অ্যালেকটো : আমাদের বিশ্বাস করতে পারো তোমরা। আমরা সুন্দরী তরুণী। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ প্রেম করে আঘাত পাও তাহলে তার কানে আমরা এমন মন্ত্র দেব যাতে যে বলতে বাধ্য হবে তার প্রেমিকা একটা বাজে মেয়ে। আমার প্রেমিকাদের মনকেও আমরা বিষিয়ে দিতে পারি। এই তো এক হপ্তা আগে একজন প্রেমিক স্পষ্ট বলল, তার প্রেমিকা একটা ঘৃণ্য জীব। এইভাবে তাদের মধ্যে এনে দিই বিচ্ছেদ আর বিতৃষ্ণা। জোড়াতালি দিয়ে মিলন হলেও ঝগড়া লেগেই আছে।
থেগ্নেরা : বিবাহের বন্ধনে প্রেমিকারা একবার আবদ্ধ হলেই আমি চলে যাই সেখানে। খেয়ালী মানুষের মনকে করে তুলি আরও খামখেয়ালী। সে তখন ভালোকে ছেড়ে আরও ভালো চায়। সূর্যের আলো আর তাপ ছেড়ে তুষারকে কামনা করে। এইভাবে সুখ ছেড়ে দুঃখকে ডেকে আনে জীবনে। এইভাবে আমি ক্ষতি ও ধ্বংসসাধন করে চলি মানুষের মধ্যে।
টিসফোনে : বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তি বিধান করাই হলো আমার কাজ। আমার একমাত্র কথা হলো প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা। আমার হাতে কোনও ক্ষমা নেই। আমি তাদের পানপত্রে বিষ ঢেলে মৃত্যু ও ধ্বংস ঘটাই।
প্রহরী : এখন দয়া করে সরে দাঁড়াও। এখন যারা আসছে তাদের সঙ্গে তোমাদের কোনও মিল নেই। একটা পাহাড়ের মতো জন্তু এগিয়ে আসছে জনতার মধ্যে। জন্তুটার মুখে সাপের মতো একটা গঁড়। তার পিঠের উপর একটা শীর্ণকায় মেয়ে বসে আছে। সেই মেয়েটার পিছনে এক সুদর্শন যুবাপুরুষ দাঁড়িয়ে আছে আর দুদিকে আছে দুটি মেয়ে। একটা বিমুখ আর একটা হর্ষোফুল্ল। একজন স্বাধীনতা চায় আর অন্যজন নিজেকে স্বাধীন মনে করে।
ভয় : যদিও এই উৎসব-রজনীতে চারদিকে ধূমায়িত মশাল আর বাতি জ্বলছে, যদিও উল্লাসে মত্ত দেখছি প্রতিটি মুখ তথাপি আজ এক অচ্ছেদ্য কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ। তোমরা সবাই এখন হাস্যস্পদভাবে আনন্দোন্মত্ত। কিন্তু বুঝছ না, তোমাদের প্রত্যেকেরই শত্রু আছে, নির্মম শত্রু ওৎ পেতে বসে আছে প্রত্যেকের জন্য। এখানে আমরা শত্রু-মিত্র সবাই সমান। সবাই আমার ক্ষতি করার জন্য ব্যস্ত। তবু আমি মুখোশের অন্তরালে প্রত্যেকের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারি। একজন আমায় হত্যা করতে চেয়েছিল। আমি বুঝতে পারায় সে এখন পালিয়ে গেছে। আমি পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যেদিকে পাই ঘুরে বেড়াই। তবে আমার মন থেকে ভয় আর যায় না।
আশা : হে আমার প্রিয় ভগিনীগণ, আমার অভিবাদন গ্রহণ করো। তোমরা এই নৃত্যানুষ্ঠানে যোগদান করলেও জানি তোমরা শুধু ভাবছ ভবিষ্যতের কথা। আমরা কিন্তু আজকের এই আলোকোজ্জ্বল উৎসব রাত্রিতে আমাদের আকাক্ষিত আনন্দ না পেলেও আশা ছাড়ি না। ভবিষ্যতে একদিন সে আনন্দ পাবই। জীবনে কোনও দুঃখই আমাদের হত্যোদ্যম করতে পারে না। আমরা শুধু আরো কিছু ভালোর জন্য সংগ্রাম করি, চেষ্টা করি। শ্রম আর বিশ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে আমাদের কর্মব্যস্ত জীবন। আমাদের কাম্য ধন আজ না পেলেও জীবনের একদিন পাবই।
বিজ্ঞতা : এই ভয় আর আশা হলো মানবজীবনের দুটি সবচেয়ে বড় শত্রু। আমি হচ্ছি তাদের প্রভু এবং তাদের একসূত্রে বেঁধে রাখি। আমি অনেকের জীবন চালনা করি। তাদের ধাপে ধাপে সৌভাগ্যের উচ্চ শিখরে নিয়ে যাই। সেখানে উজ্জ্বল এক জ্যোতির্মণ্ডলে পরিবৃত হয়ে জয়ের দেবী বসে আছেন।
শয়তান : তোমরা সবাই খারাপ। কোথায় জয়ের দেবী? সে ভেবেছে তার তুষারশুভ্র পাখা দিয়ে সারা পৃথিবী উড়ে বেড়াবে। ভেবেছে সব লোক তার দাস। কিন্তু যেখানে যে কোনও লোক লাভ করে খ্যাতি বা জয়ের গৌরব, আমি সেখানে ছুটে যাই। ছোটকে নিচু থেকে তোলা ও বড়কে উঁচু থেকে নামানোই আমার কাজ। বাঁকাকে সোজা ও সোজাকে বাঁকা করেই আনন্দ পাই আমি।
প্রহরী : হীন পথকুকুর কোথাকার! তোমাকে শায়েস্তা করছি দাঁড়াও। এই যে ডিমের মতো যে জিনিস গড়িয়ে যাচ্ছে টেবিল-এর থেকে, দুটো বাঁদরের মতো জীব বার হয়ে তোমাকে ঘায়েল করবে।
জনতা : চলে এস, এ নাচের আসরে থেকে আর লাভ নেই। যত ভূত এসে মাটি করে দিলে উৎসবটাকে। কি যেন আমার চুলের পাশ দিয়ে চলে গেল। কি যেন আমার পায়ের পাশ দিয়ে চলে গেল। আমি তাতে আঘাত না পেলেও দারুণ ভয় পেয়ে গেছি।
প্রহরী : যেহেতু আমি প্রহরী, এই আসরের শাস্তি অক্ষুণ্ণ রাখাই কাজ, আমি তাই অতন্দ্র দৃষ্টিতে লক্ষ্য রাখছি যাতে কোনও শয়তান এই আনন্দানুষ্ঠানে প্রবেশ করে তোমাদের সব উল্লাস নষ্ট করে না দেয়। যদিও আমি ভয় করি না কোনও কিছুতেই, তবু আমার মনে হয় কোনও ভূতুড়ে বস্তু প্রবেশ করেছে আমার তীক্ষ্ণদৃষ্টির সতর্কতা সত্ত্বেও। প্রথমে বামনের মতো এক জীব ঢোকে। পরে একটা বিরাট দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না। তোমরা দেখো কিছু বুঝতে পার কি না। চার-ঘোড়ায়। টানা এক আশ্চর্য রথে চেপে বালক আসছে। সে-রথের চারদিকে বিচিত্র বর্ণের নক্ষত্র কিরণ দিচ্ছে। সেগুলো ঠিক ম্যাজিক লণ্ঠনের মতো দেখাচ্ছে। এত শব্দ হচ্ছে সে রথের, অথচ জনতারা কেউ তা শুনতে পাচ্ছে না।
বালক সারথি : হে অশ্বগণ, থামো। আমার আদেশ, তোমাদের গতিবেগ সংযত করো। বল্পার নির্দেশ মেনে চলো। আমি নির্দেশ দিলেই আবার যাত্রা শুরু করবে। শোনো প্রহরী, তুমি এসে বলে দাও, এখানে খ্যাতিমান গৌরবময় কে কে আছে।
