অন্যান্য ফুলেরা : আমরা প্রকৃতির কন্যা। আমাদের উজ্জ্বল রূপ দেখে মুক্ত হয়ে ওঠে অজস্র মানুষের চক্ষু।
গোলাপের কুঁড়ি : যারা আমাদের প্রথম দেখতে পায় তারাই ভাগ্যবান। বসন্ত আসার সঙ্গে সঙ্গে গোলাপের কুঁড়িরা ফুটে ওঠে দিকে দিকে। কে এমন মনোহর দৃশ্য উপভোগ করতে না চায়? এইসব ফুলেদের দেশে এসে কে তার ইন্দ্রিয়ের দ্বারকে রুদ্ধ। ও সংযত করে রেখে দিতে পারে?
(সবুজ পাতা আর ঘাসের উপর ঝুড়ি নামিয়ে উদ্যানবালিকারা ।
তাদের দেখাতে লাগল)
মালীরা
(বাদ্যসহ গান)
ফুলের কুড়িগুলো কেমন ফুটে উঠেছ আপনা হতে;
সেই সব ফুল শোভা পাচ্ছে তোমাদের মাথায়
তাদের দেখে ফলের কথাও মনে পড়ে যাচ্ছে।
গোলাপ জাম, পীচ কত সব উজ্জ্বল ফলের মুখ
গোলাপ ফুল নিয়ে কবিতা লেখা যায়,
কিন্তু পাকা সুস্বাদু ফল খাওয়ার আনন্দ কম নয়।
ফুলের সঙ্গে পাকা ফল যেমন ভালো লাগে
তেমনি তোমাদের ফুল্লকুসুমিত যৌবনসৌন্দর্যের
সঙ্গে আমাদের মিলিত হতে দাও।
ফুল, পাতা, ফল, কুড়ি সব মিলিত
হোক একসঙ্গে।
(গান করতে করতে সকলে আপন ফুল-ফলের পশরা দেখাতে লাগল দর্শকদের)
মাতা ও কন্যা মাতা : হে কুমারী, তুমি যখন প্রথম ভূমিষ্ট হয়েছিলে তখনর তোমার দেহটা কত নরম আর তুলতুলে ছিল। তোমার গায়ের রংটা ছিল সাদা ধবধবে। আমি তোমাকে কত আদরের সঙ্গে পালন করতাম। ভাবতাম বড় হয়ে তুমি কোনও ধনী লোকের ছেলের প্রেমে পড়বে, তার স্ত্রী হবে। কিন্তু হায়, কত বছর বৃথাই কেটে গেল। কেউ তোমার প্রেমে পড়ল না। মাঝে মাঝে এক-একজন এসে নাচতে চায় তোমার সঙ্গে, আবার কেউ চকিত দৃষ্টি হানে তোমার দিকে। কিন্তু তোমার আপন প্রেমিক আজও খুঁজে পাওনি তুমি। কত উৎসবে ও নাচগানের আসরে নিয়ে গিয়েছি তোমার তোমার প্রেমিকের আশায়, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। হে সুন্দরী, দেখো কোনও মনের মানুষ পাও কি না।
(অন্যান্য সুন্দরী কুমারীরা সমবেত হলো খেলার ছলে)
কাঠুরিয়াগণ : তোমাদের আনন্দোৎসবে আমাদের যোগদান করতে দাও। আমরা গাছ কাটি। আমরা কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গাছ না কাটলে তোমরা শীতে জমে যেতে।
অলস ব্যক্তিরা : তোমরা হচ্ছ নির্বোধ। আমরা সুখী, কারণ আমাদের কোনও বোঝা বইতে হয় না। আমরা বাজার দিয়ে বেড়াতে যাই। সব সময় আনন্দ করে ঘুরে বেড়াই।
মাতাল : আজ আর কোনও বিষাদের কথা নয়। আজ শুধু গান আর আনন্দ। আজ আমি প্রাণ খুলে বলব মনের কথা। আমি গ্লাসের পর গ্লাস মদ খেয়ে যাই। গ্লাসের ইং ঠাং বাজনা শুনি। আমার স্ত্রী মদ খেতে কত নিষেধ করে। কত বকে আমায় তবু আমি মদ খেয়ে যাই। হোটেলের মালিক আমাদের মদ না দিলে মালিকপত্নী দেবে আর মালিকপত্নী না দিলে তার ঝি দেবে। আমরা সব সময় খুঁজে বেড়াই শুধু আনন্দ আর তামাশা। এখানেই আমায় এখন শুয়ে পড়তে দাও, কারণ আর আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।
কোরাস : সবাই আপন আপন আসনে বসে যত পার মদ খেয়ে যাও।
(প্রহরী প্রতিযোগী কবিদের আহ্বান জানাতেই গ্রামকবি, সভাকবি ও
চারণকবির দল এসে কয়েক ছত্র করে কবিতা বলেই চলে গেল) হাস্যরসের কবি : তোমরা জান কি, কি ধরনের কবিতা আমি ভালোবাসি? আমি যদি কবিতা পাঠ করি অথবা গান হিসাবে গাই তাহলে কেউ তা শুনতে চাইবে না।
(প্রহরী এবার গ্রীক পুরাণের চরিত্রদের ডাকল যারা আধুনিক কালেও তাদের মূল প্রকৃতি ও মনোহারিণী ক্ষমতা হারায়নি)
অ্যাগ্লাতা : বিবিধ গুণাবলিসহ বেঁচে থাকাই প্রকৃত বেঁচে থাকা। যারা তা পারে আমরা তাদের আশীর্বাদ করি। সুতরাং দানশীলতা প্রভৃতি গুণে ভূষিত করো নিজেদের।
হেজিমনিঃ গ্রহণকালেও উদার হবে।
ইউফোসিনে : তোমাদের চিন্তাও হবে মুক্ত এবং উদার।
অ্যাট্রপস : আমি সবচেয়ে বয়সে বড়। আমাকে সুতো কাটতে ডাকা হয়েছে। ডাকা হয়েছে জীবনের সুতো যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সেইদিন থেকে। সেইদিন থেকে প্রয়োজন হয়েছে চিন্তার আর ধ্যান-ধারণার। আমার হাত থেকে সুতোগুলো নিয়ে আরও সরু করো। যদি তোমরা শুধু আনন্দের পিছনে মত্ত হয়ে ছুটে চলো তাহলে বুঝে রাখবে, এই জীবনের সুতো অনন্তকাল ধরে প্রসারিত থাকবে না। তা একদিন ছিঁড়ে যাবেই।
ক্লোদো : মানুষ আমাদের আদিম পিতার কথা ঠিকমতো শোনেনি বলে আমাকে আগে কত আলগা পশম পরতে হয়েছে। কত সুখের স্বপ্ন ও আশার জাল বুনে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়েছে মানুষ। প্রথম প্রথম আমিও অনেক ভুলে করেছি। কিন্তু আজ আমি আত্মস্থ ও সংযত হয়ে এই স্থানটিকে বেছে নিয়েছি।
ল্যাচেনিস : আমার কাছে দক্ষতা ও কৌশলটাই বড় কথা। তাড়াতাড়ি করে কোনও কাজ খারাপ করতে চাই না আমি। কত সুতো আসছে। আমি সেগুলোকে ঠিকমতো জায়গায় স্থাপিত করি। এইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে আর আমি কালের সুতো দিয়ে এক অন্তহীন শৃঙখল বুনে চলেছি।
প্রহরী : এবার যারা আসছে তোমরা তাদের চিনতে পারবে না। তাদের নাম কোথাও শোনোনি ও পড়নি। তাদের দেখতে আপাতদৃষ্টিতে এমন ভালো যে দেখার সঙ্গে সঙ্গে সাদর অভ্যর্থনা না জানিয়ে পারবে না। তারা হচ্ছে রিপুর দল। সুন্দরী তরুণী। কিন্তু আলাপ-পরিচয় করলেই বুঝতে পারবে তাদের চরিত্র কেমন সাপের মতো কুটিল। তবে তারা ঘৃণ্য হলেও একটা গুণ আছে। আজ এই আনন্দের দিনেও অন্যান্যদের মতো তারা কোনও আনন্দ-উল্লাস বা যশ-মান চায় না। তারা শুধু দুঃখ চায়।
