, হয়তো একটি রান্ট, যেন দ্রুত মারা যায়, এবং খুব বেশী খাদ্য যেন তার জন্য অপচয় করা না হয়, তাদের ডিমের কুসুম অথবা সমতুল্য প্রাথমিক বিনিয়োগের অতিরিক্ত কিছু না। মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এটি হয়তো রান্ট প্রপঞ্চটির একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। সে তার মায়ের খেলা বাজিটার হেজিং বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করে। বিষয়টি বহু প্রজাতির পাখিদের মধ্যে দেখা যায়।
প্রতিটি একক প্রাণীকে সারভাইভাল মেশিন হিসাবে ভাবার রুপকটি যদি ব্যবহার করি, যেখানে সারভাইভাল মেশিনগুলো এমনভাবে আচরণ করে যেন জিনদের সুরক্ষা করতে এর একটি উদ্দেশ্য আছে; আমরা পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলতে পারি, প্রজন্মদের মধ্যে কোনো একটি দ্বন্দ্ব। এই যুদ্ধটা সুক্ষ। ধরনের, এবং কোনো ধরনের প্রচলিত নিয়ম দ্বারা এটি আবদ্ধ নয় কোনো দিকেই। প্রতারণা করার জন্য একটি শিশু কোনো সুযোগই নষ্ট করবে না। সে যতটা না তারচেয়ে বেশী সে নিজেকে ক্ষুধার্ত হিসাবে ভান করবে, হয়তো যতটা না তারচেয়েও বেশী ছোট, কিংবা যতটা আসলেই না তারচেয়ে বেশী বিপদগ্রস্থ হিসাবে সে ভান করবে। পিতামাতাকে দিয়ে কোনো কিছু জোর করে করানো বা শারীরিকভাবে চাপ দেবার জন্য এটি অনেক ছোট আর দুর্বল, কিন্তু তার আয়ত্ত্বে আছে এমন সব মনোজাগতিক অস্ত্র সে ব্যবহার করবে; মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা, ঠিক সেই পর্যায় অবধি, যতক্ষণ পর্যন্ত জিনগত সম্পর্ক যতটুকু অনুমতি দেয় তার চেয়ে বেশী যখন তার আত্মীয়দের শাস্তি দেয়া শুরু করে। আবার অন্যদিকে পিতামাতাকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে প্রতারণা আর। ছলনাগুলোর ব্যাপারে এবং অবশ্যই তারা চেষ্টা করবে যেন সেগুলো তাদের বোকা বানাতে না পারে। মনে হতে পারে কাজটি খুব সহজ। যদি পিতামাতা জানে যে সে আসলে কতটা ক্ষুধার্ত সে বিষয়ে তার সন্তানের মিথ্যা বলার সম্ভাবনা আছে, সে হয়তো এমন কোনো কৌশল প্রয়োগ করতে পারে, যে একটি নির্দিষ্ট পরিমানই খাওয়াবে তার বেশী নয়, এমনকি যদিও শিশুটি চিৎকার অব্যহত থাকে। এর একটি সমস্যা হচ্ছে যে শিশুটি হয়তো মিথ্যা কিছু বলছে না, এবং যদি সে মারা যায় না খেতে পাবার কারণে তাহলে বাবা মা তাদের কিছু মূল্যবান জিন হারাবে। বুনো পাখিরা মারা যেতে পারে মাত্র কয়েক ঘন্টা না খেয়ে থাকলে।
এ. জাহাভী সুনির্দিষ্টভাবে নিষ্ঠুর শিশুদের ব্ল্যাকমেইল ধারণাটির একটি প্রস্তাব করেছিলেন: শিশুরা এমনভাবে চিৎকার করে যেন, এটি তাদের নীড়ের দিকে ইচ্ছা করেই শিকারী প্রাণীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শিশুটি যেন বলছে’, ‘শিয়াল, শিয়াল, আসো, আমাকে শিকার করো। আর একটি মাত্র যে উপায়ে পিতামাতা তাকে চুপ করাতে পারে তাহলে একে খাওয়ানো। সুতরাং শিশু তার নায্যভাবে যতটুকু খাদ্য পাবার কথা ছিল তার চেয়ে বেশী পায়, তবে নিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তাকে বাড়তি খাদ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। এই নিষ্ঠুর কৌশলের নীতি একই রকম সেই হাইজাকারের মত, যে কিনা কোনো উড়োজাহাজ উড়িয়ে দেবার জন্য হুমকি দিচ্ছে
তার নিজেকে সহ, যদি না তাকে মুক্তিপন দেয়া না হয়। আমি সন্দিহান এটি আদৌ কখনো বিবর্তনের সুবিধা পেতে পারে কিনা, শুধু এই কারণ না যে তারা খুবই নিষ্ঠুর বরং আমার সন্দেহ ব্ল্যাকমেইল করা শিশুর কি আসলেই কোনো উপকার হয় কিনা। কারণ তার হারাবার বহু কিছু আছে যদি আসলেই কোনো শিকারী প্রাণী আক্রমণ করে। বিষয়টি স্পষ্ট যখন একটি মাত্র শিশু থাকে, যে বিষয়টি নিয়ে জাহাভী নিজে গবেষণা করেছেন। তার মা তার জন্য ইতিমধ্যে যত কিছু বিনিয়োগ করুক না কেন, তার নিজের জীবনের মূল্য তারপরও তার বেশী দেয়া উচিৎ, তার মা যতটা মূল্য দেয় তার চেয়ে বেশী, কারণ তার মা শুধু তার অর্ধেক পরিমান জিন বহন করে। উপরন্তু, এই কৌশলটি কোনো সুফল দেবে না এমনকি যদি ব্ল্যাকমেইলার পাখিটি সেই ক্লাচের সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ শিশু হয়ে থাকে, তারা সবাই একই নীড়ের বাসিন্দা, যেহেতু ব্ল্যাকমেইলারের ৫০ শতাংশ জিন স্বার্থ আছে তার প্রতিটি হুমকির মুখে থাকা ভাই বোনদের উপর, এছাড়া ১০০ শতাংশ জিন স্বার্থ আছে তার নিজের উপর। আমি মনে করি হয়তো ভাবা যেতে পারে যে এই তত্ত্বটি কাজ করে যদি মূল শিকারী প্রাণীর এমন কোনো প্রবণতা থাকে যে পাখির নীড়ের সবচেয়ে বড় বাচ্চাটিকে প্রথমে সে ধরে নিয়ে যায়। তাহলে হয়তো আকারে ছোট শিশুদের জন্য লাভজনক হবে কোন শিকারী প্রাণীকে ডাকাটি হুমকি হিসাবে ব্যবহার করার জন্য, কারণ এটি তাকে অতিরিক্ত বেশী কোন ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে না। এটি তুলনা করা যেতে পারে, নিজেকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার হুমকি দেবার বদলে আপনার ভাই এর মাথায় পিস্তল ঠেকানোর মত।
