মেফিস্টোফেলিস : একি হলো? আমার সারা গায়ে ফোঁড়া হচ্ছে কেন? আমার সত্তার শয়তানী অংশটা চলে গেছে। প্রেমের আক্রমণে আমার গা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। তবু আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমাদের।
দেবদূতরা : জ্যোতির্ময় গৌরবের আলোয় তুমি গৌরবান্বিত হও। তুমিও তোমার লক্ষ্যে উপনীত হও। এই বিশুদ্ধ বাতাসে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নাও। (তারা ফাউস্টের অমর আত্মাটা নিয়ে গেল)
মেফিস্টোফেলিস : যে আত্মাটা আমার লক্ষ্যবস্তু ছিল, ওরা তা নিয়ে গেল। আমাকে বোকা বানিয়ে আমার প্রাপ্য কেড়ে নিয়ে পালিয়ে গেল স্বর্গে। কার কাছে আমি ন্যায়বিচারের দাবি জানাব? আমার কষ্টার্জিত অধিকারকে আমায় ফিরিয়ে দেবে? এই নারকীয় ঘৃণা ও অপমার আমার প্রাপ্য। আমি অন্যায় করেছি। হীন কামনার দাস হয়ে আমি শয়তানের মতো কুপথে গিয়েছি। কিন্তু কি পেলাম তাতে?
সপ্তম দৃশ্য
গিরিগুহা ও বনভূমি
দেবদূতদের কোরাস : চারদিকে পাহাড় আর বন। ওদিকে একের পর এক সমুদ্রতরঙ্গ আঘাত হানছে। কিন্তু আমরা যেখানেই যাই সেখানেই প্রেমের মহিমা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
পেটার এসটেটিকাস : অসংখ্য অগ্নিশলাকা আমায় বিদ্ধ করছে। যেন পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে পার্থিব জীবনের যত সব মিথ্যা আর মায়া।
পেটার প্রেকান্ডিস : আমার চারদিকে গভীর শূন্য খাদ। তাদের গর্জন শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু প্রেমের অনন্ত শক্তিকে উদ্দীপিত হয়ে উঠছে আমার অন্তরাত্মা। হে ঈশ্বর, আমার অন্তরকে আলোকিত করো।
পেটার সেপারিটিকাস : যেন এক মেঘমালা পাইন গাছগুলোকে আচ্ছন্ন করে ফেলল।
স্বর্গীয় বালকদলের কোরাস : হে ঈশ্বর বলো, আমরা কোথায় আছি? আমরা যে সুখে বাস করছি সে সুখ যেন সকলেই পায়।
পেটার সেপারিটিকাস : হে বালকদল, তোমাদের পিতামাতারা তোমাদের অকালে হারালে দেবদূতরা তোমাদের নিয়ে আসে। এস আমার কাছে। এখানকার এই মনোহর দৃশ্য দেখো। গাছগুলোর তলা দিয়ে কেমন এক সুন্দর নদী বয়ে যাচ্ছে।
বালকদল : কিন্তু এ দৃশ্য অন্ধকার ও অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে আমাদের। হে পরম পিতা, এখান থেকে নিয়ে চলো আমাদের।
পেটার সেপারিটিকাস : আরও উপরে ওঠ। যত ঈশ্বরের কাছে যাবে ততই অনন্ত শান্তি অনুভব করবে। দেখতে পাবে পরম প্রেমের আলো।
বালকদলের কোরাস : (সর্বোচ্চ শিখরে উঠে) হাত ধরাধরি করে গান করো সকলে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে। এক পবিত্র অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে উঠছে আমাদের অন্তর।
দেবদূতরা : (ফাউস্টের অমর আত্মাকে নিয়ে এসে) হে মহান আত্মা, এখন তুমি চিরমুক্ত। আর কোনও পাপপ্রবৃত্তি আচ্ছন্ন করতে পারবে না তোমায়। যারা অক্লান্তভাবে উন্নতি চায়, ঊর্ধ্বগতি চায় তারা কখনও ব্যর্থ হয় না। তারা একদিন অবশ্যই পায় ঈশ্বরের আশীর্বাদ।
কোরাস মিস্টিকাস : এই বিশ্বের প্রতিটি ক্ষণভঙ্গুর প্রতীক হিসাবে কাজ করে। পৃথিবীর অন্তর্নিহিত অপূর্ণতার জন্য অসংখ্য ঘটনা ঘটে সেখানে। হে দেবদূতের আত্মারা, আমাদের বিশ্বাতীত ঊর্ধ্বলোকে নিয়ে চলো।
তরুণ দেবদূতগণ : গোলাপরাই আমাদের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে আমাদের জয়লাভে সহায়তা করে। আমরা ফাউস্টের মহান আত্মাটাকে লাভ করি। শয়তান ও অশুভ শক্তিগুলো পালিয়ে যায়। এমনকি শয়তানদের গুরুটাও পালায়। সেও প্রেমের বেদনা অনুভব করে। এখন আমাদের কাজ শেষ। আনন্দ করবার সময় এখন।
বয়স্ক দেবদূতগণ : মানুষের মন কোনও বস্তু একবার লাভ করলে তা ছাড়তে পারে না। কেউ ছাড়াতে পারে না। একমাত্র অনন্ত ঈশ্বরপ্রেম সে মনকে মুক্ত করতে পারে সব আসক্তি থেকে।
তরুণ দেবদূতগণ : অনেক উঁচুতে মেঘ আর কুয়াশার মতো পার্থিব দুঃখ-বিষাদ থেকে মুক্ত একদল স্বর্গীয় বালক আসছে। তারাই স্বর্গীয় বসন্তের সব সুষমাটুকু উপভোগ করছে। তারা ফাউস্টের আত্মাকে নিয়ে যাক।
স্বর্গীয় বালকদল : হ্যাঁ, আমরা বরণ করে নিচ্ছি তাকে। তার থেকে পার্থিব সত্তাটা খসে গেছে। এখন সে দিব্যজীবন লাভ করেছে।
ডাক্তার মিরিয়ানাম : আমার মুক্ত দৃষ্টি নিয়ে আমি দেখতে পাচ্ছি একদল নারীমূর্তি ঊর্ধ্বে উড়ে যাচ্ছে আর তাদের রানি হলেন স্বর্গলোকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁকে আমি চিনি। (আবেগের সঙ্গে) সে জগদীশ্বরী, আমাকে স্বর্গলোকে নিয়ে চলো। সুমতি ও সুচিন্তা দাও আমার মনে। যাতে তোমার সাক্ষাৎ লাভ করতে পারি তার জন্য সাহসের সঙ্গে তোমার সব আদেশ পালন করে চলি। হে জগন্মাতা, সর্বদেববন্দিতা, তোমার চারদিকে লঘু মেঘমালা ভেসে যাচ্ছে। অনুতপ্ত নারীদের আত্মা নতজানু হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করছে তোমার কাছে। তোমার প্রতি বিশ্বাস যাদের অগাধ তারা তোমার কৃপালাভ করে। কিন্তু মন যাদের হিংসায় ভরা তাদের ক্ষমা করা কঠিন। তাকে কেউ কখনও প্রতারিত করতে পারে না কোনওভাবে।
অনুতাপগ্রস্ত নারীদের কোরাস : হে দয়াবতী কৃপাময়ী দেবী, স্বর্গরাজ্যে ফিরে যাবার পথে আমাদের আকুল আবেদনে সাড়া দাও।
ম্যাগনা পেকাট্রিক্স : হে দেবী, স্বর্গের অধীশ্বরী, তোমার পুত্রের দেবোপম মূর্তির কাছে নতজানু হয়ে চোখের জলে আমরা আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের নরম কেশরাশির দ্বারা পা ধুইয়ে দেব তার।
মুলিয়ের সামারিতানা : যে কূপের পাশে আব্রাহাম একদিন মেষ চরাত, যে পাত্র একদিন আমাদের ত্রাণকর্তার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করেছিল, পুণ্যতোয়া যে প্রস্রবণের পবিত্র জলরাশির দ্বারা ধরিত্রী সুজলা সুফলা হয় আমরা তার নামে শপথ করছি।
