যে সব সদস্যদের বেশী সংখ্যক সন্তান আছে তারা শাস্তি পাবে, তবে পুরো জনসংখ্যা বিলুপ্ত হবে সে কারণে না, বরং শুধুমাত্র অপেক্ষাকৃতভাবে তাদের কম সন্তানই বেঁচে থাকে। খুব বেশী সংখ্যক সন্তান জন্ম দেবার জিনটি পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় না। বেশী পরিমান কোনো সংখ্যায় কারণ তাদের খুব কম সংখ্যক সন্তানই পারে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া অবধি বেঁচে থাকতে। আধুনিক সভ্য মানুষদের সাথে যা ঘটেছে তা হলো যে পরিবারের আকার আর সীমিত সম্পদের উপর নির্ভর করে না, যা কোনো পিতামাতা তাদের সন্তানের জন্য খরচ করতে পারে। যদি কোন স্বামী বা স্ত্রী তাদের পক্ষে খাওয়ানো সম্ভব না এমন সংখ্যক সন্তানের জন্ম দেন, তাহলে রাষ্ট্র, যার মানে জনসংখ্যার বাকী অংশ, সেখানে দ্বায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে এবং তারা এই অতিরিক্ত শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে। বাস্তবিকভাবে, কোনো একটি দম্পতি যাদের কিনা তেমন কোনো সম্পদ নেই সেই নারীর পক্ষে শারীরিকভাবে যতটা নেওয়া সম্ভব ততটা সন্তানের সঠিকভাবে প্রতিপালন করার জন্য, তাকে বাধা দেবার কিছু নেই। কিন্তু এই ধরনের ওয়েলফেয়ার বা কল্যাণমূখী সমাজ প্রকৃতিতে খুবই অস্বাভাবিক একটি ব্যাপার। প্রকৃতিতে যে পিতামাতা তাদের সামর্থের বাইরে গিয়ে বেশী সংখ্যক সন্তানের জন্ম দেয়, তাদের বেশী নাতিনাতনী থাকে না। এবং তাদের জিনও পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হতে পারে না। সেখানে জন্মসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো পরার্থবাদী সংযমের প্রয়োজন নেই, কারণ প্রকৃতিতে কোনো সমাজকল্যাণ মূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। যে-কোনো জিন, যা কিনা তার সীমা অতিক্রম করবে অমিতব্যয়ী আচরণে দ্রুত সে শাস্তি পায়: সেই জিন যে শিশুরা বহন করে তারা খাদ্যাভাবে মারা যায়। যেহেতু আমরা মানুষরা সেই প্রাচীন স্বার্থপর জীবনে ফিরতে চাইনা যে সময়ে আমরা বড় পরিবারের শিশুদের অনাহারে মারা যাবার ক্ষেত্রে কোন বাধা দেইনি। আমরা পরিবারকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার একক হিসাবে বিলুপ্ত করেছি, তার জায়গা নিয়েছে রাষ্ট্র। কিন্তু নিশ্চিভাবে সন্তানের প্রতিপালনে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া যাবে এমন সুযোগের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
জন্মনিরোধ প্রক্রিয়াকে কখনো কখনো ‘অপ্রাকৃতিক’ হিসাবে চিহ্নিত করে আক্রমণ করা হয়। আসলেই সেটা তাই, প্রাকৃতিক নয়। সমস্যা হচ্ছে, একই ভাবে কল্যাণমুখী সমাজ বা রাষ্ট্রও ঠিক সেকরমই অপ্রাকৃতিক। আমি মনে করি আমরা অধিকাংশ মানুষই ভাবি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র আমাদের জন্য খুবই কাম্য একটি ব্যবস্থা, কিন্তু আপনি কোনো অপ্রাকৃতিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র তৈরী করতে পারবেন না, যদি আপনার সেই অপ্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও না থাকে, নতুবা এর পরিণতি হবে ভয়াবহ দুর্দশা এমনকি আমরা প্রকৃতিতে যা দেখি তার চেয়েও বেশী। কল্যাণমুখী বা ওয়েলফেয়ার রাষ্ট্র সম্ভবত সর্বশ্রেষ্ট পরার্থবাদী পদ্ধতি যা প্রাণীজগতে দেখা যায়। কিন্তু কোনো পরার্থবাদী সিস্টেম হচ্ছে অন্তর্গতভাবেই অস্থিতিশীল, কারণ, স্বার্থপর সদস্যদের দ্বারা এই সিস্টেমটি অপব্যবহৃত হবার ঝুঁকি থাকে সবসময়, তারা এটিকে তাদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে সবসময় প্রস্তুত। যারা তাদের ভরণ পোষণ করার ক্ষমতার বাইরে বেশী সন্তান নেয়, সম্ভবত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতিটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারার জন্য তারা যথেষ্ট পরিমান অজ্ঞ। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান আর নেতারা যারা পরিকল্পিতভাবে তাদের সেরকম কিছু করার জন্য উৎসাহ দেয়, তাদের উদ্দেশ্য বরং খুব বেশী সন্দেহের উর্ধে না বলেই আমার কাছে মনে হয়।
আবার বন্য প্রাণীদের নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসি। ল্যাকের ক্লাচ সাইজ যুক্তিকে আমরা সাধারণীকরণ করতে পারি অন্য সব উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে, যা ওয়েইন-এডওয়ার্ডস ব্যবহার করেছিলেন: টেরিটোরি রক্ষা করার আচরণ এবং আধিপত্য প্রাধান্য পরম্পরা ইত্যাদি। যেমন, ধরুন, রেড গ্রাউস পাখির ক্ষেত্রে, যার উপর তিনি ও তার সহকর্মীরা গবেষণা করেছিলেন। এই পাখিরা মূলত নিরামিষাশী, তারা হিদার গাছের ফুল, বীজ আর ডাল খায় এবং তারা মুর বা পাহাড়ী উন্মুক্ত পতিত জমি এমন এলাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে সেই এলাকার মালিকদের যে পরিমান খাদ্য প্রয়োজন তার চেয়ে বেশী পরিমান খাদ্য থাকে। ঋতুর শুরুতেই তারা এলাকা দখলের জন্য যুদ্ধ করে, কিন্তু কিছুকাল পরে পরাজিতরা, আপাতদৃষ্টি মনে হয় তারা মেনে নিয়েছে যে তারা হেরে গেছে এবং তারা আর যুদ্ধ করে না। তারা গোত্রচ্যুত হয় এবং আর কখনোই কোনো টেরিটোরির মালিক হতে পারেনা এবং ঋতুর শেষ নাগাদ তারা মূলত না খেয়েই মারা যায়। শুধুমাত্র টেরিটোরি দখলকারীরা প্রজনন করতে পারে। যারা টেরিটোরির মালিক না তারা শারীরিকভাবে প্রজনন করতে সক্ষম সেটি দেখা গেছে একটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যদি কোনো টেরিটোরির মালিককে গুলি করে হত্যা করা হয়, তার শূন্যস্থানটি দ্রুত দখল করে নেয় ইতিপূর্বে গোত্রচ্যুত কোনো গ্রাউস, এবং সে এরপর প্রজনন করে। আর এই চরমপন্থী আঞ্চলিক প্রাধান্য বিস্তারের আচরণ সংক্রান্ত ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেমনটা আমরা দেখেছি, গোত্রচ্যুতরা মেনে নেয় তারা প্রজনন করার টিকিট পায়নি বা লাইসেন্স পেতে ব্যর্থ হয়েছে, এবং তারা প্রজনন করার চেষ্টা করে না।
