নিজস্ব অভ্যাস মতো এ বিষয়ে আমি আমাদের গৃহপালিত উৎপাদিত উৎপাদনগুলির ওপর আলোকপাত করতে চেষ্টা করেছি। আমরা এখানে অনুরূপ কিছু দেখব। এটি স্বীকার করতে হবে যে ছোট শিংওয়ালা ও হেয়ারফোর্ড গো-মহিষাদিদের, ঘোড়দৌড়ের ও ভারবাহী ঘোড়াদের, পায়রাদের কয়েকটি জাতের মতো এত পার্থক্যজনিত জাতসমূহের উৎপাদন অসংখ্য ধারাবাহিক বংশ ধরে সমরূপ পরিবৃত্তিদের কেবল অপ্রত্যাশিত সঞ্চয়নের দ্বারা কখনই কার্যকরী হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বাস্তবে একজন পাখিপ্রেমী বা পাখিরসিক খুব ছোট্ট ঠোঁটওয়ালা একটি পায়রাকে দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়; এবং স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসারে ‘প্রেমী বা রসিকরা মাধ্যমিক মানকে পছন্দ করে না ও করবে না, বরং চরমগুলিকে পছন্দ করে, এবং এরা উভয়েই (লোটন পায়রার উপ জাতগুলির ক্ষেত্রে যেমন সচরাচর ঘটে) ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ঠোঁটওয়ালা পাখিদের পছন্দ ও প্রজনন করতে থাকবে। আবার আমরা মনে করতে পারি যে ইতিহাসের প্রথম পর্যায়ে একটি দেশ বা জেলার মানুষদের দ্রুতগামী ঘোড়ার প্রয়োজন হতো, বলবান ও স্থূলকায় ঘোড়ার। প্রাথমিক পর্যায়ে পার্থক্যগুলি অতি অল্প হবে; কিন্তু কালক্রমে, একটি ক্ষেত্রে দ্রুতগামী, অন্য ক্ষেত্রে বলবান ঘোড়াদের নিরবচ্ছিন্ন নির্বাচন দ্বারা পার্থক্যগুলি বিরাটতর হবে এবং লক্ষ্য করা যাবে যে দুটি উপজাত সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে, কয়েক শতাব্দী পরে এই উপজাতগুলি দুটি ভিন্ন ও সুপ্রতিষ্ঠিত জাতে রূপান্তরিত হবে। পার্থক্যগুলি বিরাট হয় বলে মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য সমেত নিকৃষ্ট প্রাণীরা, যারা দ্রুতগামীও নয় বা বলবানও নয়, প্রজননে ব্যবহৃত হবে না। এবং এভাবে তারা বিলুপ্ত হতে থাকবে। এখানে আমরা মানুষের উৎপাদনগুলিতে এমন একটি ঘটনা দেখি যাকে আমরা অপসৃতির পদ্ধতি বলতে পারি এবং যা পার্থক্যগুলি ঘটায়, প্রথমে অতি অল্পভাবে, তার পর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অবশেষে পরস্পরের থেকে এবং নিজেদের সাধারণ পিতামাতার থেকে ভিন্নমুখী বৈশিষ্ট্যের জাতগুলির উদ্ভব ঘটায়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে যে কোন অনুরূপ পদ্ধতি কেমন করে প্রকৃতিতে প্রয়োগ হতে পারে? আমি মনে করি এটি অতিশয় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় ও যেতে পারে (কেমন করে এটি হয় তা অনুধাবন করতে অবশ্য অনেক সময় লেগেছিল)। সরল ঘটনা থেকে জানা যায় যে কোন একটি প্রজাতির বংশধররা অবয়বে, জৈবসংগঠনে ও স্বভাবে যত বেশি ভিন্নমুখী হয়; তত বেশি করে তারা প্রকৃতিমণ্ডলের অসংখ্য ও ব্যাপকভাবে বিচিত্র অঞ্চলসমূহ অধিকার করতে সমর্থ হয়, এবং এভাবে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে সক্ষম হয়।
সরল স্বভাবের প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি আমরা স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পারি। মাংসাশী চতুষ্পদ প্রাণীদের বিষয়টি ধরা যাক, যে কোন দেশে যার সংখ্যা বহু পূর্বে গড়সংখ্যার পূর্ণতায় পৌঁছে গেছে। এদের বৃদ্ধির স্বাভাবিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেওয়া হলে অন্য প্রাণীদের দ্বারা বর্তমানে অধিকৃত স্থানগুলি এদের পরিবর্তনশীল বংশধরদের দ্বারা অধিকার করার মাধ্যমে এরা কেবল বৃদ্ধি পেতে সমর্থ হতে পারে (দেশটির কোন ভৌতিক পরিবর্তন হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, এদের মধ্যে কয়েকটি মৃত অথবা জীবিত নূতন ধরনের শিকার ধরে খেতে সমর্থ হয়; কিছু প্রাণী নূতন জায়গায় বসবাস করতে শুরু করে, গাছে ওঠে, জলে ঘুরে বেড়ায় এবং কিছু বোধহয় কম মাংসাশী হয়। আমাদের মাংসাশী প্রাণীদের বংশধরদের দেহগঠন ও স্বভাব যত বেশি বিচিত্র হবে, এরা তত বেশি অঞ্চল অধিকার করতে সমর্থ হবে। যা একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা সবসময় সমস্ত প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে–অর্থাৎ যদি এরা পরিবর্তিত হয়, কারণ অন্যথায় প্রাকৃতিক নির্বাচন কার্যকরী হতে পারে না। এভাবে উদ্ভিদদের ক্ষেত্রেও এটি ঘটবে। পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে জমির একটি প্লটে যদি ঘাসের একটি প্রজাতির চাষ করা হয় এবং অনুরূপ প্লটে ঘাসের কয়েকটি ভিন্ন গণের প্রজাতির যদি চাষ করা হয় এবং অনুরূপ প্লটে ঘাসের কয়েকটি ভিন্ন গণের প্রজাতির যদি চাষ করা হয়, তাহলে পূর্বেরটির তুলনায় পরেরটির ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক ঘাস ও বেশি ওজনের শুকনো খড় উৎপাদন করা যেতে পারে। একই ঘটনা ঘটে গমের একটি ভ্যারাইটি ও কয়েকটি মিশ্র ভ্যারাইটিকে জমির সমান পরিমাণ প্লটে চাষ করা হলে। অতএব ঘাসের একটি প্রজাতিকে পরিবর্তিত হতে দেওয়া হলে এবং ভ্যারাইটিদের অনবরত নির্বাচন করা হলে, যারা পরস্পরের থেকে যদিও অতি অল্প মাত্রায় একইভাবে ভিন্ন হয়, যেমন প্রজাতি ও গণগুলির ক্ষেত্রে হয়, এদের রূপান্তরিত বংশধরগুলি-সমেত প্রজাতির বিরাট সংখ্যক এককরা জমির একই প্লটে বেঁচে থাকতে সমর্থ হবে। এবং আমরা জানি যে ঘাসের প্রত্যেক প্রজাতি ও প্রত্যেক ভ্যারাইটি প্রতি বছর অসংখ্য বীজ জমিতে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং এভাবে এরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলস্বরূপ কালক্রমে, শত সহস্র বছর পরে, ঘাসের যে কোন একটি প্রজাতির সবচেয়ে ভিন্ন ভ্যারাইটিদের কৃতকার্য হওয়ার ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাওয়ার এবং এভাবে কম ভিন্ন ভ্যারাইটিদের স্থানচ্যুত করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে; এবং যখন পরস্পরের থেকে আরও বেশি ভিন্ন হয়, তখন ভ্যারাইটিরা প্রজাতি পদে উন্নীত হয়।
