সামগ্রিকভাবে আমরা সিদ্ধান্ত করতে পারি যে স্বভাব অথবা ব্যবহার ও অব্যবহার কোন কোন ক্ষেত্রে দেহগঠন ও অবয়বের রূপান্তরে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু পরিণামগুলি পরিবৃত্তিসমূহের প্রাকৃতিক নির্বাচনের সঙ্গে বহুলাংশে যুক্ত হয়েছে এবং কোন কোন সময় প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা পরাভূত হয়েছে।
সহসম্পর্কিত পরিবৃত্তি
এই অভিব্যক্তির মাধ্যমে আমি বোঝাতে চাই যে জীবের সমগ্র জৈবসংগঠনটি তার বৃদ্ধি ও বিকাশের পর্যায়কালে এমনভাবে সুসংবদ্ধ হয় যে যখন যে কোন অঙ্গে অল্প পরিবর্তন ঘটে তখন এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সঞ্চিত হয়, অন্য অঙ্গসমূহও রূপান্তরিত হয়। এটি একটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার সম্বন্ধে অসম্পূর্ণরূপে কিছু জানা গেছে, এবং সন্দেহ নেই যে বিভিন্ন শ্রেণীর তথ্য এখানে সহজেই আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এখন আমরা দেখব যে সরল বংশানুসৃতি প্রায়শই সহসম্পর্কের ভ্রান্ত বাহ্যরূপ প্রদান করে। সবচেয়ে স্পষ্ট আসল ঘটনাসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে, তরুণ অথবা লার্ভা অবস্থায় দেহের পরিবৃত্তিসমূহ বয়স্ক প্রাণীদের দেহগঠনকে স্বাভাবিকভাবে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করে। যেগুলি সমসংস্থ ও প্রাথমিক ভূণগতাবস্থায় দেহগঠনে অভিন্ন ও সদৃশ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে প্রভাবান্বিত হয়, শরীরের এমন কতিপয় অঙ্গ সম্ভবতঃ সমরূপে পরিবর্তিত হতে স্পষ্টতঃ বাধ্য হয়। একই ভাবে পরিবর্তনশীল শরীরের বাম ও দক্ষিণ দিকে আমরা এটি লক্ষ্য করি; সামনের ও পিছনের পাগুলি এবং এমনকি চোয়াল ও অঙ্গগুলিও একত্রে পরিবর্তিত হয়, কারণ কয়েকজন অঙ্গ ব্যবচ্ছেদকারী বিশ্বাস করেন যে নিচের চোয়ালটি অঙ্গগুলির সঙ্গে সমসংস্থ। আমার ধারণা, এই প্রবণতাসমূহকে প্রাকৃতিক নির্বাচন মোটামুটি সম্পূর্ণরূপে জয় করতে পারে। এভাবে উল্লেখ করা যায় যে হরিণদের এক সময় একটা গোত্র ছিল যাদের কেবল। একদিকে একটি শিং থাকত; এবং জাতটি যদি কোনভাবে উপকারী হত, তাহলে এটি সম্ভবতঃ প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা স্থায়ী হয়ে থাকতে পারত।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতানুসারে, সমসংস্থ অঙ্গরা সংসস্থ হয়ে থাকতে চেষ্টা করে; এগুলি প্রায়শই বিকৃতাঙ্গ উদ্ভিদে দেখা যায় : এবং একটি নলের সঙ্গে পাপড়ির সংযুক্তির মতো, সাধারণ দেহগঠনে সমসংস্থ অঙ্গদের সংযুক্তির তুলনায় কোন কিছুই আরও সাধারণ নয়, শক্ত অঙ্গরা সম্ভবতঃ সংলগ্ন কোমল অঙ্গগুলিকে প্রভাবিত করে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে পাখিদের ক্ষেত্রে শ্রেণীর (পেলভিস) আকারের বৈচিত্র্য তাদের বৃক্কের (কিডনি) আকারের লক্ষণীয় বৈচিত্র্য ঘটায়। অন্যরা মনে করেন মানব-মাতার শ্রোণীর আকারের চাপ শিশুর মাথার আকার তৈরিকে প্রভাবিত করে। এসক্লেজেলের মতে, সাপেদের শরীরের আকার ও গিলে খাওয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় নাড়িভুঁড়ির (ভিসেরা) কয়েকটির আকার ও অবস্থান নির্ধারণ করে।
বন্ধনের প্রকৃতি প্রায়শই সম্পূর্ণ অস্পষ্ট থাকে। এম. ইসিডোর জিওফ্রয় সেন্ট হিলারে জোরের সঙ্গে বলেছেন যে কোন কোন গঠনবিকৃতি বারংবার ও অন্যরা বিরলভাবে সহ-অবস্থান করে, যার সম্বন্ধে আমরা কোন যুক্তি খাড়া করতে অসমর্থ। বিড়ালদের ক্ষেত্রে, শরীরের রং সম্পূর্ণ সাদা ও চোখের রং নীল হওয়ার সঙ্গে বধিরতার, অথবা কচ্ছপের খোলক ও স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে, অথবা পায়রাদের পালকওয়ালা পা এবং পায়ের বাইরের আঙ্গুলের মধ্যে চামড়ার, অথবা শিশু পায়রাদের কমবেশি নরম পালকের সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের পালকের রঙের, অথবা টার্কিশ কুকুরের লোম ও দাঁতের মধ্যেকার সম্পর্কের তুলনায় বিস্ময়কর ভূমিকা আর কী পালন করতে পারে। যদিও সন্দেহ নেই যে সমসংস্থতা বা অনুরূপতা এখানে একটি ভূমিকা পালন করে। সহসম্পর্কের পরবর্তী ঘটনাটি সম্পর্কে আমি মনে করি এটি কদাচিৎ আকস্মিক ঘটনা হতে পারে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেটাসিয়া (তিমি) ও এডেন্টাটা (আর্মাডিলোস, স্কেলযুক্ত পিঁপড়ে ভক্ষণকারী) নামে দুটি বর্গের অন্তর্গত প্রাণীদের অন্তস্ত্বকের আবরণী অতিশয় অস্বাভাবিক, এদের দাঁতগুলিও এইরূপে সামগ্রিকভাবে অতিশয় অস্বাভাবিক হয়, কিন্তু মির্ভাটের মতে এই নিয়মের অসংখ্য ব্যতিক্রম আছে যাদের মূল্য অতি অল্প।
কম্পোজিটাস ও আমবেলিফেরাস উদ্ভিদদের বাইরের ও ভিতরের ফুলের মধ্যে পার্থক্যের সহসম্পর্কের তুলনায় উপযোগিতা অথবা প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়াই সহসম্পর্ক ও পরিবৃত্তির নিয়মগুলির প্রয়োজনীয়তা দেখাতে উপযুক্তভাবে অভিযোজিত হয়েছে, এমন ঘটনা আমি জানি না। উদাহরণস্বরূপ, ডায়েসি ফুলের প্রান্ত ও মধ্য পুস্পিকাদের মধ্যে পার্থক্যটির সঙ্গে প্রত্যেকেই পরিচিত, এই পার্থক্যটি জনন-অঙ্গসমূহের আংশিক বা সম্পূর্ণ বিলুপ্তির সঙ্গে প্রায়শই সংসর্গী হয়। কিন্তু এইসব উদ্ভিদের কয়েকটিতে বীজগুলিও আকারে ও গঠনে ভিন্ন হয়। এইসব পার্থক্য পুষ্পিকাদের ওপর মঞ্জরীপত্রাবরণীর চাপ বা এদের পারস্পরিক চাপের ওপর কোন কোন সময় নির্ভর করে, এবং কয়েকটি কম্পোজিটি উদ্ভিদের প্রান্তপুস্পিকাদের বীজগুলির আকার এই ধারণাকে সমর্থন করে; ডঃ হুঁকার আমাকে জানিয়েছেন যে আমবেলিফেরি গোত্রের ঘনতম মাথা-সমেত প্রজাতিদের ক্ষেত্রে এটি কখনই ঘটে না, সেখানে প্রান্ত ও মধ্য পুষ্পিকারা প্রায়শই ভিন্ন হয়। মনে করা যেতে পারত যে জনন-অঙ্গগুলি থেকে পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে প্রান্ত পাপড়িদের বিকাশবৃদ্ধি এদের অবলুপ্তির কারণ ঘটায়; কিন্তু এটি কদাচিৎ একমাত্র কারণ হতে পারে, কারণ কম্পোজিটি গোত্রের কয়েকটি উদ্ভিদে প্রান্ত ও মধ্য পুষ্পিকাদের বীজগুলি দলমণ্ডলের কোন পার্থক্য ছাড়াই ভিন্ন হয়। সম্ভবতঃ এইসব পার্থক্য প্রান্ত ও ভিতরের পুষ্টিকর খাদ্যের প্রবাহের পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অন্ততঃ অনিয়মিত ফুলেদের ক্ষেত্রে আমরা জানি যে অক্ষের নিকটতম ফুলগুলি অতিশয় সমাঙ্গ হয়, অর্থাৎ অস্বাভাবিকভাবে প্রতিসাম্য অবস্থার হয়। এই ঘটনার একটি উদাহরণ হিসেবে এবং সহসম্পর্কের একটি চিন্তাকর্ষক ঘটনা হিসেবে আমি যোগ করতে পারি যে অসংখ্য পেলার্গোনিয়ামের পুষ্পগুচ্ছের মধ্য ফুলের ওপরের দুটি পাপড়ির কালো রং প্রায়শই নষ্ট হয়ে যায় এবং যখন এটি ঘটে তখন সংসক্ত মধুগ্রন্থিটিও প্রায় লুপ্ত হয়; এভাবে মধ্যফুল পেলোরিক বা সমাঙ্গ হয়। উপরের দুটি পাপড়ির কেবল একটির রং যখন অনুপস্থিত থাকে, তখন মধুস্থলী সম্পূর্ণ লুপ্ত হয় না, বরং খুব খর্ব হয়।
