বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলে মনে হতে পারে স্বার্থপর জিনতত্ত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য এটি একটি অদ্ভুত উদাহরণ। কেন তাহলে এই গোত্রচ্যুত পরাজিত গ্রাউসরা টেরিটোরি দখলের জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে না, যেন তারা কোনো টেরিটোরির মালিককে পরাজিত করতে পারে কোনো না কোনো এক সময়, তাদের শরীরের শক্তির শেষ বিন্দুটি থাকা অবধি কেন তারা সংগ্রাম করেনা? মনে হতে পারে তাদের তো কিছুই হারাবার নেই। আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি যখন কোনো টেরিটোরির মালিক হঠাৎ করে মারা যায়, একটি গোত্রচ্যুত পরাজিত পাখি সুযোগ পায় তার জায়গাটি দখল করার, সুতরাং সে সুযোগ পায় প্রজনন করার। যদি কোনো গোত্রচ্যুত পরাজিত পাখির এভাবে কোনো টেরিটোরি দখল করার সম্ভাবনা, যুদ্ধ করে কোনো টেরিটোরি দখল করার সম্ভাবনা থেকে বেশী হয়, তাহলে কাজটি করলে সে হয়তো সুফল পাবে, কোনো স্বার্থপর সদস্য হিসাবে, অপেক্ষায় থাকা, যদি কেউ মারা যায়, বরং ব্যর্থ নিষ্ফল যুদ্ধে তার অবশিষ্ট শক্তি ক্ষয় না করে। ওয়েইন-এডওয়ার্ডস এর জন্য, এই গোত্রচ্যুত পরাজিতদের ভূমিকা হচ্ছে গ্রুপের কল্যাণের জন্য অপেক্ষা করা, অনেকটা মঞ্চের উইং এ দাঁড়ানো মূল অভিনেতার বদলে প্রয়োজনে অভিনয় করার জন্য কোনো অভিনেতার মত, তারা প্রস্তুত থাকে যখনই কোনো টেরিটোরীর মালিক মারা যায়, তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই দ্বায়িত্ব নেবার জন্য, গ্রুপ প্রজননের মূল মঞ্চে প্রজনন অব্যাহত রাখতে। আমরা এখন দেখতে পারছি এটি একই। সাথে হয়তো বিশুদ্ধভাবে স্বার্থপর সদস্য হিসাবেও তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো কৌশল। যেমন আমরা অধ্যায় ৪ এ দেখেছি, আমরা এই সব প্রাণীদের মনে করতে পারি জুয়াড়ী হিসাবে। কোনো জুয়াড়ীর জন্য কখনো কখনো সেরা কৌশল হচ্ছে অপেক্ষা আর আশা করার কৌশল, যা একেবারে সরাসরি যুদ্ধং দেহী কৌশল অপেক্ষা অনেক বেশী ভালো।
একইভাবে অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে প্রাণীদের দেখে মনে হতে পারে তারা তাদের প্রজনন না করতে পারার মর্যাদাটি বিনা প্রতিবাদে ‘মেনে নিচ্ছে, সেইসব ক্ষেত্রগুলো খুব সহজে ব্যাখ্যা করা সম্ভব স্বার্থপর জিন তত্ত্ব ব্যবহার করে। এই ব্যাখ্যার সাধারণ রুপটি সবসময় একই: একক সদস্যদের জন্য ভবিষ্যতে ভালো সুযোগ পাবার আশায় নিজেকে সংযত করে রাখাটার বাজিটা আপাতত সেই মুহূর্তের জন্য সবচেয়ে সেরা বাজি। কোনো একটি সিল যে কিনা হারেম দখল করে রাখা সিলদের কোনো আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে, সে তাদের গ্রুপের সার্বিক মঙ্গলের জন্য কাজটি করছে না। সে অপেক্ষা করছে, অপেক্ষা করছে ভালো সুবিধাজনক সময়ের জন্য। এমনকি যদি সেই মুহূর্ত নাও আসে এবং তাকে কোনো উত্তরসূরি জীবন শেষ করতে হয়, এই বাজীর মূল্য হয়তো পরিশোধিত হয়; যদি বর্তমানের তথ্য নিয়ে অতীতের ঘটনা বিশ্লেষণ করা যায়, সেই মূহুর্ত কখনোই আসে না এবং তার পরিণতিতে কোনো উত্তরসূরি ছাড়াই তাকে চলে যেতে হয়। এবং যখন লেমিংরা ঝাঁকে ঝাকে তাদের জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কেন্দ্র স্থল ত্যাগ করে, তারা সেই কাজটি কিন্তু তাদের পরিত্যাক্ত এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে করে না। তারা খোঁজে, প্রতিটি স্বার্থপর লেমিংসরা, বসবাস করার উদ্দেশ্যে অপেক্ষাকৃত কোনো কম জনবহুল এলাকার অনুসন্ধান করে। সেই বাস্তব তথ্যটি, যেকোনো একটি নির্দিষ্ট লেমিং হয়েতো নীচে পড়ে যায় সেটি খুঁজে পেতে ও মারা যায়, যা আমরা দেখতে পারি বর্তমানের তথ্য নিয়ে অতীতের ঘটনা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ব্যবহার করে। কিন্তু এটি আদৌ সেই সম্ভাবনাটাকে পরিবর্তন করেনা যে, নীচে না পড়ে গিয়ে আগের জায়গায় থাকাটা তাদের জন্য আরো খারাপ একটি বাজি হতে পারে।
সুপর্যবেক্ষিত একটি বাস্তব সত্য হচ্ছে জনসংখ্যার বাহুল্য, ঘন জনবসতি কখনো কখনো জন্ম-হার হ্রাস করে। এটিকে মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয় ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের তত্ত্বের সপক্ষে একটি প্রমাণ হিসাবে। কিন্তু ব্যপারটি আসলেই সেরকম কিছু নয়। এটি যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ তার তত্ত্বের সাথে, এটি ঠিক একই ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বার্থপর জিন তত্ত্বটির সাথেও। যেমন, একটি পরীক্ষায় ইঁদুরদের বাইরে একটি আবদ্ধ এলাকায় রাখা হয় প্রচুর পরিমানে খাদ্য দিয়ে এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে প্রজনন করার সুযোগ দেয়া হয়। জনসংখ্যা বাড়তে থাকে একটি পর্যায় অবধি তারপর এটি আর বাড়ে না, মোটামুটি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আর এই স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছানোর কারণ হিসাবে দেখা যায় স্ত্রী ইঁদুররা ঘনবসতি আর জনসংখ্যার ঘনত্বেও বৃদ্ধির কারণে অপেক্ষাকৃত কম উর্বর হয়; অর্থাৎ তারা অল্প সংখ্যক সন্তান উৎপাদন করে। এই ধরনের প্রভাব প্রায়শই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে নানা গবেষণায়। এর তাৎক্ষণিক কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, স্ট্রেস বা চাপ, যদিও কোনো একটি নাম দেয়ার মানে এই না যে এটি নিজে নিজে সেটি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে। তবে এর তাৎক্ষণিক কারণ যাই হোক। না কেন, আমাদের এখন এর আসল বা বিবর্তনীয় কারণটি ব্যাখ্যা করতে হবে। কেন প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব স্ত্রী সদস্যদের সাহায্য করে যারা তাদের সন্তান জন্ম দেবার হার কমাতে পারে, যখন তাদের জনসংখ্যা বিস্ফোরণ হয়?
