জনৈক মহিলা : যৌবনের কি অমিত শক্তি আর উজ্জ্বলতা তার দেহে।
দ্বিতীয় মহিলা : সজীব ও সুপক্ক ফলের রসে পরিপূর্ণ যেন সে।
তৃতীয় মহিলা : তার ঠোঁটগুলো কী চমৎকার।
চতুর্থ মহিলা : এই ওষ্ঠাধরের মাধুর্য কে না উপভোগ করতে চায়।
পঞ্চম মহিলা : সে খুব সুন্দর, তবে কিছুটা অমার্জিত।
ষষ্ঠ মহিলা : আমার মতে আর একটু মার্জিত হলে ভালো হতো।
নাইট : তাকে দেখে মনে হচ্ছে এক রাখাল। রাজকীয় কোনও নিদর্শন নেই তার দেহে।
অন্য নাইট : অবশ্য যুবকের অর্ধনগ্ন দেহ খারাপ নয়। তবে তাকে যোদ্ধাবেশে দেখতে চাই আমরা।
মহিলা : কত শান্তভাবে সে আসন গ্রহণ করল।
নাইট : তার কোলটা তোমাদের কাছে এক পরম রমণীয় স্থান।
অন্য নাইট : তার মাথার উপর হাত তুলল সে।
প্রধান ভৃত্য : এটা ঠিক নয়। রাজকীয় আদব-কায়দা কিছু জানে না। সম্রাটের সামনে হাই তুলছে।
মহিলা : তোমরা শুধু সবেতেই দোষ ধরো। ও ভাবছে ও একা।
জনৈক লর্ড : এটা নাটক হলেও নাটকটা যথাযথভাবে দেখানো উচিত।
মহিলা : ধীরে ধীরে নিদ্রা এসে আচ্ছন্ন করছে সুন্দর যুবককে।
লর্ড : এবার হয়ত তার নাক ডাকবে।
জনৈক তরুণী : ধূপের ধোঁয়ার সঙ্গে কি এক মিষ্টি গন্ধ এসে আমার বুকের ভিতরটা আলোড়িত করে তুলছে।
জনৈকা বৃদ্ধা : এটা তার যৌবনের গন্ধ, আমাদের অনুভূতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে।
অন্য বৃদ্ধা : তার অম্লান যৌবনুকুসুমের সৌন্দর্য ও অমৃতরস সমস্ত পরিবেশটাকে মধুরভাবে আচ্ছন্ন করে তুলেছে। (হেলেন এগিয়ে এল)।
মেফিস্টোফেলিস : তাহলে উনি এলেন। কিন্তু আমার ঘুমের এতে কোনও আঘাত ঘটবে না। সে সুন্দরী হলেও তার সৌন্দর্য আমার কাম্য বা রুচিসম্মত নয়।
জ্যোতিষী : সত্যি কথা বলতে কি, আমার আর কিছু করার নেই। তার সৌন্দর্যদর্শনে গানের অফুরন্ত সুরে সুরে ভরে উঠেছে আমার অন্তর। আমি আমার জিব। দিয়ে সে সুরের আগুন যদি ছড়িয়ে দিতে পারতাম। তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলবে কোনও মানুষ। তাকে যে লাভ করেছে সে সত্যিই ভাগ্যবান।
ফাউস্ট : আমি কি চোখে এখনও দেখতে পাচ্ছি? আমার অস্তিত্ত্বের গভীরে সৌন্দর্যের এক প্রস্রবণ বয়ে যাচ্ছে প্রবল ধারায়। অনেক ভয়াবহ শূন্যতা পার হয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে আমি এই স্বর্গীয় বস্তুকে বয়ে এনেছি। আমাদের কল্পিত সেই সৌন্দর্যমূর্তি এখন যাদুর দ্বারা সঞ্চীবিত হয়ে উঠেছে। সে সুন্দরী, আমি আমার জীবনের সমস্ত শক্তি, আবেগ, কল্পনা, প্রমত্ত প্রেম, প্রীতি সব উৎসর্গ করলাম।
মেফিস্টোফেলিস : শান্ত হও,–তা না হলে তুমি তোমার ভূমিকায় ঠিকমতো অভিনয় করতে পারবে না।
বৃদ্ধা : বেশ লম্বা আর সুগঠিত চেহারা। তবে মাথাটা ছোট দেহের তুলনায়।
তরুণী : তার পায়ের পাতাটা কেমন ভারী দেখো।
কূটনীতিজ্ঞ : এমন রাজকন্যা আমি অনেক দেখেছি। তবে ও সত্যিই সর্বাঙ্গসুন্দরী।
সভাসদ : ঘুমন্ত যুবকের কাছে ও কেমন কৌশলে ও ধীরে গতিতে যাচ্ছে।
মহিলা : যুবকের পবিত্র যৌবনসৌন্দর্যের পাশে ওকে কত কুৎসিত দেখাচ্ছে।
কবি : ওর সৌন্দর্যের জ্যোতি ঘুমন্ত যুবকের সামনে উজ্জ্বল উষালোকরূপে প্রতিভাত হবে।
মহিলা : ওদের দেখে মনে হচ্ছে ওরা যেন এন্ডিমিয়ন আর চন্দ্রাদেবী।
কবি : ঠিক। মনে হচ্ছে দেবী যেন যুবকের উপর ঝুঁকে পড়ে তার সুগন্ধি নিশ্বাস ছাড়ছে। তাকে চুম্বন করছে।
ফাউস্ট : যুবকের প্রতি এতখানি আসক্তি তার ভালো নয়।
মেফিস্টোফেলিস : শান্ত হও। ওরা যা করে করতে দাও নীরবে।
সভাসদ : মেয়েটি হালকা পায়ে নিঃশব্দে সরে যেত। যুবকটি জেগে উঠল।
মহিলা : মেয়েটির চোখের সামনে তো কেউ নেই।
সভাসদ : মেয়েটি যুবকের কাছে যথোচিত আত্মসমর্পণ সহকারে আসছে।
মহিলা : ও যুবকটিকে ওঠাতে চাইছে। এমন অবস্থায় সব যুবকই হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। এখানে যুবকটি ধরে নিয়েছে সেই মেয়েটর প্রেম সে লাভ করেছে।
ভৃত্য : আমি যদি যুবকটির অবস্থায় পড়তাম।
সভাসদ: এ অবস্থায় কে পড়তে না চায়?
মহিলা : ঐ মূল্যবান নারীরত্ব কত হাত যে ফিরে এসেছে। তার জৌলুসও অনেকটা ক্ষয় হয়ে গেছে।
অন্য মহিলা : মেয়েটা দশ বছর বয়স থেকেই খারাপ হয়ে গেছে।
নাইট : যে যা বলুক, আমি যুবতীর সৌন্দর্যে বিমোহিত।
জনৈক পণ্ডিত : যদিও আমি চোখের সামনে স্পষ্ট করে তাকে দেখছি তথাপি সে সত্যিই হেলেন কি না তাতে সন্দেহ আছে। তবে সর্বত্র যা পড়েছি তা সত্যিই মনে হচ্ছে। ওর সৌন্দর্য ট্রয়বাসীদের একদিন মুক্ত করে এবং আমার দেহে যৌবন না থাকলেও আমাকে মুগ্ধ করছে।
জ্যোতিষী : এখন মনে হচ্ছে তরুণ বালক নয়, এক বলিষ্ঠ বীরপুরুষ তাকে ছড়িয়ে ধরছে। তাকে তুলে ফেলছে। তাকে বয়ে নিয়ে হয়ত পালাবে। তা দেখে কে আবেগ সংযত করতে পারে?
ফাউস্ট : হে হঠকারী নির্বোধ, তুমি সত্যিই পালিয়ে যাবে? তোমার সাহস হচ্ছে?
মেফিস্টোফেলিস : এই ভৌতিক নাটকের তুমিই অবতারণা করেছ।
জ্যোতিষী : আমরা আজ যা দেখেছি তাতে নাটকের নাম দেওয়া উচিত হেলেনার ধর্ষণ।
ফাউস্ট : ধর্ষণ? আমি এখানে রয়েছি না। আমার হাতে এই চাবিকাঠি এখনও জ্বলজ্বল করছে। এই চাবিকাঠি আমার জনহীন শূন্যতার মধ্য দিয়ে পথ দেখিয়ে এই অমূল্য সম্পদকে আনতে সাহায্য করেছে। কল্পনা আজ এখানে বাস্তবে পরিণত। অবশ্য দর্শকদের মনে কিছু অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। তবু বলব একদিন ওরা কত দূরে ছিল। আজ ওরা কত কাছে, কত সুন্দর। আমি এই সুন্দরী হেলেনাকে উদ্ধার করে চিরদিন আমার করে রাখব। হে আদি মাতৃদেবতারা! আমার চেষ্টাকে ফলবতী করে তোলো।
