জনৈক ডাইনি : ডাইনিদের নাচগানের আসরে অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়।
কৌতূহলী পথিক : বলল, কে সবচেয়ে কড়া আর জাঁকজমকপূর্ণ লোক? যে উদ্ধৃতভাবে হাঁটে, তার চলার মধ্যেই বোঝা যায় সে কত অহঙ্কারী।
প্রেতাত্মা : পরিষ্কার ও কর্দমাক্ত যে কোনও জলাশয় ও জলধারাতেই আমি মাছ ধরতে যা খেলা করতে ভালোবাসি। তেমনি দেখবে ধার্মিক লোকেরা শয়তানদের সঙ্গেও মেলামেশা করছে।
অন্য প্রেত : হ্যাঁ, ধার্মিক লোকেরা যে কোনও অবস্থা বা উপাদানের সঙ্গে খাইয়ে নিতে পারেন নিজেদের।
বিপদ : আমি সব সময় ভবিষ্যতের জয়ঢাক শুনতে পাই।
নৃত্যশিক্ষক : খোঁড়া পায়ে কেমন পা ফেলছে আর লাফাচ্ছে।
জনৈক সজ্জন ব্যক্তি : সাধারণ মানুষগুলো এমনই ইতর যে তারা লোক খুন করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে বিদ্রূপ করে আনন্দ পায়। তবে তারা আর্ফিয়াসের বাঁশির মতো নাচগানের দ্বারা বশীভূত হয়।
গোঁড়া ব্যক্তি : আমি কোনও সংশয় বা সমালোচনার দ্বারা মুগ্ধ হব না। শয়তানও যদি কোনও বিষয়ে নিশ্চিত এবং অটল থাকে আমি তাকে শ্রদ্ধা করি।
আদর্শবাদী : যে কল্পনা আমাকে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপিত করে মাঝে মাঝে তা অনিবারণীয়। কিন্তু আমি যা নিজেকে দেখছি আমি যদি তাই হই তাহলে কল্পনামুক্ত আমার সেই স্বরূপ খুবই খারাপ।
বস্তুবাদী : সব দেশেই এই ধরনের নাচগান ও হইহুল্লোড় হয়। এতে আমার ভীষণ বিরক্তি লাগে। এখানে এসে আমি বড় অস্বস্তি বোধ করছি। মনে হচ্ছে অশক্ত ভূমির উপর আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি।
অতিপ্রাকৃতবাদী : আমার তো এ নাটক দেখতে খুব ভালো লাগছে। এ নাটক আমাকে বেশই আনন্দ দান করেছে। অভিনেতাদের যোগ্যতার প্রশংসা করি। শয়তানদের মধ্যে থেকেও আমি ভালো আত্মা বেছে নিতে পারি।
সংশয়বাদী : যে অগ্নিশিখাকে তারা অনুসরণ করে চলেছে তার শেষ নেই। তাদের চলারও শেষ নেই। তারা ভাবছে তারা তাদের ঈপ্সিত সম্পদের রাজ্যে চলে এসেছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না শয়তান সংশয়ের সঙ্গে মিলেমিশে তাদের প্রতারিত করছে। আমি কিন্তু এখানে বেশ আনন্দে আছি।
বাদ্যকারদের নেতা : ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকার থেকে মাছি আর মশা ভালো গায়ক!
মঠাধ্যক্ষ; আমরা সর্বজীবে দয়ার নীতি প্রচার করি। তাহলে আমাদের পায়ে হেঁটে চলা উচিত নয়, আমাদের মাথা নিচে দিয়ে চলা উচিত।
অনভিজ্ঞ ব্যক্তি : নাচতে নাচতে আমাদের জুতো ছিঁড়ে গেছে। এখন আমরা খালি পায়ে হাঁটি।
জলজ আগাছা : জলাশয়ে আমাদের জন্ম। তবু আজ আমরা এখানে সমাজের বড় বড় লোকদের কাছে এসে পড়েছি।
কক্ষচ্যুত নক্ষত্র : আকাশ থেকে কক্ষচ্যুত হয়ে আমি পড়ে আছি এই ঘাসের উপর। হায় কে আমাকে স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে আবার।
স্কুলাঙ্গ ব্যক্তিরা : আমাদের জন্য একটু জায়গা করে দাও। চারদিকে শুধু মোটা লোক ঘাসগুলোকে মাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে।
পাক : হাতির ছানার মতো এখানে এস না তোমরা। পাক নিজেই একজন মোটা লোক।
এরিয়েনা : প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যকে পিছনে ফেলে মনকে পাখা করে আমার সঙ্গে শূন্য পথে চলে এস। আমি তোমাদের নিয়ে যাব গোলাপের সুন্দর পাহাড়ে।
অর্কেস্ট্রা : আমাদের মাথার উপর জমে থাকা মেঘ আর কুয়াশা এখন উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। চারদিকে বাতাস বইছে আর সে বাতাসে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে।
ত্রয়োবিংশ দৃশ্য
একটি দুর্দিন
প্রান্তর
ফাউস্ট। মেফিস্টোফেলিস
ফাউস্ট : দুঃখে হতাশায় অনেক হতভাগ্য লোক পৃথিবীতে খারাপ হয়ে যায়, কুপথে চলে যায়। ফলে অপরাধীদের মতো কারাগারে অশেষ দুঃখকষ্ট ভোগ করতে হয়। বিশ্বাসঘাতক ঘৃণ্য শয়তান কোথায়! তুমি তার ব্যাপারটা গোপন রেখেছ আমার কাছে। দাঁড়াও ওখানে। তোমার রোষকশায়িত রক্ষচক্ষু যত পার ঘোরাও। তোমার যত। শক্তি আছে তাই নিয়ে আমার সম্মুখীন হও। আমাকে যাত পার চাপ দাও। আমাকে কারাগারে আবদ্ধ করবে? আমাকে অশেষ দুঃখ দেবে? আমাকে শয়তানের হাতে সঁপে দেবে এবং হৃদয়হীন মানুষদের নিন্দার বলিতে পরিণত করবে? এতদিন তুমি আমাকে ভুলিয়ে রেখেছিলে বাজে চিন্তার দ্বারা। আমার প্রিয়তমার দুঃখকষ্টের কথা গোপন রেখেছিলে আমার কাছে। তার জন্য অসহায়ভাবে ধ্বংসের পথে নেমে যেতে হয় তাকে।
মেফিস্টোফেলিস : একা সেই শুধু কষ্ট পায়নি।
ফাউস্ট : কুকুর, ঘৃণ্য জার্নোয়ার কোথাকার! হে ঈশ্বর, এই ঘৃণা সরীসৃপটাকে আবার ওর প্রিয় কুকুররূপে পরিণত করো। ও একদিন কুকুররূপেই রাত্রিতে আমার পায়ের কাছে গড়াগড়ি যেত। ও যেন আবার আমার পায়ের কাছে ধুলোর উপর বুক দিয়ে শুয়ে থাকে আর আমি পা দিয়ে ওকে মাড়িয়ে দেব। এ দুঃখ প্রথম নয়। তার মানে যে দুঃখ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না সেই অকল্পনীয় অসহনীয় দুঃখের গভীরে পড়ে আরও অনেক মানুষ মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করবে। অথচ এই একটি মানুষের দুঃখ আমার মর্ম ভেদ করে আমার অস্থিমজ্জাকে কাঁপিয়ে তুলছে আর তুমি অজস্র মানুষের দুঃখে হাসছ?
মেফিস্টোফেলিস : এখন তোমরা আমরা সবাই বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছি। কেন তুমি মানুষ হয়ে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এসেছিলে যদি শেষ পর্যন্ত সে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে না পার? তুমি কি এসব সইতে না পেরে পালিয়ে যাবে? কিন্তু তুমি প্রথম আমাদের কাছে আসবে না আমরা তোমার কাছে যাব?
