(প্লুটাস রথ থেকে নেমে এলেন)।
প্রহরী : যেমন রাজার মতো উনি রথ হতে নেমে আসছেন। ওঁর সামান্য অঙ্গুলি হেলনে ড্রাগনগুলো সরে যাচ্ছে। এবার ওঁর পায়ের কাছে যে সোনাভর্তি সিন্দুকটা রয়েছে সেটা নিয়ে এস। সোনার সঙ্গে সঙ্গে অর্থলোভও বেড়ে যাবে।
প্লুটাস : (সারথিকে) তুমি এবার তোমার উপর একান্তভাবে ন্যস্ত বোঝাভার হতে মুক্ত। এখন তুমি তোমার আপন জগতে ফিরে যাও। এখানে যতসব বিকৃত জীবনের ছবি ভিড় করে আসছে চারদিকে। এমন কোনও নির্জন স্থানে চলে যাও তুমি যেখানে সৌন্দর্য এবং সততা অবাধে কাজ করে যায়। সেখানে গিয়ে তুমি তোমার নূতন জগৎ গড়ে তোলো। নূতন জীবন শুরু করো।
বালক সারথি : তাহলে আমার দৌত্যকার্যে আমি সফল হয়েছি। আমি আপনাকে আপন আত্মীয় ভাবতে ভালোবাসি। আপনি যেখানেই যান চারদিকে সম্পদের প্রাচুর্যে। ভরে যায়। আর আমি যেখানে যাই সেখানে আমাদের দুজনের মধ্যে মানুষ কাকে বেছে নেবে তাই নিয়ে সংশয়ের দোলায় দুলতে থাকে। আপনার না আমার কার কৃপা লাভ করবে তা ঠিক করতে না পারায় অসঙ্গতিতে ভরে ওঠে তাদের জীবন। আপনার অনুসরণকারীরা সাধারণত অলস হয় আর আমার অনুসরণকারী কর্মঠ হয়। আমি যা করি প্রকাশ্যেই করি। আমার কিছু গোপন থাকে না, কোনও কথা অব্যক্ত থাকে না। আপনি আমার যথেষ্ট সুখ ও সম্পদ দান করেছেন। আবার ডাকলেই আসব। এখন চলি। (প্রস্থান)
প্লুটাস : এবার সিন্দুকটা থেকে মূল্যবান ধাতুটাকে বার করতে হবে। প্রহরীর যাদুকাঠি দিয়ে সিন্দুকের তলায় আঘাত করলেই মুখটা খুলে যাবে। দেখো, দেখো, একটা লোহার কেটলিতে যেন গলন্ত সোনা জলের মতো ফুটছে, আর মুকুট আংটি প্রভৃতি যত সব অলঙ্কার ও মণি-মাণিক্য তাতে সব গলে যাচ্ছে।
জনতার চিৎকার : দেখো দেখো, সোনাগুলো সব গলে গিয়ে সিন্দুকটা উপরে পড়ছে। সব ফুটছে। সোনা-টাকা সব। আমাদের অন্তর লাফাচ্ছে। আমাদের কামনা বাসনাগুলো সব যেন ঘুরপাক খেতে খেতে গড়াগড়ি যাচ্ছে ধুলোয়। একটু থামো, ঠাণ্ডা হোক। সবাই পাবে। ধনী হয়ে যাবে। সিন্দুক খালি করে আমরা সব নিয়ে নেব।
প্রহরী : যতসব বোকা কোথাকার! কি ভাবছ তোমরা? তোমাদের কামনা বাসনাকে আজ সংযত করো। এ হচ্ছে উৎসবের মজা, এক বিভ্রান্তিকর মায়ার ছলনা। ভেবেছ এই সব সোনা তোমাদের দেব? এ হচ্ছে এক মজার ঠাট্টা। একটু পরে বুঝবে নগ্ন সত্য কাকে বলে। তোমাদের কাছে সত্যের কীই বা দাম আছে? যত সব মায়া চারদিকে ঘিরে আছে তোমাদের। হে মুখোশধারী স্বর্ণদেবতা প্লুটাস, আত্মপ্রকাশ করে এই জনতাকে অপসারিত করো।
প্লুটাস : তোমার যাদুকাঠিটাই এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সক্ষম। একবার দাও জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে নিই। দেখছ তোমরা। কাঠিটা কেমন গরম আগুন হয়ে উঠেছে। যে আমার কাছে আসছে তাকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারব। এবার আমি এই যাদুকাঠি নিয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াব।
জনতার চিৎকার : হায়, হায়! আমরা গেলাম। কোনও পরিত্রাণ নেই। পালাও পালাও। সরে যাও, পথ করে দাও। আমার চোখে আগুনের স্ফুলিঙ্গ লাগছে জ্বলন্ত যাদুকাঠিটা আমার ঘাড়ের ওপর পড়েছে। নির্বোধ জনতা পালাও। আমার পাখা থাকলে আমি উড়ে যেতাম।
প্লুটাস : আগুনের ভয়ে সব পালিয়ে গেছে। কেউ অবশ্য পোড়েনি। আর শান্তি শৃঙ্খলার জন্য একটি অদৃশ্য অংশ আমি বার করছি।
প্রহরী : আজ রাত্রিতে আপনি খুব একটা বড় কাজ করেছেন। আপনার জ্ঞান ও শক্তিমত্তার জন্য ধন্যবাদ।
প্লুটাস :ধৈর্য ধারণ করো বন্ধু। এখনও অনেক গোলমাল বাকি আছে।
অর্থলোভ : জনতার সামনে আছে নারীরা। আমার ইন্দ্রিয়চেতনা এখনও মরচেপড়া লোহার মতো ভোতা হয়ে যায়নি। সুন্দরী নারী আজও মোহ জাগায় আমার মনে। যেহেতু আজ কোনও টাকা-পয়সা লাগবে না, আজ আমি যে কোন নারীকে প্রেম নিবেদন করতে পারি। কিন্তু এই ভিড়ের মাঝে কেউ কারও কথা শুনতে পাবে না। তাই আমাকে মূকাভিনয়ের মাধ্যমে আমার কথা ব্যক্ত করতে হবে। শুধু অঙ্গভঙ্গির দ্বারা কাজ হবে না। আমাকে আর এক কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কাদার মতো একতাল গলা। সোনা আমি নিয়ে নেব, পরে ইচ্ছামতো সেটাকে যে কোনও রূপ দান করব।
প্রহরী : ঐ নির্বোধ অনশনক্লিষ্ট শীর্ণকায় লোকটা আবার কি মজা করছে? সে একতাল নরম সোনা দিয়ে সেটাকে ঘাঁটতে ঘাঁটতে মেয়েদের দিকে যাচ্ছে। আর মেয়েরা চিৎকার করতে করতে ছুটে পালাচ্ছে। মেয়েরা ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে তবু বোকাটা থামছে না। সকলের শালীনতা নষ্ট করেই যেন ও আনন্দ পাচ্ছে। আমি আর চুপ করে থাকতে পারছি না। আমার যাদুকাঠিটাও দাও, এর প্রতিবিধান করতে হবে।
প্লুটাস : ওকে এখন একা থাকতে দাও, বহিরাগত বিপদের আভাস এখনও পায়নি ওর নির্বুদ্ধিতার কাল শেষ হয়ে আসছে। আইনের অমোঘ বিধান ওকে মানতেই হবে।
গোলমাল ও গান : হে তুষারঝড়, দূর পর্বতশৃঙ্গ ও অরণ্যাচ্ছাদিত উপত্যকাপ্রদেশ হতে দুর্বার বেগে ছুটে এসে প্রমত্ত গর্জনে। ছুটে এসে নির্মম নিয়তির মতো। অবাধে প্রদর্শন করো তোমাদের অতিপ্রাকৃত শক্তির লীলা। তোমাদের গতিপথ কেউ নির্ণয় করতে পারে না আগে হতে।
প্লুটাস : আমি তোমাদের ও তোমাদের অতিপ্রাকৃত দেবতা পানকে চিনি। তোমাদের যথাকর্তব্য পালন করেছ। এখানে আরও অনেক বিস্ময়কর জিনিস ঘটার আছে। কিন্তু জনতা যে যেদিকে পেরেছে পালিয়ে গেছে। কারণ তাদের দূরদৃষ্টি নেই। সামনে কি আছে দেখতে জানে না।
