মেফিস্টোফেলিস : এই কাজ কাগজের নোট এত হালকা এবং বহন করা এত সহজ যে মানুষ যে কোনও জায়গায় তা বহন করে নিয়ে গিয়ে যে কোনো বস্তু ক্রয় করতে পারবে। সে তার নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বা মূল্য সহজেই নিরূপণ করতে পারবে। তাকে আর কোনও পণ্যবস্তু কেনার সময় পণ্য বিনিময়ের ব্যাপারে দরকষাকষি করতে হবে না। এবার থেকে আপনার রাজ্যের দূর প্রান্তেও আপনি যে কোনও বস্তু বা অর্থ বা গয়নাপত্র পাঠাতে পারবেন অতি সহজে।
সম্রাট : তুমি আমাদের রাজ্যকে অনেক সমৃদ্ধি দান করেছ। তার উপযুক্ত পুরস্কার তোমাকে দান করা উচিত। রাজ্যের সমস্ত জমির রক্ষণাবেক্ষণের ভার তোমার উপর দিলাম। তুমি তা পরীক্ষা করে যেখানে বুঝবে কোনও গুপ্তধানে আছে সেখানেই সে জায়গা খননের আদেশ দিবে। এইভাবে সব গুপ্তধন মাটির অন্ধকার থেকে প্রকাশের আলোয় নিয়ে আসবে।
কোষাধ্যক্ষ : আমি এই যাদুকরকে আমার সঙ্গে নিলাম। আমাদের মধ্যে কোনওদিন কোনও বিবাদ দেখা দেবে না। (ফাউস্টের সঙ্গে প্রস্থান)
সম্রাট : এই রাজসভায় উপস্থিত প্রত্যেককেই আমি কিছু করে টাকা দেব। কিন্তু প্রত্যেককেই একে এক স্বীকার করতে হবে সে কি করবে সেই টাকা দিয়ে।
জনৈক ভৃত্য : (টাকা নিয়ে) আমি টাকা নিয়ে ভালো খাওয়া-দাওয়া করব। আনন্দ উপভোগ করব।
দ্বিতীয় ভৃত্য : আমি আমার প্রণয়িণীর জন্য কিছু উপহার কিনব। প্রধান ভৃত্য : আরও বেশি মদ কিনে গলাধঃকরণ করব আমি। অন্য ভৃত্য : আমার মনে হচ্ছে আমার পকেটে জুয়ার পাশা নড়াচড়া করছে। নাইট ব্যানিরেট : আমার বাড়ি ও জমি ঋণবন্ধক হতে মুক্ত হবে।
অন্য নাইট : আমার যা সম্পত্তি আছে তার উপর আরও কিছু বাড়াব।
সম্রাট : আমি আশা করেছিলাম টাকা পেয়ে তোমরা সবাই সৎ কাজে, বড় কাজে সে টাকা ব্যয় করবে। কিন্তু এখন দেখছি এতে তোমাদের কোনও উন্নতি হবে না। যে যেখানে ছিলে সেখানেই থাকবে।
ভাঁড় : (এগিয়ে এসে) সবাইকে টাকা দিচ্ছেন, আমাকে কিছু দিন।
সম্রাট : তুমি তো টাকা পেলেই মদ খাবে।
ভাঁড় : সবাই যাতে টাকা ঢালে আমি তাতে ঢালব না।
সম্রাট : এই নাও টাকা, কুড়িয়ে নাও। (প্রস্থান)
ভাঁড় : পাঁচ হাজার সোনার টাকা। কী অপ্রত্যাশিত।
মেফিস্টোফেলিস : আবার নূতন করে প্রাণ ফিরে পেলে।
ভাঁড় : আমার অবশ্য টাকা আছে, কিন্তু এত টাকা কখনও পাইনি এর আগে।
মেফিস্টোফেলিস : তুমি এত আনন্দ পেয়েছ যে তোমার দেহে ঘাম দিচ্ছে।
ভাঁড় : কিন্তু দেখ তো, এই নোট দিয়ে টাকার কাজ হবে তো? জায়গা-জমি, গবাদি পশু কেনা যাবে তো?
মেফিস্টোফেলিস : সব কিনতে পারবে।
ভাঁড় : আজই আমি কিছু জায়গা-জমি কিনব। আমি জমিদার হয়ে বসব। (প্রস্থান)
মেফিস্টোফেলিস : বোকা ভাড়ের যে বুদ্ধি আছে কে তাতে সন্দেহ করবে।
পঞ্চম দৃশ্য
কোনও এক অন্ধকার অলিন্দ
ফাউস্ট ও মেফিস্টোফেলিস
মেফিস্টোফেলিস : এই অন্ধকার অলিন্দে আমার কাছ থেকে কি চাও তুমি? সেই জনবহুল রাজসভায় অনেক কৌতুক করে আনন্দ লাভ করেছ।
ফাউস্ট : ওসব কথা বলো না, ওসব আনন্দ আমি চাই না। এখানে-সেখানে বৃথা ঘুরে বেড়িয়ে তুমি শুধু আমার দাবিটাকে এড়িয়ে গেছ। কিন্তু আমার মনে একটা জিনিসের জন্য শান্তি নেই। সম্রাট আদেশ দিয়েছেন হেলেন আর প্যারিসকে তাদের সেই প্রাচীন পোশাকে সজ্জিত করে এখানে হাজির করতে হবে। আমি কথা দিয়েছি আর সে শপথ ভাঙতে পারি না।
মেফিস্টোফেলিস : ভাবনা-চিন্তা না করে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া তোমার উচিত হয়নি।
ফাউস্ট : তুমি তোমার ঐন্দ্রজালিক অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা যখন প্রয়োগ করেছিলে তার পরিণামের কথা তুমি ভাবনি বন্ধু। তুমি তাদের ধনী করে তুলে সস্তায়। এখন সেই সব অলস ধনীদের আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করতে হবে।
মেফিস্টোফেলিস : তুমি ভেবেছ যেন প্রস্তুত হয়ে আছ। বলেছিলাম, তুমি খাড়াই পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছ। অনেক পাপকাজের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে। তুমি কি ভাবছ হেলেন তোমার ডাকে ঐ সব ভূতুড়ে কাগজের নোটের মতো সাড়া দেবে? আমি কোনও নির্দেশ এ বিষয়ে দেব না। তুমি তাদের দেখতে পারে না।
ফাউস্ট : ও সব পুরনো কথা ছেড়ে দাও। তুমি বড় হেঁয়ালি করা কথা বলো। তাতে কিছু বোঝা যায় না। পদে পদে সব কাজে তুমি বাধা দাও। তুমি বিড় বিড় করে একটি কথা বলমাত্র এই মুহূর্তে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে হেলেন।
মেফিস্টোফেলিস : এই সব অখ্রিস্টীয় নাস্তিকদের সঙ্গে আমারও কোনও সম্পর্ক নেই। তারা এখন নরকে বাস করছে। তবে একটা উপায় আছে।
ফাউস্ট : দেরি না করে বলে ফেল তাড়াতাড়ি।
মেফিস্টোফেলিস : অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি বড় রকমের একটা রহস্য উঘাটন করব। নির্জনতার নিভৃত কন্দরে দেবীরা বিরাজ করেন। তাঁদের চারদিকে স্থানকাল বলে কোনও জিনিস নেই। তাঁদের কাছে গিয়ে তোমার দুঃখের কথা বলবে। তাঁরা হলেন আদি মাতৃদেবতা।
ফাউস্ট : (ভীত হয়ে) আদি মাতৃদেবতা।
মেফিস্টোফেলিস : তুমি ভয় পাচ্ছ?
ফাউস্ট : মাতৃদেবতা–অদ্ভুত কথা তো!
মেফিস্টোফেলিস : হ্যাঁ অদ্ভুত কথাই বটে। তোমার মতো মরণশীল মানুষদের কাছে এইসব দেবদেবীর অপরিচিত ও অজানিত। তাঁদের কাছে পৌঁছতে হলে অনেক গভীর ডুব দিতে হবে। তোমার দোষের জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করতে হবে।
