এডওয়ার্ডকে দেখে মিটলার বলল, আশা করি আমাকে আজ তোমাদের কোনও প্রয়োজন নেই। আমাকে যদি সত্যি সত্যিই কোনও প্রয়োজন থাকে, তাহলে আমি আজ তোমাদের এখানে লাঞ্চ খাবো। তা না হলে চলে যাব। আমার অনেক কাজ আছে।
শার্লোতে বলল, সত্যিই দরকার আছে। আমাদের বিয়ের পর আজ প্রথম একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে দুজনের মধ্যে। আমরা সেটার সমাধান করতে পারছি না। এ ব্যাপারে তোমার সাহায্য চাই।
মিটলার বলল, কিন্তু তোমাদের দেখে তো তা মনে হচ্ছে না। ঠিক আছে, যদি তাই হয় তাহলে পরে দেখা যাবে। আজ আমার কাজ আছে।
ওরা কথা বলতে বলতে হলের মধ্যে গেল। চাকরে প্রাতরাশ নিয়ে গেল। এই অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ মিটলার আগে ধর্ম দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী হিসাবে প্রচুর নাম করেছিল মিটলার। ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা সম্প্রদায়গত যে কোনও ঝগড়া মেটানোর কাজে সিদ্ধহস্ত ছিল মিটলার। সে মন্ত্রী থাকাকালে কোনও বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারত
কেউ। কারও কোনও দাম্পত্য জীবনে সমস্যা বা মন কষাকষি দেখা দিলে সে তা মিটিয়ে দিত। এমনকি অনেক মামলা-মোকদ্দমাও শুরু হতে না হতেই মিটিয়ে দিত সে। এই সব কাজে আইনজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা আছে দেখে সে অল্প কালের মধ্যেই আইনবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। তখন তার কর্মক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়। তখন রাজধানীতে ডাক পড়ে তার। বর্তমানে এখন একটা এস্টেট কিনে খামার করেছে। মিটলার অবসর নেবার পর। আর একটা অদ্ভুত কাজ সে করে বেড়ায়। সে মাঝে মাঝে এমনি বিভিন্ন গাঁয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কারো বাড়িতে বসে না বা খায় না যদি না সে বাড়ির কোনও উপকার সে করে। আজও আগের মতোই ঝগড়া মিটিয়ে বেড়ায় মিটলার।
খাবারের সঙ্গে মিষ্টি দেওয়া হলো, এদিকে কথায় কথায় তাদের দুজনের দাম্পত্য সমস্যাটার কথাও বরে ফেলল এডওয়ার্ড। কিন্তু সব শুনে মিটলার বলল, আজ এসব কথা বলে কোনও লাভ হবে না। আমার অন্যত্র কাজ আছে। আজ আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না।
মিটলার সত্যি সত্যিই উঠে পড়ল। চাকরকে তার ঘোড়া তৈরি করতে বলল। সে তখন এডওয়ার্ডকে বলল, তোমাদের এটা মোটেই সমস্যা নয়। তোমরা জান প্রথমে আমি কাউকে উপদেশ দেই না। সমস্যা বুঝলে আগে তোমরা নিজেরাই একটা উপদেশ খাড়া করো। তাতে কাজ হলে আনন্দ করো, নিজেদের বুদ্ধিকে বাহবা দাও। আর তাতে কাজ না হলে আমাকে ডাকবে। যে যাকে আনতে চাইছ নিয়ে এস বাড়িতে। রেখে দাও। পরে সমস্যা দেখা দিলে আমাকে ডাকবে। ভয়ের কিছু নেই। তখন অবশ্যই সাহায্য পাবে আমার কাছ থেকে। আজ চলি। বিদায়।
এই বলে কফি না খেয়েই ঘোড়ার উপর চেপে চলে গেল মিটলার।
শার্লোতে বলল, এইজন্যেই বলছিলাম দুজন অন্তরঙ্গ মানুষের মধ্যে কোনও বিষয়ে অমিল হলে তৃতীয় পক্ষকে ডাকতে নেই। এখন যেমন একথা ওকে বলে কোনও লাভ তো হলোই না, বরং আগের থেকে কেমন যেন জটিল আর গোলমেলে লাগছে ব্যাপারটা।
ব্যাপারটার এখানেই শেষ করা ওরা চলে যাচ্ছিল অন্যত্র, এমন সময় চাকর এসে একটি চিঠি দিল এডওয়ার্ডের হাতে। চিঠিখানা ক্যাপ্টেনের। ক্যাপ্টেন লিখছে অবশেষে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটা কাজ সে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। কাজটা হলো কোনও ধনীর বাড়িতে থেকে তাকে সঙ্গ দান করা ও তাকে খুশি করা।
এডওয়ার্ড চিঠিখানা শার্লোতকে দেখিয়ে বলল, দেখছ আমার বন্ধু কি রকম দারুণ দুরবস্থায় পড়েছে। এর পরেও তুমি চুপ করে থাকতে পার শার্লোতে?
শার্লোতে বলল, মিটলার ঠিকই বলেছে, এসব ব্যাপারে আগে থেকে কিছু বলা যায় না। ভালো ব্যবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়, আর খারাপ ব্যবস্থাও ভালো ফল লাভ করে। সুতরাং অনেক সময় আমাদের অন্ধকারে লাফ দিতেই হবে। আজ তোমাকে বাধা দেবার কোনও শক্তি বা যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না আমি। তুমি ওঁকে আসতে লিখে দাও। তবে এখানে যে খুব বেশিদিন উনি না থাকেন। অবশ্য আমিও ওঁর পক্ষ থেকে একটা সন্তোষজনক ভালো কাজের জন্য চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে আনন্দের সঙ্গে একমত হয়ে এডওয়ার্ড চিঠি লিখতে শুরু করল তার বন্ধুকে। তার লেখা শেষ হলে সেই চিঠিতে নিজের দিকে শার্লোতে দু কলম লিখে দিল। সৌজনের খাতিরে আসতে আহ্বান জানাল স্বামীর বন্ধুকে।
এডওয়ার্ড চিঠিটা বন্ধুকে পাঠিয়ে দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। সঙ্গে সঙ্গে শার্লোতকে অনুরোধ করল ওতিলেকে আনার জন্য। সন্ধ্যা হতেই সেদিন ওদের দ্বৈত গান-বাজনার আসর বসল। শার্লোতে পিয়ানো বাজাতে লাগল আর এডওয়ার্ড বাজাতে লাগল বাঁশি। মাঝে মাঝে বাঁশি বাজায় এডওয়ার্ড। কিন্তু তার স্বাভাবিক চঞ্চলতার জন্য ভালোভাবে শিখতে পারেনি। তবু তার সঙ্গে তাল রেখে একমাত্র শার্লোতেই পিয়ানো বাজিয়ে চলে ধৈর্য ধরে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
অবশেষে যার জন্য এত কাণ্ড সেই ক্যাপ্টেন এসে গেল। আসার আগে একটা চিঠি দিয়েছিল এডওয়ার্ডকে। চিঠিখানি এমনই চিন্তাপূর্ণ এবং সুলিখিত যে তা দেখে আশ্বস্ত হয় শালোর্তে। সে চিঠিতে একদিকে ক্যাপ্টেন নিজের অবস্থার কথাটা আশ্চর্য স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যক্ত করে তেমনি বন্ধুদের প্রতি তার মনোভাবটাও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।
দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই বন্ধুতে প্রচুর কথাবার্তা হলো। বেশ কিছুদিন পর দেখা হলো। সুতরাং কথাবার্তার কিছু উচ্ছ্বাস থাকবেই। সন্ধের দিকে শার্লোতে বেড়াবার ব্যবস্থা করল। নূতন বাড়ির বাগানে বেড়াতে যাবে ওরা। জায়গাটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে খুব পছন্দ হয়ে গেল ক্যাপ্টেনের। এ বাগানের প্রতিটি গাছ, প্রতিটি জায়গা খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।
