চিরায়ত সাহিত্যের এই উদার পটভূমিতেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করি আমি,
সবচেয়ে আনন্দ পাই, অতীত ও বর্তমান একযোগে কথা কয় যেন।
হোরেসের কথামতো এ গ্রন্থের পাতা উল্টে যাই আমি রোজ,
পাই নূতন নূতন আস্বাদন। কিন্তু সারারাত আমাকে কাটাতে হয়
আমার প্রিয়তমার নিবিড়তম সাহচর্যে, যে সঙ্গসুখে হয়ত কোনও
উপদেশ বা জ্ঞান অর্জন করি না, কিন্তু তাতে দ্বিগুণীকৃত হয়
আমার আনন্দের আবেগ। আমি যখন আমার প্রিয়তমার
মর্মরপ্রস্তুরসন্নিভ সুন্দর বক্ষস্থল আর নিতম্বের উপর হাত বুলিয়ে দেখি
তখনও আমি অনেক কিছু শিক্ষা পাই, অতীতের অসংখ্য সুন্দরী
নারীর সঙ্গে তাকে তুলনা করি, তার অঙ্গলাবণ্যের মেদুর স্পর্শে
আমি পাই এক অগ্রপ্রসারী অনুভবের ব্যাপকতা।
আমি তার আলিঙ্গনের নিবিড়তার মাঝে কবিতা লিখি,
আমার কবিতা সুন্দর হয়ে ওঠে তার দেহসৌন্দর্যের ছোঁয়ায়।
কখনও বা ঘুমিয়ে পড়ি তার বুকের উপর মাথা রেখে।
দিনের বেলায় আমার প্রিয়তমার সময় না হলেও সারাটি রাত
এইভাবে সঙ্গ ও সেবা দান করে চলে আমাকে সে।
দেখতে দেখতে গম্ভীর হয়ে আসে নিশীথ রাত্রি, ম্লান হয়ে আসে
আমার বাতির আলো, আর সেই রহস্যময় নৈশ অবকাশে
আমার মন চলে যায় প্রাচীন রোমের সুদূরে আর তখনি
সহসা মনে হয় আমার এই কালাত্তীর্ণ সুন্দর প্রিয়তমাই হয়ত বা
প্রাচীন রোমের সেই কর্মক্লান্ত ত্রয়ীশাসকদেরও সঙ্গ বা সেবা দান করত ঠিক এইভাবে।
রোমক শোকগাথা-২
Herbstilick lenchtet die Flamame
এই সাক্ষ্য আগুনের কাঠগুলো পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাবার আগেই
এসে হাজির হবে আমার প্রিয়তমা, বৎসরের অফুরাণ আনন্দের
উত্তাপে উত্তপ্ত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আমাদের সেই নৈশ মিলনকাল।
আমাদের সেই মিলনশয্যা ছেড়ে পরদিন সকালেই চলে যাবে।
আমার প্রিয়তমা, কিন্তু তার যাবার সময় নির্বাপিত অগ্নির
ভগ্নস্তূপে জ্বলে উঠবে আবার নতুন এক অগ্নিশিখা,
নির্বাপিতপ্রায় আনন্দাগ্নির প্রায়ান্ধ শীতলতায়
আবার জেগে উঠবে প্রাণমাতানো আনন্দের উত্তাপ আর উজ্জ্বলতা।
রোমক শোকগাথা-৩
Zunde min Eicht an knabe
বাতিটা জ্বালিয়ে দাও হে বালক, অবশ্য এখনও
দিনের আলো আছে, সন্ধে হতে এখনও আধঘণ্টা বাকি আছে,
বাড়িগুলোর ওধারে সূর্য ঢাকা পড়লেও পাহাড়গুলোর মাথা থেকে
এখনও সরে যায়নি সূর্যরশ্মি।
না না, জানালার কপাটগুলো এখনি বন্ধ করো না, শুধু
বাতিটা জ্বালিয়ে দাও, এখনি এই মুহূর্তে বাতি জ্বালাও
আমার প্রিয়তমা সন্ধে হলেই আজ এসে পড়বে।
হ্যাঁ, ঠিক সে আসবে, ইতিমধ্যে সে আমার বাতি,
রাত্রির উজ্জ্বল দূত, সে না আসা পর্যন্ত আমাকে সান্ত্বনা দেবে তুমি।
প্রিয়তমার সান্নিধ্য (Nahe des gellebten)
Ich denke deirm
সূর্যের আলো যখন চকচক করতে থাকে সমুদ্রের ঢেউ-এর উপর
তখন তোমার কথা মনে পড়ে, যখন ঝর্নার জলাধারায়
প্রতিবিম্বিত হয়ে ওঠে চাঁদের আলো, তখনও মনে পড়ে তোমার কথা।
ধূসর ধূলিজালে সমাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে যখন সুদূরের পথরেখা
তখন তার মধ্যে আমি তোমাকেই দেখি, আমি তোমায় দেখি
যখন গভীর নিশীথে সংকীর্ণ কোনও সাঁকোর উপর
কাঁপতে থাকে কোনও চলমান পথিক।
ক্ষুব্ধ গর্জনে যখন ফেটে পড়ে কোনও উত্তাল ঢেউ তখন
যত দূরেই থাকো না তুমি মনে হয় আমি তোমার কাছেই আছি,
মনে হয় আমি শুনতে পাচ্ছি তোমার কথা।
মাঝে মাঝে আমি চলে যাই নির্জন পথে, আর সুনিবিড় সুপ্রাচীন
স্তব্ধতার মাঝে আমি শুনতে পাই কত না-বলা কথা।
তুমি যত দূরেই থাকো না, আমি তোমার কাছে কাছেই থাকি,
তুমিও আমার কাছে কাছেই থাকো।
এখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে, একটু পরে তারা উঠবে আকাশে,
তারারা কিরণ দেবে আমাকে, যদি তুমি এখন এই মুহূর্তে
নেমে আসতে আমার কাছে, থাকতে আমার কাছেই।
পরিবর্তনের মাঝে পরিবর্তনীয় (Dauer in Wechsel)
Hiel ta diesen fruhemn Segen
হায়, মাত্র আর একটা ঘণ্টা যদি বাঁচিয়ে রাখতে
এই সৌন্দর্যের সজীব সমারোহকে। কিন্তু হায়,
নিদাঘের উত্তপ্ত ঝড় মুহূর্তে ঝরিয়ে দেবে সব ফুলগুলোকে।
ফুল ঝরে গেলেও গাছের যে সবুজ পাতাগুলো ছায়া দান
করবে আমার সেই সব পাতাদের দেখেও কিছু আনন্দ পাব আমি।
শরতে যখন এই সব পাতারাও বিবর্ণ হয়ে উঠবে তখন
আবার কোনও ঝড় এসে ঝরিয়ে দেবে ওদের।
যদি তুমি ফল পেতে চাও গাছ থেকে তাহলে দেরি করবে না।
তাড়াতাড়ি করো, কারণ এ ফল বেশিদিন থাকবে না,
পেকে গেলেই ঝরে পড়বে, আবার জন্মাবে নূতন ফল।
এ বন এ বাগান ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে ঋতুতে ঋতুতে।
এই সব গাছ স্নিগ্ধশ্যাম এক নূতন শ্রী নূতন শোভা ধারণ করে প্রতিটি বর্ষায়।
যেমন ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে নদীর জল, একই নদীতে
তুমি কখনই সাঁতার কাটতে পার না দুবার। শুধু নদী কেন,
তুমি নিজেও তো বদলে যাচ্ছ, যে সব সৌধ যে সব প্রাসাদ
একদিন পাহাড়ের মতোই অটল মনে হতো, তাদের রূপ আজ
বদলে যাচ্ছে তোমার পরিবর্তনশীল চোখের দৃষ্টিতে।
তোমার যে ওষ্ঠাধর একদিন চুম্বন স্পর্শে প্রাণবন্ত হয়ে উঠত,
তোমার যে পা একদিন পাহাড়ের উপর অটল
সাহসে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকত তারা আজ নেই।
যে হাত তোমার একদিন পরের কত উপকার করত।
মঙ্গল সাধন করত অকাতরে তা আজ নেই, এমন কি
তোমার দেহাবয়বও বদলে গেলে অনেকখানি।
এখন যেন তুমি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ, অন্য দেহ, অন্য মন।
এখন তোমার শুরু আর শেষ সব একাকার হয়ে যাক,
তুমি খুব দ্রুত, এইভাবে বদলে যাও, তবে কাব্যকলার
অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে ধন্যবাদ দাও। এই পরিবর্তনমান জগৎ ও জীবনের
মাঝে যা কিছু অপরিবর্তনীয়, যা কিছু অক্ষয় থাকে তুলে ধরে রাখেন তিনি
চিরসুন্দর করে রাখেন তিনি যুগ যুগ ধরে তোমার অন্তরাত্মাকে আনন্দ দান করার জন্য।
পেয়েছি (Gefunden)
Ict ging on walde
