এটি খুবই আকর্ষণীয় একটি হাইপোথিসিস, কারণ প্রতিটি একক সদস্যের কি করা উচিৎ ধারণাটির সাথে এটি খুব ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মানবজাতি অনেক বেশী সন্তানের জন্ম দেয়। কোনো একটি জনসংখ্যার আকার নির্ভর করে চারটি জিনিসের উপর: জন্ম, মৃত্যু, অভিবাসন, দেশান্তর। পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা যদি একসাথে গ্রহন করা হয়, তাহলে সেখানে কোনো অভিবাসন আর দেশান্তর ঘটেনা, এবং আমাদের শুধু থাকে জন্ম আর মৃত্যুর ঘটনা। যতক্ষণ অবধি দম্পতি-প্রতি গড় সন্তান সংখ্যা দুই’ এর বেশী হয়, যারা বেঁচে থাকে ও প্রজনন করে, পৃথিবীতে জন্ম নেয়া শিশুদের সংখ্যা বছর প্রতি ক্রমান্বয়ে ক্রমবর্ধমান একটি হারে বাড়তে থাকবে। প্রতিটি প্রজন্মে একটি নির্দিষ্ট পরিমান হারে বাড়ার পরিবর্তে এটি বাড়ে যে আকারটি ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে তার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে। যেহেতু এই মূল আকারটি ইতিমধ্যেই আরো বড় হচ্ছে, সেই সাথে এর বাড়ার হারটি ক্রমশ বাড়তে থাকে। যদি এই ধরনের বৃদ্ধিকে কোনো বাধা ছাড়াই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অব্যহত থাকার অনুমতি দেয়া হয়, জনসংখ্যার আকার সেক্ষেত্রে খুব দ্রুত অত্যন্ত বিশাল আকার ধারণ করে।
ঘটনাচক্রে, একটি বিষয় মাঝে মাঝে এমনকি সেই সব ব্যক্তিরাও অনুধাবন করেন না, যারা জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে ভাবেন, আর সেই বিষয়টি হচ্ছে জনসংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে কখন মানুষ সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, এবং সেই সাথে তাদের কয়টি সন্তান আছে। যেহেতু, জনসংখ্যা বাড়ার প্রবণতা আছে, ‘প্রতি প্রজন্মে’ একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে, এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি, আপনি যদি প্রজন্ম-মধ্যবর্তী সময়টি বৃদ্ধি করতে পারেন আরো বেশী, জনসংখ্যা বছর-প্রতি আরো কম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে। যে সচেতনামূলক ব্যানারটি বলছে ‘দুটি হলেই যথেষ্ট’ সেটা কোনো ক্ষতি ছাড়াই পরিবর্তন করা যেতে পারে ‘ত্রিশের আগে কোনো সন্তান নয়। কিন্তু যে-কোনো পরিস্থিতিতেই ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যা বৃদ্ধি মানে ভয়ঙ্কর সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা।
সম্ভবত আমরা সবাই সেই বিস্ময়কর গণনার উদাহরণগুলো দেখেছি, যা এই বিষয়টি বোঝার জন্য সহজ করে তোলে। যেমন, ল্যাটিন আমেরিকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন এবং ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। কিন্তু জনসংখ্যা যদি বর্তমান হারে বাড়তে থাকে তাহলে ৫০০ বছরের চেয়েও কম সময় লাগবে যখন মানুষ যে যেখানে আছে সেখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অবিচ্ছিন্ন মানব কার্পেট তৈরী করবে সারা মহাদেশ জুড়ে। এবং এটা এমনকি হবেই, এমনকি যদি প্রতিটি মানুষ খুব শীর্ণকায় হবে আমরা এমন ধারণাও করি– কারণ সেটি অবশ্যই অবাস্তব কোনো ভাবনা হবেনা। এখন থেকে হাজার বছর পরে তারা একে অপরের কাঁধে দাঁড়াবার মত অবস্থা হবে, তার গভীরতা মিলিয়ন মানুষের সমান। ২০০০ বছর নাগাদ, মানুষের পর্বত, আলোর গতিতে বাইরের দিকে ছুটে চলার মাধ্যমে পৌঁছে যাবে আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বের সীমানা পেরিয়ে।
নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে এটি একটি হাইপোথেটিকাল গণনা মাত্র। বাস্তবে খুব ভালো কিছু বাস্তবতা নির্ভর ব্যবহারিক কারণে এটি ঘটবে না। আর এই সব কারণগুলোর কিছু হচ্ছে, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, যুদ্ধ অথবা যদি আমরা ভাগ্যবান হই তাহলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। কোনো লাভ হবে না কৃষি বিজ্ঞানের বিস্ময়কর মহা অগ্রগতির উপর ভরসা করে –“সবুজ বিপ্লব’, ইত্যাদি বা সেকরম কোনো কিছু। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি হয়তো সাময়িকভাবে সমস্যাটি মোকাবেলা করবে, কিন্তু গাণিতিকভাবে আমরা নিশ্চিৎ যে এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান হতে পারে না। আসলেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি যা এই সমস্যাটি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে, তারা হয়তো সেই সমস্যাটিকে আরো খারাপ একটি রুপ দিতে পারে, জনসংখ্যা সম্প্রসারণ বিষয়টি তরান্বিত করার মাধ্যমে। এটি খুব সাধারণ যৌক্তিক সত্য যে ব্যাপক গণহারে মহাশূন্য অভিমূখে পৃথিবীত্যাগ, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে কয়েক মিলিয়ন রকেটের যাত্রা করা ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত জন্ম হার অবধারিতভাবে ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি করবে। খুবই কঠিন বিশ্বাস কআ যে, সেই নেতাদের সাধারণ এই সত্যটি বোঝার ক্ষমতা নেই, যারা তাদের অনুসারীদের কার্যকরী জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহন করতে নিরুৎসাহিত করছেন। যারা ‘প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং তারা ঠিক সেই প্রাকৃতিক উপায়টি দেখতে পাবেন, আর তার নাম হচ্ছে, দুর্ভিক্ষ।
কিন্তু অবশ্যই এধরনের দীর্ঘমেয়াদী হিসাব নিকাশের কারণে উদ্রেক হওয়া সেই অস্বস্তিকর অনুভূতির ভিত্তি আসলে ভবিষ্যতে আমাদের প্রজাতির জন্য সার্বিক কল্যাণ কামনা। ভবিষ্যতে অতিমাত্রায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি হবার ভয়ঙ্কর পরিণতির ব্যপারে প্রয়োজনীয়ভাবে সতর্ক হতে মানুষের (তাদের কারো কারো অবশ্য) সচেতন দূরদর্শিতা আছে। এই বইটির এটি একটি মৌলিক ধারণা যে, সারভাইভাল মেশিনগুলো সাধারণত পরিচালিত হয় স্বার্থপর জিনের মাধ্যমে, খুব নিশ্চিৎভাবে যার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা করা যায়না যে, সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে, বা প্রজাতির কল্যাণ নিয়ে তার অন্তরে কোনো বিশেষ ভাবনা আছে। আর এখানে ওয়েইন-এডওয়ার্ডস প্রথাগত বিবর্তনীয় তাত্ত্বিকদের থেকে পৃথক পথে চলেছেন। তিনি ভাবছেন, অবশ্যই একটি উপায় আছে যেখানে সত্যিকারের পরার্থবাদী জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া বিবর্তিত হতে পারে।
