জনসংখ্যার আকার যদি বেশী বড় হয়, কিছু সদস্য তাদের টেরিটোরি পাবে না এবং সুতরাং তারা প্রজনন করবে না। কোনো একটি টেরিটোরি দখল করা সেকারণে ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের মতে অনেকটাই লটারী জেতা টিকিট পাবার মত বা প্রজনন করার অধিকার। যেহেতু দখল করার মত টেরিটোরির সংখ্যা সীমিত, এটি অনেকটা সীমিত সংখ্যক প্রজনন করার জন্য লাইসেন্স ইস্যু করার মত। সদস্যরা প্রত্যেকেই পরস্পরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কে এই সীমিত সংখ্যক লাইসেন্সের একটি জয় করতে পারে, কিন্তু মোট শিশুর সংখ্যা, যা কোনো জনগোষ্ঠী পেতে পারে সার্বিকভাবে সেটি সীমাবদ্ধ কত সংখ্যক টেরিটোরি দখল করার আছে তার উপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেমন, রেড গ্রাউসদের ক্ষেত্রে একক সদস্যরা, প্রথম দৃষ্টিতে, মনে হতে পারে যেন তারা সংযম প্রদর্শন করছে, কারণ যারা টেরিটোরি দখল করতে পারেনি তারা শুধুমাত্র যে প্রজনন করতে পারেননি, তারা একই সাথে মনে হয় যে কোনো টেরিটোরী জয় করার প্রচেষ্টার হালও ছেড়ে দিয়েছে। যেন মনে হয় তারা সবাই কোনো খেলার নিয়ম মেনে নিয়েছে : সেটি হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঋতুর পর আপনি যদি প্রজনন করার জন্য কোনো সম্মতিসহ টিকিট না পান, আপনি স্বেচ্ছায় বিরত থাকবেন প্রজনন করা থেকে এবং ভাগ্যবানদের কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি ছাড়াই প্রজনন ঋতুতে প্রজনন করার সুযোগ দিবেন, যেন তারা প্রজাতির বংশধারা অব্যহত রাখার কাজটি করতে পারে।
ওয়েইন-এডওয়ার্ডস এই প্রাধান্য-পরম্পরার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন একই ভাবে। অনেক প্রাণী গ্রুপের মধ্যে বিশেষ করে বন্দি দশায় এবং একইভাবে বন্য পরিবেশে কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিটি জীব সদস্য একে অপরের পরিচিতি সম্বন্ধে ধারণা করতে পারে এবং তারা শিক্ষা লাভ করে কাকে তারা যুদ্ধে হারাতে পারবে এবং কাদের কাছে তাদের পরাজিত হবার সম্ভাবনা আছে। যেমনটি আমরা অধ্যায় ৫ এ দেখেছিলাম, তারা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই নিজেকে সমর্পন করে সেই সদস্যদের কাছে, যাদের তারা নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী হিসাবে জানে ও তাদের সাথে যুদ্ধ হলে তাদের নিজেদেরই হারার সম্ভাবনা বেশী। ফলাফলে কোনো প্রকৃতিবিদ কোনো একটি বিভিন্ন প্রাধান্য পরম্পরা বা পে-অর্ডার (এটি বলার কারণ প্রথম এটি আবিষ্কৃত হয়েছি মুরগীদের মধ্যে অর্থাৎ প্রাধান্যের বিভিন্ন স্তর-বিন্যাসবদ্ধ সমাজ যেখানে প্রত্যেকেই জানে তার অবস্থানটি কোথায় এবং তার নিজের অবস্থানের উপরে সে কোনো কিছু ভাবার চেষ্টা করেনা। অবশ্যই কখনো কখনো সত্যিকারের দ্বন্দ্ব হয় এবং কখনো কেউ কেউ তাদের ইতিপুর্বে প্রাধান্য বিস্তারকারীদের হারিয়ে তার উপরের স্তরে ওঠার পুরষ্কারও পায়। কিন্তু যেমনটি আমরা দেখেছিলাম। অধ্যায় ৫ এ, নীচের স্তরের কোন সদস্যর স্বতঃস্ফূর্ত এই সমর্পনের সার্বিক প্রভাবটি হচ্ছে অল্প কিছু দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্ব আসলেই সংঘটিত হয় এবং খুব বেশী কোনো জখম হবার মত ঘটনা কদাচিৎ ঘটে।
বহু মানুষই মনে এটিকে মনে করেন অস্পষ্টভাবে গ্রুপ সিলেকশন মতবাদী ভাবনায় ভালো কোনো কিছু হিসাবে। ওয়েইন-এডওয়ার্ডস সম্পূর্ণ ভিন্ন আর একটি সাহসী ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বিষয়টির। প্রাধান্য পরম্পরায় উপরের স্তরে থাকা সদস্যদের নীচের স্তরের সদস্যদের চেয়ে প্রজনন করার বেশী সম্ভাবনা থাকে। হয় স্ত্রী সদস্যরা তাদের বেশী পছন্দ করে অথবা তারা শারীরিকভাবে নিচু স্তরের সদস্যদের স্ত্রী সদস্যদের কাছাকাছি আসতে বাধা দেয়। তিনি এই উঁচু সামাজিক মর্যাদাটাকে দেখেছিলেন প্রজনন করার অধিকারের আরো একটি ছাড়পত্র হিসাবে। এবং স্ত্রী সদস্যদের জয় করার জন্য সরাসরিভাবে কোনো যুদ্ধে না জড়িয়ে, একক সদস্যরা তাদের সামাজিক মর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে। এবং তারা এরপর মেনে নেয় যদি তারা সামাজিক উঁচু স্তরে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে তাদের প্রজনন করার কোনো অধিকার নেই। তারা সরাসরিভাবে যেখানে স্ত্রী সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সেখানে নিজেদের সংযত রাখে, যদি তারা হয়তো কখনো কখনো সামাজিকভাবে উচ্চ মর্যাদা পাবার চেষ্টা করে আর সেকারণে বলা যেতে পারে ‘পরোক্ষভাবে তারা স্ত্রী সদস্যদের জন্য যুদ্ধ করছে। কিন্তু যেমন, টেরিটোরি সংক্রান্ত আচরণে আমরা দেখি, ‘স্বেচ্ছায় এই মেনে নেবার’ আইনটির ফলশ্রুতিতে শুধুমাত্র সামাজিকভাবে উচ্চ মর্যাদার সদস্যদের প্রজনন করা উচিৎ, ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের মতে সেই জনগোষ্ঠীতে খুব দ্রুত জনসংখ্যায় বৃদ্ধি পায় না। বরং আসলেই অনেক বেশী সন্তান হবার পর ঠেকে শিখে অনুধাবন করা যে কাজটা ভুল হয়েছে, তার বদলে জনগোষ্ঠীগুলো সামাজিক মর্যাদা আর অধিকৃত স্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক একটি প্রতিযোগিতার ব্যবহার করে জনসংখ্যার আকার যে পর্যায়ে পৌঁছালে দুর্ভিক্ষের শিকার হবে তার নীচের স্তরে সীমিত রাখে।
ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের ধারণাগুলোর মধ্যে হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর ধারণাটি হচ্ছে ‘এপিডাইকটিক’ (epideictic) আচরণের ধারণাটি, এই শব্দটি তার নিজের আবিষ্কার। বহু প্রাণীরা বিশাল অংশ সময় কাটায় বড় আকারের দলবদ্ধ হয়ে। বেশ কিছু সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান নির্ভর কারণগুলো– কেন এ ধরনের সমবেত হবার আচরণকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিশেষ সহায়তা করে– তা প্রস্তাবও করা হয়েছে। আমি তাদের কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করবো অধ্যায় ১০ এ। ওয়েইন-এডওয়ার্ডস ধারণা এ বিষয়ে পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে যখন স্টারলিং পাখিদের বিশাল আকারের দল জড়ো হয় সন্ধ্যায় বা একগুচ্ছ মিজ কোনো গেটপোস্ট এর উপর নাচানাচি করে, তারা আসলে সেই সময় তাদের জনসংখ্যা শুমারীর মত কিছু করে। যেহেতু তিনি মনে করছেন যে একক সদস্যরা তাদের জন্ম হার নিয়ন্ত্রণ করে পুরো গ্রুপের মঙ্গলের জন্য এবং তারা অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক শিশুর জন্ম দেয় যখন জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশী থাকে। খুব যৌক্তিক এমন কিছু ভাবা যে আসলে তাদের হয়তো কোনো উপায় থাকা উচিৎ যা দিয়ে তারা জনসংখ্যার ঘনত্ব পরিমাপ করতে পারে, একটি থার্মোমিটারের কাজ করা প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে ঠিক যেমন একটি থার্মোস্ট্যাটের দরকার হয়। ওয়েইন-এডওয়ার্ডস এর জন্য এই ‘এপিডাইকটিক’ আচরণ হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে কোনো জমায়েত হবার একটি উপায় যা জনসংখ্যার পরিমান সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। তিনি অবশ্যই কোনো সচেতন প্রক্রিয়ায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন না এখানে, কিন্তু একটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়বিক ও হরমোন নির্ভর কোনো প্রক্রিয়া, যা কোনো একক সদস্যর তাদের জনসংখ্যার ঘনত্বের প্রতি সংবেদী অনুভূতির সাথে তাদের প্রজনন তন্ত্রকে সংযুক্ত করেছে। আমি চেষ্টা করেছি ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের তত্ত্বটির প্রতি সুবিচার প্রদর্শন করার জন্য, এমনকি যদিও বরং খানিকটা সংক্ষিপ্ত আকারে। যদি আমি সফল হয়ে থাকি, আপনার এখন প্ররোচিত হবার সেই অনুভূতি অনুভব করা উচিৎ যে, তত্ত্বটি যা মূলত দাবী করছে, সেটির একটি আপাতগ্রাহ্যতা আছে। কিন্তু এই বইয়ের আগের অধ্যায়গুলো আপনাকে খানিকটা সন্দেহবাদী হিসাবে প্রস্তুত করেছে এমন একটি পর্যায় পর্যন্ত যে আপনি হয়তো বলবেন যদিও সম্ভাব্য মনে হতে পারে শুনলে, ওয়েইন-এডওয়ার্ডসের তত্ত্বটির পক্ষে প্রমাণগুলো যেন মজবুত হয় নতুবা…; এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রমাণগুলো তেমন। মজবুত নয়। বহু সংখ্যক উদাহরণ আছে যা তার মত করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, কিন্তু সেগুলো আবার সমানভাবে আরো প্রথাগত ‘স্বার্থপর জিন’ তত্ত্বটির আলোকেও ব্যাখ্যা করা যায়।
