ল্যামিরা : তাড়াতাড়ি ধরো ওকে। কই হে পাপাত্মা যাদুকর, আমাদের পিছু পিছু এস। পা টেনে টেনে চলছে। আমাদের সঙ্গ নিতে পারছে না। আমাদের ধরতে পারছে না।
মেফিস্টোফেলিস : কী অভিশপ্ত আমাদের ভাগ্য। সেই আদি পিতা আজকের আমল থেকে এই নারীজাতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আসছি আমরা। আমাদের যথেষ্ট বয়স বাড়লেও সে পরিমাণে জ্ঞান বাড়ে না। আমরা জানি ওদের মধ্যে কোনও বস্তু নেই। তবু বারবার ঠকে যাই ওদের কাছে। ওদের অর্ধনগ্ন দেহজ আর রংমাখা মুখ দেখে ভুলে যাই। ওরা স্বভাবতই দুর্বল, কোনও অঙ্গের উপর নির্ভর করা যায় না। সব জেনেও ওদের প্রতিটি কণ্ঠধ্বনিতে শুনি বাঁশির সুর আর তাতে নেচে উঠি আমরা।
ল্যামিরা : থামো থামো, ও ভাবছে। ওরা গতি শ্লথ হয়েছে। পিছন ফিরে দেখো, তা না হলে পালিয়ে যাবে।
মেফিস্টোফেলিস : (লম্বা লম্বা পা ফেলে) এগিয়ে চলো। যে সংশয় আমার শক্তিকে বিকল করে দিচ্ছে আমি তাকে প্রশ্রয় দেব না। শয়তান ডাইনিদের সহ্য করবে না তো করবে কাদের!
ল্যামিরা : আমাদের মধ্যে কাউকে ও ভালোবাসার জন্য বেছে নিতে পারে।
মেফিস্টোফেলিস : ধিক, কৃত্রিম সাজগোজের মধ্যেও সুন্দরী দেখাচ্ছে তোমাদের।
এমুলুসা : (ল্যামিদের কাছে এগিয়ে এসে আমাকেও তোমাদের দলে নাও। আমি তোমাদের সঙ্গে মিশবার যোগ্য।
ল্যামিরা : ও আমাদরে খেলার আনন্দ সব নষ্ট করে দেয়।
এমুলুসা (মেফিস্টোফেলিসকে) তোমার পায়ে ঘোড়ার ক্ষুর আর আমার পায়ে গাধার ক্ষুর। তবু তোমাকে ভালোই দেখাচ্ছে।
মেফিস্টোফেলিস : হে বিদেশিনী, আমি এটাই ভেবেছিলাম। আমি আমার আপনজন পেয়ে গেছি। হাংস থেকে হেলাস দ্বীপ পর্যন্ত ঘুরে এরকম অনেক আপনার লোক পেয়ে গেছি।
এমুলুসা : আমি অনেক রূপ পরিগ্রহ করতে পারি। তবু তোমার সম্মানার্থে বর্তমানে গাধার মাথা গ্রহণ করেছি।
মেফিস্টোফেলিস : আমি এখানে অনেক বড় ঘটনা আশা করছি। তবে যাই ঘটুক কেন, আমি এই গাধার মাথাওয়ালা মেয়েটিকে ছাড়ব না।
ল্যামিরা : ওকে ছেড়ে দাও, মেয়েটা কুৎসিত। ওর মধ্যে কোনও লালিত্য নেই। ও যেখানেই যায় সেখানকার সব সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়।
মেফিস্টোফেলিস : কিন্তু তোমাদেরও আমি ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হচ্ছে তোমাদের গোলাপী গালের সৌন্দর্যের অন্তরালে কোনও অসৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।
ল্যামিরা : কিন্তু খুঁজে দেখো, আমরা সংখ্যায় অনেক আছি। তোমার পকেটে পয়সা থাকলে ভালো জিনিসই পাবে। আমরা এক অদ্ভুত প্রেমিক চাই যে বিজ্ঞের মতো বড় বড় কথা বলবে এবং আমাদের মধ্যে একজনকে বেছে নেবে। পরে ধীরে ধীরে তার মুখোশ খুলে যাব আর স্বরূপটা বেরিয়ে পড়বে।
মেফিস্টোফেলিস : (একজনকে ধরে) সবচেয়ে সুন্দরী পেয়ে গেছি। …কী অপ্রত্যাশিতভাবে ঝাঁটা খেলাম। (অন্য একজনকে ধরে) কিন্তু এই মেয়েটা… না। কি কুৎসিত মুখ।
ল্যামিরা : নিজেকে এর থেকে সৌভাগের উপযুক্ত বলে ভেবো না কখনও।
মেফিস্টোফেলিস : ওই বেঁটে মেয়েটা আমার মনে ক্ষুধা জাগালেও টিকটিকির মতো আমার হাতের ফাঁক গলে গেল। ও এত ছোট। ওর এই মাথার চুলগুলো সাপের মতো কিলবিল করছিল। আবার ঐ লম্বা মেয়েটাও দেখতে খারাপ। এরপর? ঐ মোটা মেয়েটাকে ধরব। হয়ত ওর মাঝেই আমি পাব আকাক্ষিত আনন্দ। তুর্কীরা ঐ রকম মোটা মেয়ে চায়। কিন্তু হায়, ফাপা বলের মতো মেয়েটা ফেটে যাচ্ছে।
ল্যামিরা : চারদিকে ছড়িয়ে পড়, চক্রাকারে ঐ ডাইনির বেটাকে ঘিরে ধরো। ও আমাদের ব্যাপারে নাক গলাতে এসেছে। নিঃশব্দে উড়ে বেড়িয়ে ডানার ঝাঁপটা দাও। ও পালিয়ে যাচ্ছে।
মেফিস্টোফেলিস : আমি এখানে এসে বোকা বনে গেছি। উত্তরের থেকে এ জায়গাটা আরও খারাপ। আমি চেয়েছিলাম মুখোশ নৃত্যের এক সুন্দর নিটোল অনুষ্ঠান। কিন্তু তার বদলে দেখছি যত ভয়ঙ্কর ভূতুড়ে কাণ্ড। (পাহাড়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলল) আমি কোথায় আছি? কোথায় যাচ্ছি? সমতল পথের উপর দিয়ে আমি হাটছিলুম, হঠাৎ দেখি, সামনে পর্বতপুঞ্জ। বৃথাই আমি তাতে ওঠানামা করছি। পথ খুঁজে পাচ্ছি না। সেই স্ফিংক্সই বা কোথায়? এই রাত্রিটা কাটে কি করে?
পার্বত্য দেবতা ওরিয়াজ : এস আমার কাছে। আমার এই পাহাড় বহু প্রাচীন। আমার কাঁধের উপর মাথা রেখে একদিন পম্পে মৃত্যুবরণ করে। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ পাহাড় অদৃশ্য হয়ে যাবে কোথায়, কোন গহ্বরে নেমে যাবে, খুঁজেই পাবে না।
মেফিস্টোফেলিস : ওক গাছের মালা গলায় দেওয়া হে প্রধান, তোমাকে শ্রদ্ধা জানাই। স্বচ্ছ চাঁদের আলো পত্রাচ্ছন্ন অন্ধকারকে বিদীর্ণ করতে পারে না। হঠাৎ আমি ঝোঁপের মধ্যে এক উজ্জ্বল আলো দেখছি। মনে হয় নিশ্চয় ও হচ্ছে হোমুনোলাস। কোথা হতে আসছ হে স্বপ্নালু প্রেমিকমশাই?
হোমুনোলাস : এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় অনেক দূরে বেড়িয়েছি আমি অশান্ত চিত্তে। কিন্তু এতদিন ধরে কি পেলাম, কি দেখলাম! বস্তুর মধ্যে কোনও সত্যকে খুঁজে পাচ্ছি না। এই পথে আমি ছজন দার্শনিকের দেখা পাই। তারা প্রকৃতি প্রকৃতি বলে চিৎকার করছিল। আমি তাদের আঁকড়ে ধরে থাকব। তারা নিশ্চয় পার্থিব প্রকৃতির মধ্যে সত্যকে খুঁজে পেয়েছে। সেই সত্যকে আমিও জেনে আমি আমার পথ খুঁজে নেব, উপযুক্ত যুক্তির সঙ্গে নীতি খাড়া করব।
