নির্জন বনভূমির মাঝে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম আমি
অথচ কোনও কারণ ছিল না, বিশেষ কোনও কিছু চাইছিলাম না।
একটা ছায়াঘেরা কুঞ্জে ছোট্ট ফুল দেখছিলাম আমি,
সন্ধ্যাতারার মতো জ্বল জ্বল করছিল ফুলটা, যেন
একজোড়া সুন্দর চোখ চেয়ে আছে আমাদের পানে উজ্জ্বলতম দৃষ্টিতে।
ফুলটা আমি ছিঁড়তে গেলে ফুলটা বলল আমায়,
আমাকে তুমি ছিঁড়ে ফেললেই তো শুকিয়ে যাব আমি।
আমি তখন শিকড় সমেত গোটা ফুল গাছটাকে উপড়ে
আমার সুন্দর বাগানে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিতাম।
সে জায়গাটাও বেশ নির্জন এবং গাছটাতে এখন ফুল ফোটে।
উৎস ও রূপান্তর (Selige Schnsucht)
Sagt es niemad, nur dine weisen
একথা একমাত্র বিজ্ঞ ছাড়া আর কাউকে বলো না,
কারণ সাধারণ মানুষ একথা শুনলে বিদ্রূপ করবে,
বিদ্রূপ করবে আমাকে যদি বলি আমি শুধু তাদেরই প্রশংসা করি।
যারা জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মরতে চায়।
মিটমিটে বাতিজুলা প্রেমঘন যে নিশীথে তোমার জন্ম হয়
যে নিশীথে তুমি জন্মদান করো তোমার সন্তানকে সেই নিশীথে
স্বল্পায়িত দীপালোকে কত আশঙ্কা ভিড় করে আসে আজ তোমার মনে।
তুমি কিন্তু এই নিশীথ রাত্রির ছায়ান্ধকারে বসে থাকতে চাও না,
তুমি চাও আরও উপরে উঠতে, তুমি চাও আরও উন্নত মিলন।
কোনও দূরত্ব অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে না তোমার পথে,
মোহমুগ্ধ উদভ্রান্তপ্রাণ পতঙ্গের মতো তুমি উড়ে যাও,
উড়ে যাও শুধু জ্বলে পুড়ে মরার জন্য।
আসল সত্যটা শেষ পর্যন্ত না জানা পর্যন্ত তোমার কোনও
রূপান্তর হয় না, কোনও পরিবর্তন হয় না,
এক বাঞ্ছিত অতিথির মতো ঘুরে বেড়াও এই অপরিচিত পৃথিবীতে।
কাব্য ও রূপাবয়ব (Lied and Gebilde)
Mag der Grieche Seinen ton
কোনও এক গ্রীক শিল্পীকে কাদামাটি দিয়ে একটি মূর্তি গড়তে দাও,
তার সেই শিল্পকর্ম থেকে যত খুশি আনন্দ পেতে দাও তাকে।
কিন্তু আমি যে আনন্দ পেতে চাই না, আমি ইউফ্রেতিস নদীতে
হাত ডুবিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়ে লাভ করব যত সব ক্ষণভঙ্গুর আনন্দ।
এইভাবে যখন শীতল হয়ে উঠবে আমার অন্তরাত্মার উত্তাপ
তখন আপনা থেকে গান বেরিয়ে আসবে আমার কণ্ঠ থেকে
সে গান কোনও কবির হাতে পড়লে নিরাবয়ব জলও হয়ে উঠবে মূর্ত।
ঐ দেখো প্রিয়তমা, ঐ দেখো সবুজ গাছের শাখায় কত ফল ঝুলছে,
ঝুলছে কত দিন ধরে আর যে শাখাগুলো তাদের কোলে আশ্রয় দিয়েছে
ফলগুলোকে সেই সব শাখারা শুধু হাওয়ায় দুলছে।
সকলের অলক্ষ্যে অগোচরে আমরা বাদামী অন্তরটা ঐ সব ফলের মতোই
ফুলে উঠেছে পেকে উঠেছে ভিতরে ভিতরে
সে অন্তর আমার বাতাসের স্পর্শ চায়, তার স্বর্গের মুখ দেখতে।
প্রাচীন বিজ্ঞদের উক্তি : আর্ষিক (Urworte, Orphich)।
Wie the dem Tag
নিয়তি
যেদিন তুমি প্রথম এই পৃথিবীতে এসেছিলে তখন গ্রহনক্ষত্ররা
যেভাবে দাঁড়িয়ে সূর্যকে অভিবাদন জানিয়েছিল সেইভাবেই জীবন
শুরু হয়েছে তোমার। সেই সব গ্রহনক্ষত্রদের অবস্থানজনিত
আইনের দ্বারা অনুশাসিত হচ্ছে তোমার জীবন।
সিবিন ও প্রাচীন ভবিষ্যদ্বক্তারা বলেছেন নিয়তির এই
অনুশাসন থেকে মুক্তির কোনও উপায় নেই। কোনও কাল কোনও শক্তি
তোমার জন্মদিনে গড়ে ওঠা ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন করতে পারবে না।
দৈব
তথাপি এক পরিবর্তনশীল শক্তি আমাদের কাছে কাছে থেকে
নিয়তির কঠোর বিচার ও অনুশাসনকে আনন্দে পরিণত করে তোলে
আমাদের। হে দৈব, তুমি একা থাকো না, মানুষের সমাজে থেকে
তুমি খাপ খাইয়ে নাও সবার সঙ্গে। জীবনে আমাদের
কোনও কোনও ঘটনা হয় অনুকূল, কোনও কোনও ঘটনা হয় প্রতিকূল।
আমরা কেউ কেউ ঘটনা নিয়ে পুতুলের মতো খেলা করি।
হে দৈব, তুমি হচ্ছ সেই আলোক শিখা যার পথ চেয়ে
বসে আছে আমাদের অসহায় জীবনের বাতিগুলো।
প্রেম
এই প্রেম কখনও মরে না, স্তব্ধ হয় না একেবারে।
মনে হয় এ প্রেম পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে যাবে আকাশ থেকে,
সমস্ত বসন্ত দিন জুড়ে আমাদের বুক ও মাথার চারদিকে উড়তে থাকে।
কখনও কখনও সে প্রেম জানিয়ে যায়, আমাদের দুঃখ দেয়,
কিন্তু একেবারে পালায় না, আবার ফিরে আসে আর তখন সকল বেদনার
অবসানে অফুরন্ত আনন্দের চঞ্চল আবেগে নিকম্পিত হয়ে ওঠে
আমাদের অন্তর। অনেক অন্তর অনেককে বিলিয়ে দেয় নিজেদের
কিন্তু যারা মহান তারা হয় এককেন্দ্রিকতায় অবিচল।
প্রয়োজন
আবার কেউ গ্রহনক্ষত্রের বিধান, নিয়তির অনুশাসন আর নিয়ন্ত্রণ।
আমাদের ইচ্ছারাও নিয়তির দাস, তারা যন্ত্রবৎ নিয়ন্ত্রিত হয়
নিয়তিজনিত প্রয়োজনের দ্বারা আমাদের স্বাধীন ইচ্ছার কোনও মূল্য নেই।
ফলে যা আমাদের অতি আকাক্ষিত, যা আমরা অন্তর দিয়ে
ভালোবাসি তাদের আমাদের অন্তরই প্রত্যাখ্যান
করতে বাধ্য হয় অবস্থার চাপে। তার ফল এই হয় যে
আমরা যারা নিজেদের স্বাধীন বলে মনে করি এবং সেই মতো চলি
তাদের অবস্থা হয়ে ওঠে আরও খারাপ, আরও দুঃখজনক।
আশা
আমাদের চারদিকে ঘিরে থাকা পিতলের নিচ্ছিদ্র দেওয়ালে
যে কঠিন দরজা আছে সে দরজার তালা খোলা যেতে পারে।
সুদুর প্রাচীনকাল হতে পাহাড়ের মতো অচল অটল
হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐ দেওয়াল আর দরজা
তার উপর সচল এক সত্তা অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
মেঘ বৃষ্টি আর কুয়াশার মধ্য দিয়ে আমাদের তুলে নেয় অনেক উপরে।
আমাদের উড়ে চলার পাখা দেয়।
শুভ্র সমুজ্জ্বল পদ্মের মতো শান্ত দীপালোক বা দূরাগত
নক্ষত্রালোকের মতো হৃদয় হতে বেরিয়ে আসে প্রেমের আলো।
প্রাচীন নার্সিসাস ফুল ফুটে ওঠে বাগানে। একমাত্র
এই ফুলই হয়ত জানে সে কার জন্য ফুটছে।
ক্রমে ধীরে ধীরে পদক্ষেপে নেমে আসছে সন্ধ্যার অন্ধকারে।
শান্ত আলোকচ্ছটা বিকীরণ করে সন্ধ্যাতারা ফুঠে উঠছে নির্জন আকাশে।
অন্ধকার আর সন্ধ্যা কুয়াশার বিলীন হয়ে যাচ্ছে অথবা
অস্পষ্ট দেখাচ্ছে সব কিছু। লেকের কালো জল অন্ধকারে
কালো হয়ে উঠছে আরও।
এবার দূর আকাশে চাঁদের আলো দেখতে পাচ্ছি
জলের ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছিপছিপে চেহারার
উইলো গাছের শাখাগুলো উড়ন্ত কুস্তলচূর্ণের মতো বাতাসে উড়ছে।
আর তাতে চাঁদের আলোটা কাঁপছে আর কম্পমান
সেই আলোছায়ায় খেলা দেখতে দেখতে অন্তরে এক
প্রশান্তি নেমে আসছে আবার যা আগে অনুভব করিনি কখনও।
কাইন্ডার্ড বাই চয়েস (উপন্যাস)
কাইন্ডার্ড বাই চয়েস (উপন্যাস)
প্রথম খণ্ড
প্রথম পরিচ্ছেদ
এডওয়ার্ড হচ্ছে জনৈক ব্যারন বা সামন্ত যুবকের নাম। এপ্রিলের কোনও এক বিকেলে সে তার ফুলবাগানে কাজ করছিল একা একা। তার কাজ শেষ হয়ে যেতেই বাগানের মালী তার কাছে এল। তাকে দেখে এডওয়ার্ড জিজ্ঞাসা করল, আমার স্ত্রী এখন কোথায়, তাকে দেখেছ?
