এবার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট একটি শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখুন। সে ঠিক ততটাই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত তার প্রতিটি ভাইবোনের সাথে, ঠিক যতটা তার মা সম্পর্কযুক্ত তাদের সবার সাথে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই আত্মীয়তা ১/২। সেকারণে সে ‘চায়’ তার মা, তার সম্পদের কিছু অংশ তার ভাই ও বোনদের প্রতি বিনিয়োগ করুক। জিনগত ভাষায় যদি বলা হয়, ঠিক তার মায়ের মতই সেও তার ভাইবোনদের প্রতি পরার্থবাদী আচরণ করার জন্য পূর্ব নির্দেশিত। কিন্তু আবারো, নিজের সাথে তার আত্মীয়তার পরিমাপ, তার অন্য যে কোনো ভাইবোনদের সাথে তার আত্মীয়তার পরিমাপের দ্বিগুণ। এবং যদি আর সবকিছু সমান থাকে, এটাই তাকে সেটা চাইতে প্ররোচিত করে যে, তার অন্য যে কোনো ভাইবোনের তুলনায় তার মা তার জন্য বেশী বিনিয়োগ করুক। এই ক্ষেত্রে অন্য সব কিছু হয়তো আসলেই একই থাকে। যদি আপনি ও আপনার ভাই একই বয়সের হয়ে থাকেন এবং মায়ের এক পাইন্ট দুধ থেকে সমানভাবে উপকৃত হবার জন্য আপনারা দুজনেই যদি একই অবস্থানে থাকেন, আপনার উচিৎ হবে আপনার নায্যভাবে প্রাপ্য ভাগ থেকে আরে বেশী কিছু কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা এবং একই ভাবে আপনার ভাইয়েরও ‘উচিৎ’ সেই একই চেষ্টা করা, অর্থাৎ তার নায্যভাবে প্রাপ্ত ভাগের বেশী আদায় করার চেষ্টা করা। আপনি কি কোনোদিন একদল শূকর ছানার চিৎকার শুনেছেন, মা শূকর যখন তাদের দুধ খাওয়ানোর জন্য শোয়, সেই দৃশ্যে প্রথম উপস্থিত হবার দাবী আদায় করার জন্য? আর ছোট বাচ্চা ছেলেদের কেকের শেষ টুকরোটির জন্য মারামারি করতে? মনে হতে পারে শিশুর বেশীরভাগ আচরণকেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করছে স্বার্থপর লোভ।
কিন্তু এছাড়াও আরো কিছু বিষয় আছে। আমি যদি আমার ভাইয়ের সাথে এক টুকরো খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করি এবং যদি সে আমার চেয়ে বয়সে অনেক বেশী কম হয়, যে খাদ্যটি পেলে আমার চেয়ে তার বেশী উপকৃত হবার সম্ভাবনা থাকে, আমার জিনের জন্য লাভবান হবে যদি আমি তাকে সেই টুকরোটা খেতে দেই। পিতামাতার যে কারণ থাকে, কোনো একটি বড় ভাইয়ের সেই একই কারণ থাকে তাদের আচরণে পরার্থবাদীতা প্রদর্শন করার জন্য: উভয় ক্ষেত্রে যেমন আমরা দেখেছি, আত্মীয়তার সম্পর্কের পরিমাপ হচ্ছে ১/২, এবং উভয় ক্ষেত্রেই কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের তুলনায় অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্যরা সম্পদের ভালো ব্যবহার করতে পারে। আমি যদি খাদ্যের উপর অধিকার ছেড়ে দেবার জন্য এমন কোনো জিন বহন করি, তাহলে ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে আমরা শিশু ভাইটিও সেই একই জিনটি বহন করছে। যদিও জিনটির দ্বিগুণ সম্ভাবনা আছে আমার শরীরে থাকার– ১০০ শতাংশ, এটি আমার শরীরের মধ্যে– খাদ্যের প্রতি আমার চাহিদা হয়তো জরুরীর থেকে অর্ধেকেরও কম। সাধারণভাবে, কোনো শিশুর ‘উচিৎ নায্যভাবে পিতামাতার বিনিয়োগের যতটুকু পাবার কথা তার সেই ভাগ থেকে আরো বেশী আদায় করার চেষ্টা করা, কিন্তু সেটি একটি নির্দিষ্ট সীমা অবধি। কিন্তু ঠিক কতটুকু অবধি? সে পর্যন্ত, যেখানে তার ভাই এবং বোনদের– যাদের জন্ম হয়েছে এবং যাদের জন্ম হবার সম্ভাবনা আছে– মূল্য পরিশোধ করতে হবে, যদি সেটি সে নিজে কেড়ে নেয় সেখান থেকে যে লাভ হতো, তার দ্বিগুণ।
সেই প্রশ্নটি বিবেচনা করুন– ঠিক কখন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিৎ, একটি মা তার বর্তমান শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে চাইছে, যেন সে এর পরের সন্তানটির জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অন্যদিকে, বর্তমান সেই শিশুটি চায় না মায়ের বুকের দুধ খাওয়া থেকে নিজেকে এখনও বঞ্চিত করতে, কারণ দুধ হচ্ছে সুবিধাজনক, কোন ঝামেলাহীন একটি খাদ্য উৎস এবং এখনও সে বাইরে গিয়ে তার নিজের জীবনধারণের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে চাইছে না। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে, একসময় সে বাইরে বের হয়ে জীবন ধারণের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে চাইবে, কিন্তু শুধুমাত্র তখনই, যখন প্রতিপালন পাবার উদ্দেশ্যে নিজের জন্য মাকে আগলে। রাখার চেয়ে তার ছোট ভাইবোনদের প্রতিপালন করার জন্য মাকে মুক্ত করার মাধ্যমে সে তার জিনের জন্য বরং বেশী উপকার করবে। যতই একটি শিশু বয়সে বড় হয় সে অপেক্ষাকৃত কম উপকার আদায় করতে পারে প্রতি পাইন্ট মায়ের দুধ থেকে। এর কারণ সে এখন আকারে বড়, আর সেকারণে তার চাহিদা অনুযায়ী এক পাইন্ট দুধ খুব বেশী পরিমাণ কিছু না, আর এছাড়াও সে ক্রমান্বয়ে তার নিজের জন্য খাদ্য যোগাড় করার উপযুক্ত হয়ে ওঠে যদি সেটি করতে তাকে বাধ্য করা হয়। সে কারণে যখন অপেক্ষাকৃত বয়সে বড় কোনো শিশু এক পাইন্ট দুধ পান করে, যা কিনা কম বয়সী শিশুর জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারতো, সে তখন পিতামাতার বিনিয়োগে নায্যভাবে প্রাপ্ত তার অংশের চেয়ে অপেক্ষাকৃতভাবে বেশী পরিমানে গ্রহন করছে তার নিজের জন্য, অপেক্ষাকৃতভাবে বয়সে কম শিশুটি যখন এক পাইন্ট দুধ পান করে তার তুলনায়। এবং যখন শিশুটি বড় হয়, বয়সে এমন কোনো মুহূর্ত আছে যখন তার মায়ের জন্য লাভ বেশী হয় যদি তার মা তাকে খাওয়ানো বন্ধ করে এবং তার বদলে সেটি বিনিয়োগ করে নতুন কোনো শিশুর জন্য। এবং আরো কিছুটা পরে এমন একটি সময় আসবে যখন বয়সে বড় শিশুটি তার নিজের জিনকে উপকার করবে সবচেয়ে বেশী যদি সে নিজেকে মায়ের দুধের খাওয়া থেকে সরিয়ে আনতে পারে। এটাই সেই মূহুর্ত যখন তার নিজের শরীরে জিনগুলোর জন্য এক পাইন্ট দুধ যতটা উপকার করবে, তার চেয়ে বেশী উপকার করবে তার জিনের অনুলিপিদের, যেগুলো হয়তো তার ভাইবোনের মধ্যে আছে।
