নেরেউস : আমার মেজাজ খারাপ করে দিও না। আমার হাতে এখন অনেক কাজ। আমি সমুদ্রদেবতা ডোরিয়েদদের অনুরোধে অনুকূল তরঙ্গ ও বাতাসে ভর করে এখানে এসেছি। এখানে যে সব সুন্দরী জলদেবী অলিম্পাসে আছে তাদের দেখতে পাবে না। তাদের দেহগুলো এত হালকা আর সুন্দর যে তারা ঢেউ-এর ঘোড়ায় চেপে খেলা করে। শুভ্র ফেনপুঞ্জের উপর শোভা পায়। এদের রানি গ্লেটিয়া হচ্ছে সবচেয়ে সুন্দরী। এখন তোমরা প্রোতিয়াসে চলে যাও। এখানে এক আশ্চর্য ভবিষ্যদ্বক্তা আছেন তার কাছে যাও। (সমুদ্রের মাঝে চলে গেল )।
থেলস্ : এখানে কিছু পেলাম না আমরা। প্রোতিয়াসে যিনি আছেন তিনি এমন সব কথা বলেন যা অর্থ কিছু বোঝা যায় না। যাই হোক, তোমার যখন পরামর্শ একান্তই দরকার তখন সেখানেই চলো। (উভয়ের প্রস্থান)
পাহাড়ের উপর থেকে সাইরেনরা।
সমুদ্রেরর ঢেউএর উপর কারা নাচছে? তাদের দেশে মনে হচ্ছে অনূকূল বাতাসে সাদা পাল তুলে ভেসে যাওয়া জাহাজ। ওরা হচ্ছে সমুদ্রকন্যা। আমরা ওদের কাছে যাব। ওদের রূপ দেখব, ওদের কথা শুনব।
নেরেউসরা ট্রিটানরা : আমরা হাতে করে যে দৈত্যাকার জীবদের নিয়ে আসছি তারা হচ্ছে এক ধরনের দেবতা। তোমরা গান গেয়ে তাদের তুষ্ট করো। অনেক ভালো। ফল পাবে।
সাইরেনরা : দেখতে আকারে ছোট, শক্তিতে বিরাট এই প্রাচীন দেবতারা সমুদ্ৰাঞ্চলে মানুষের উদ্ধারকর্তা।
নেরেউসরা : এদের বলে কাবিরি। আনন্দ করো। এদের কুপা লাভ করলে বিক্ষুব্ধ সমুদ্র শান্ত ও অনুকূল হয়।
সাইরেনরা : আমরা মেনে নিলাম তোমার কথা। কোনও জাহাজডুবি হলে তোমরা নাবিকদের উদ্ধার করো।
নেরেউসরা : তিনজন দেবতাকে আমরা এখানে এনেছি। আর একজন আসতে চাননি। অনেকে বলে তিনিই নাকি খাঁটি।
সাইরেনরা : দেবতায় দেবতায় ঝগড়া-মারামারি চলে। আমরা কিন্তু সব দেবতাকেই সম্মান করে চলব। কারণ তারা সব অশুভ শক্তির বিনাশ সাধন করেন।
নেরেউসরা : তাঁরা হলেন সংখ্যায় সাত।
সাইরেনরা : আর তিনজন কোথায়?
নেরেউসরা : একথা আমরা বলতে পারব না। অলিম্পাসে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। এই সব অতুলনীয় অদম্য দেবতারাও ক্ষুধায় জ্বলছেন। তারা আরও অনেক কিছু চান।
সাইরেনরা : আমাদের কাজ হলো সেই দেবতার উপাসনা করা যিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রিত করেন।
নেরেউস : এঁদের নিয়ে উৎসব করার মধ্যে আছে এক বিরাট গৌরব।
সাইরেনরা : অতীতের যত সব বীরেরা অনেক গৌরব যশ ও স্বর্ণসম্পদ লাভ করেছে। কিন্তু তারা কাবিরির মতো লক্ষ্মীদেবীকে লাভ করতে পারেনি।
হোমুনোলাস : এই সব বিকৃত চেহারার মেয়েগুলোর প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির পাত্র আছে। এদের পিছনে বৃথা ছুটে চলে কত বিজ্ঞ লোক মাথা ফাটিয়েছে।
থেলস্ : এটাই জগতের রীতি। টাকা যত পুরনো হয় ততই তার দাম বাড়ে। এইভাবেই মানুষ অভিজ্ঞতা লাভ করে।
প্রোতিয়াস : (দুর্নিরীক্ষা অবস্থায়) অজানিত বস্তুই বেশি সম্মান পায়।
থেলস্ : কোথায় তুমি প্রোতিয়াস?
প্রোতিয়াস : (কখনও কাছে কখনও দূরে) এই যে এখানে। এখানে।
থেলস্ : তুমি কোন মায়াময় স্থান থেকে কথা বলছ? এইভাবে বিভ্রান্তিকর কথা শুনে তোমার বন্ধুর সঙ্গে রসিকতা ও প্রতারণা করো না।
পোতিয়াস : (দূর থেকে) বিদায়।
থেলস্ : (হোমুনোলাসকে) উনি কাছে এসে গেছেন। এবার তুমি উজ্জ্বলভাবে জ্বলে ওঠ। উনি মাছের মতো পিচ্ছিল । যে কোনও আকারেই থাকুন আগুনের শিখা দেখলে এখানে এসে হাজির হবেন।
হোমুনোলাস : আলোর প্লাবন বইয়ে দেব। কিন্তু খুব ধীরে। তা না হলে কাঁচ ফেটে যাবে।
প্রোতিয়াস : (বিরাটকায় কচ্ছপের বেশে) কিসের এত আলো জ্বলছে?
থেলস্ : (হোমুনোলাসকে ঢেকে রেখে) দয়া করে একটু কাছে এস। দেখো। দয়া করে মানুষের আকার ধারণ করে আমাদের কথা শোনো।
প্রোতিয়াস : (ভালো মূর্তি ধারণ করে) তুমি কি ভালো কথা, জ্ঞানের কথা বলতে ভুলে গেছ?
থেলস্ : এখনও তুমি মানুষের আকার ধারণ করনি। (হোমুনোলাসকে বার করে) প্রোতিয়াস : এক উজ্জ্বল বামন! এ মূর্তি কখনও দেখিনি।
থেলস্ : সে তোমার পরামর্শ চায়। সে মানুষ হয়ে জন্মাতে চায়। সে এখন অর্ধজাত মাত্র। মানসিক সব গুণ ও উপাদান তার আছে। কিন্তু সে গুণ সে উপাদান বাস্তরে রূপ পাচ্ছে না। একমাত্র কাঁচের জারে ও আশ্রয় পেয়েছে। ওই তার আধার।
প্রোতিয়াস : তুমি হচ্ছ আসল কুমারীর পুত্রসন্তান। জন্মের আগেই তোমার মৃত্যু ঘটবে।
থেলস্ : (চুপি চুপি) আর একটি দিক দিয়ে বিপদ আছে। মনে হয় ও উভয়লিঙ্গ।
প্রোতিয়াস : তাহলে অচিরেই সাফল্য লাভ করবে। এখানে ওর জন্ম নিয়ে জল্পনা কল্পনা না করে ওকে এখনি মাঝ সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে কাজ শুরু করতে বলল। ধীরে ধীরে ও উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করবে।
হোমুনোলাস : এখানকার বাতাসটা বড় স্নিগ্ধ আর সুগন্ধি। আমার বড় ভালো লাগছে।
প্রোতিয়াস : যত দূরে যাবে ততই ভালো লাগবে আরও। ভাসতে ভাসতে আমার সঙ্গে এস দূর সমুদ্রে। ঢেউগুলো তোমার চারদিকে বয়ে যাবে। কিন্তু তোমার অগ্নিশিখা বা জ্যোতিকে ধ্বংস করতে পারবে না তারা।
থেলস্ : আমিও যাব।
হোমুনোলাস : কোনও অপদেবতার সহায়তায় তিনগুণ শক্তিশালী।
পঞ্চম রাত্রি
রোডসনিবাসী টেলশিনেরা
জল-অশ্ব ও ড্রাগনজাতীয় জলজন্তুদের কোরাস
প্রাচীন সমুদ্রদেবতার জন্য আমরা এক ত্রিশূল এনেছি যা দিয়ে জোভপ্রেরিত মেঘমালা বিদীর্ণকারী প্রমত্ত ঝঞ্ঝার প্রহারে উৎক্ষিপ্ত তরঙ্গরাশিকে শান্ত করব। এখন সমুদ্রদেবতা বজ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। সমুদ্রের গর্ভ থেকে ঢেউ-এর পর ঢেউ উঠছে। আমরা তবু স্বচ্ছন্দে ভেসে চলেছি। এই দ্বন্দ্বে সমুদ্রদেবতারই জয় হবে।
