মা ও শিশুর মধ্যে মতানৈক্য অবশ্যই চূড়ান্ত কোনো বিষয় নয়, বরং বিষয়টি সংখ্যাবাচক, এই ক্ষেত্রে এই অমিলটা হচ্ছে সময় সংক্রান্ত। মা চায় তার বর্তমান সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে সেই মুহূর্ত অবধি যখন তার প্রতি বিনিয়োগ ‘নায্যভাবে তার যতটুকু প্রাপ্য তার সমান হয়, তবে এখানে সেই বিষয়গুলো কথা মনে রাখতে হবে, এটিকে প্রভাবিত করে তার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল এবং ইতিমধ্যে মা তার জন্য কতটুকু বিনিয়োগ করে ফেলেছে। এই অবধি আর কোনো ধরনের মতানৈক্য নেই, একইভাবে মা ও শিশু উভয়ে একমত যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর শিশুটি যেন আর বুকের দুধ পান করা অব্যাহত না রাখে, যখন ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য এর পরিশোধিত মূল্য, তার যা উপকার হবে, সেটির দ্বিগুণ হবে। কিন্তু মা এবং সন্তানের মধ্যে মতানৈক্য ঘটে এই অন্তবর্তীকালীন পর্বে, সেই পর্বটি, যখন শিশুটি তার নায্যভাবে যতটুকু প্রাপ্য তার চেয়ে বেশী পাচ্ছে বলে মায়ের কাছে অনুভূত হয়, কিন্তু তার সেই সন্তানটির যতটুকু উপকৃত হয় সেই পরিমানটি অন্য শিশুদের পরিশোধিত মুল্যের দ্বিগুণ অপেক্ষা তখনও কম থাকে।
দুধ ছাড়ানোর সময়টা শুধু একটি উদাহরণ মাত্র, যা মা আর সন্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বটির প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু এছাড়াও এটিকে কোনো একক সদস্যের সাথে তার ভবিষ্যত এখনও জন্ম হয়নি সব ভাই। বোনদের একটি দ্বন্দ্ব হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মা তার ভবিষ্যৎ অনাগত সন্তানের ভূমিকা নেয়। মায়ের বিনিয়োগের জন্য সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আরো সরাসরিভাবে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, যেমন কোনো লিটার বা নীড়ের সদস্যদের মধ্যে। এখানে আরো একবার, মা সাধারণত উৎকণ্ঠিত থাকবে সম্পদের সুবন্টনে।
বহু শিশু পাখি তাদের পিতামাতার সাহায্যে নীড়ে বসেই খাদ্য পায়। তারা সবাই মুখ হা করে খাবারের জন্য চিৎকার করে এবং তাদের পিতামাতা কোনো কেঁচো বা অন্য কোনো টুকরো খাবার তাদের কোনো একজনের খোলা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়; যে তীব্রতা আর উচ্চকণ্ঠের সাথে প্রতিটি শিশু চিৎকার করে, আদর্শ পরিস্থিতিতে, সেটি নির্ভর করে কে কতটা ক্ষুধার্ত তার উপর, সেকারণে, যদি পাখি পিতামাতা সবসময় যে সবচেয়ে বেশী চিৎকার করে তাকে যদি প্রথমেই খাবার দেয়, তাহলে সবারই তাদের নায্য ভাগ পাওয়ার কথা, কারণ, যখন কোনো শিশু পাখি তার জন্য যথেষ্ট পরিমান খাওয়া পায় সে আর ততটা জোরে চিৎকার করেনা। অন্ততপক্ষে কোনো আদর্শ পরিস্থিতিতে এটাই হবার কথা, যদি কোনো সদস্য প্রতারণার আশ্রয় না নেয়। কিন্তু স্বার্থপর জিনের আলোকে আমদের অবশ্যই প্রত্যাশা করতে হবে যে একক সদস্যরা প্রতারণা করবে’ এবং তারা আসলেই কতটুকু ক্ষুধার্ত সে বিষয়ে তারা মিথ্যা বলবে। এটি ক্রমশ বাড়তে থাকবে, আপাতদৃষ্টিতে বরং মনে হবে উদ্দেশ্যহীনভাবে, কারণ হয়তো মনে হতে পারে যে তারা যদি সবাই উচ্চস্বরে চিৎকার করার মাধ্যমে মিথ্যা ভান করছে, তাহলে উচ্চস্বরে চিৎকার করার এই পর্যায়টি সাধারণ একটি নিয়মে পরিণত হবে এবং আসলেই এর মূল প্রভাবে এটি একটি মিথ্যা হওয়া থেকে বিরত হবে। তবে, এর তীব্রতায় এটি কখনো হ্রাস পাবে না, কারণ কোনো একটি সদস্য যে প্রথম পদক্ষেপটি নেবে বাকী সবার থেকে তার চিৎকারের তীব্রতা কমাতে, সে শাস্তি পাবে কম খাদ্য পাওয়ার মাধ্যমে এবং তার না খেয়ে মারা যাবার সম্ভাবনাও বেশী হবে। শিশু পাখিদের চিৎকারগুলা কখনো অনির্দিষ্টভাবে উচ্চস্বরের হয়না কারণ সেখানে অন্য বিষয়গুলো বিবেচনায় আসে। যেমন, উচ্চ কণ্ঠে চিৎকার, একই সাথে শিকারী প্রাণীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কাজটি করার জন্য তাদের শক্তিরও ক্ষয় হয়।
কখনো কখনো, যেমন আমরা দেখেছি, কোনো এক গুচ্ছ বাচ্চার। মধ্যে একজন থাকে, যাকে বলা হয় “রান্ট’ বা যে সবচেয়ে দুর্বল এবং আকার-আকৃতিতে সবার চেয়ে ছোট। বাকীদের মত সে শক্তির সাথে খাওয়া পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করতে পারে না, এবং রান্টরা সাধারণত প্রায়শই মারা যায়। আমরা সেই পরিস্থিতিগুলো বিবেচনা করেছি যখন তার দূর্বল শিশুটিকে মরার সুযোগ দিলে মায়ের জন্য আসলেই লাভজনক হবে। আমরা হয়তো সহজাতভাবেই মনে করবো যে, রান্টরা নিজেই তাদের সংগ্রাম অব্যহত রাখবে শেষ অবধি কিন্তু তত্ত্ব আবশ্যিকভাবে তেমন কিছু ঘটার পূর্বধারণা করেনা। যখনই রান্টরা খুব ক্ষুদ্র আর দূর্বল হয়ে পড়ে, তাদের প্রত্যাশিত জীবনকাল এমন একটি পর্যায়ে নেমে আসে যে, পিতামাতার বিনিয়োগের ফলে তার উপকৃত হবার পরিমান, সেই একই পরিমান বিনিয়োগ তাদের অন্যান্য শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করলে যে পরিমান উপকৃত হবার সম্ভাবনা আছে তার অর্ধেকেরও কম হয়। এবং রান্টদের মরে যাওয়া উচিৎ স্বেচ্ছায় ও মার্জিতভাবে। এবং এটা করার মাধ্যমে তাদের জিনকে তারা সবচেয়ে বেশী সাহায্য করতে পারে। এর মানে হচ্ছে বলা, কোন একটি জিন যা নির্দেশ দেয়, শরীর, তুমি যদি খুব বেশী ছোট হও, তোমার অন্যান্য ভাইবোন বা লিটারমেটদের তুলনায়, বেঁচে থাকার সংগ্রাম পরিত্যাগ করো এবং মারা যাও’– জিনপুলে সেই জিন সফল হতে পারে, কারণ জিনটির প্রায় ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে তার বেঁচে যাওয়া প্রতিটি ভাইবোনের শরীরে থাকার। এবং কোনো রান্টের শরীরে তার বাঁচার সম্ভাবনা এমনিতেই কম। এমন একটা মুহূর্ত থাকা উচিৎ কোন একটি রাষ্টের জীবনে, সেই মুহূর্তে পৌঁছাবার আগে তার উচিৎ হবে সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। এবং যখনই সেই মুহূর্তে সে পৌঁছাবে তার উচিৎ হবে হাল ছেড়ে দেয়া এবং আরো কাঙ্খিত হবে তার ভাইবোন কিংবা তার পিতামাতাকে তাকেই খাদ্য হিসাবে গ্রহন করার সুযোগ দেয়া।
