মেফিস্টোফেলিস : হতে দাও। ও সব মায়ার সৃষ্টি। প্রাণহীন ঐন্দ্রজালিক প্রতিমা। এসব দেখা ভালো কথা নয়। ঐ সব প্রতিমার শূন্য দৃষ্টি মানুষের রক্ত হিমশীতল করে জমাট বাঁধিয়ে দেয়। মানুষ পাথর হয়ে যায়। মেদুসার গল্প তুমি জান।
ফাউস্ট : সত্যি করে বলছি, তার চোখগুলো দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনও মৃত নারীর চোখ, যে চোখ কোনও প্রিয়জন হাত দিয়ে বন্ধ করে দেয়নি। মনে হচ্ছিল তার ঐ বুকের উপর আমি কত সময় শুয়ে থেকেছি। তার পাশে কত বিশ্রাম, কত শান্তি লাভ করেছি আমি।
মেফিস্টোফেলিস : সব মায়া। ইন্দ্রজাল। এত অল্পেতে গলে যাও তুমি। তাকে দেখে যে কোনও লোক তার প্রিয়তমা ভাববে।
ফাউস্ট : তার প্রেমের আবেগে আমি এতদূর আবদ্ধ হয়ে পড়েছি যে তার চোখ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছিলাম না আমি। আর একটা আশ্চর্য এই যে তার গলার কাছে ছুরির ফলকের মতো একটা জিনিস দেখেছিলাম।
মেফিস্টোফেলিস : ঠিক ঠিক। লাল একটা দাগ আমিও দেখেছিলাম। তার কোনও পুরনো শত্রু তার মাথাটা কেটে দিয়েছে আর সেই মাথাটাকে তাকে হাতে করে বয়ে নিয়ে যেতে হবে। তুমি এখনও মায়ার জিনিস দেখতে চাও? এস আমার সঙ্গে। এই ছোট্ট পাহাড়টায় উঠে পড়। আমি যদি খুব একটা ভুল না দেখি তাহলে সেখানে দেখবে একটা থিয়েটার হচ্ছে। কি হচ্ছে?
রঙ্গমঞ্চের ভৃত্য : শীঘ্রই আবার শুরু হবে নূতন নাটক। সাতটি নাটকের শেষ নাটক। কোনও এক শৌখিন নাট্যকারের দ্বারা এ নাটক লিখিত। আমিও একজন শৌখিন নাট্যানুরাগীরূপেই যবনিকা উত্তোলন করছি।
মেফিস্টোফেলিস : তোমার সঙ্গে আমার ব্লকস্বার্গে দেখা হওয়াই ভাল, সেটাই তোমার উপযুক্ত স্থান।
দ্বাবিংশ দৃশ্য
ওয়ালপার্গিস রাত্রির স্বপ্ন
ওবেরণ ও টিটানিয়ার বিবাহ
বিরতি
ম্যানেজার : আজ তোমাদের বিশ্রাম। তোমাদের যন্ত্রপাতির আজ কোনও প্রয়োজন নেই। এক ধূসর পাহাড় আর কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকাই হবে আজকের দৃশ্যপট।
প্রহরী : এ বিয়ে হবে সোনার বিয়ে। এ বিয়ের জীবনকাল হবে পঞ্চাশ বছর। তবে যদি কোনও ঝগড়াঝাটি হয় তাহলে আমাকে সব সোনাদানা দিয়ে দাও।
ওবেরন : হে প্রেতাত্মাগণ, যদি তোমরা এখানে অবস্থান করো তাহলে তোমরা আনন্দোজ্জ্বল মূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করো। তোমরা দেখা দাও। পরীদের রাজা আর রানি আজ বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হলো।
পাক : পাক এসে গেছে। হালকা পায়ে যে নাচছে। তার সাথে এল আরও একশ জন। এসে তার আনন্দের অংশ গ্রহণ করো।
এরিয়েল : এরিয়েলের গান হচ্ছে স্বর্গের সুরধারার মতোই পবিত্র। তার কণ্ঠস্বর অতীব মধুর। তার মুখটা কুৎসিত হলেও সুন্দরীরা তার দ্বারা আকৃষ্ট হয়।
ওবেরন : বর-কনে যদি তার দাম্পত্য জীবনে প্রেম-ভালোবাসা চায় তাহলে আগে তাদের বিচ্ছেদ ভোগ করা উচিত।
টিউনিয়া : স্ত্রী যদি তার মেজাজ সংযত করা সত্ত্বেও তাকে অপমান করে তাহলে স্বামী উত্তর মেরুতে তার স্ত্রীকে বিষুবরেখায় রেখে এস।
অর্কেস্ট্রা : ঘাসের মাঝে লুকিয়ে থাকা সাপ-ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকারাই হলো আজকের গায়ক।
একক সঙ্গীত : আমাদের পথে পাখি ডাকছে। সাবানের ফেনার মতো বুদ্বুদ উঠছে তার কণ্ঠে। তার দুটো নাসারন্ধ্র দিয়ে গানের সুর বেরিয়ে আসছে।
প্রেতাত্মা প্রথম আকার ধারণ করল
মাকড়সা আর বিষাক্ত ব্যাঙের পা, ছোট ছোট পাখা–আমরা তাদের চিনি। ছোট্ট প্রাণী হলে কি হবে দেখে মনে হবে যেন ছোট্ট একটি কবিতা।
ছোট্ট একজোড়া বর-কনে
ছোট ছোট পা ফেলে যতই লাফাও না কেন শিশিরভেজা সুবাসিত বনপথের উপর দিয়ে, তোমরা কখনও শূন্যে উঠতে পারবে না।
কৌতূহলী পথিক : এটা কি কোনও মুখোশনৃত্যের নাটক? আমি কি দেখছি? হে ওবেরন, সুন্দরী নারীদের রাজা, তুমি রাত্রিকালে আমার স্বপ্নের মাঝে এস।
কোনও গোঁড়া রক্ষণশীল ব্যক্তি
আমি তো এর মাথামুণ্ড কিছুই বুঝছি না। গ্রীক নাটকের মতো শেষকালে কোনও দেবতার পরিবর্তে হয়ত আসবে কোনও শয়তান। সব সমস্যার হয়ত সমাধান করে দেবে।
উত্তরের শিল্পী : আমি কিন্তু কিছু কিছু বুঝতে পেরেছি এ নাটকের। আমি এখন ইতালি পরিভ্রমণের কথা ভাবছি।
বিশুদ্ধ ভাববাদী : হায়, দুর্ভাগ্যক্রমে আমি এখানে এসে পড়েছি। মানুষখেকো দৈত্যের মতো কী চীৎকার করছে। ডাইনিদের মধ্যে শুধু দুজন পাউডার মেখেছে।
তরুণী ডাইনি : এই পাউডারই জামার কাজ করছে আমার। আমি তাই নগ্ন হয়ে বসে আমি আমার ছাগলের উপরে।
ধাত্রী : যে কোনও মানুষের মনকে ঘুরিয়ে দেবার মতো কলাকৌশল আমাদের যথেষ্ট জানা আছে।
বাদ্যকারের নেতা : হে মাছি আর মশার দল, তোমরা যেন নগ্ন দেহের চারদিকে ঘিরে ধরো না। এখন ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকারাই গান করবে সময় বুঝে।
ভবিষ্যদ্বক্তা : (একদিকে তাকিয়ে) সুন্দর কনে হাতে পেলেই যুবকদের রক্ত ফুটে ওঠে টগবগ করে। তারা চায় সমস্ত সমাজ তাদের মনোমতো চলবে।
ভবিষ্যদ্বক্তা : (আর একদিকে তাকিয়ে) বাঁচাল প্রচারকদের গ্রাস করার জন্য পৃথিবী যদি এখনও মুখ না খোলে তাহলে আমি কেন এত তাড়াতাড়ি নরকে ঝাঁপ দেব?
জনৈক প্রেত : আমাদের দেখতে ছোট্ট পতঙ্গ মনে হলেও আমাদের পিতা হচ্ছে শয়তান। সুতরাং ইচ্ছা করলে আমরা যে কোনও সম্মানে ভূষিত করতে পারি নিজেদের।
অন্য প্রেত : ভিড়ের মধ্যে সব মানুষই নির্লজ্জের মতো বড়াই করো। বলে তারা নির্দোষ।
