পারভেনু : আমরাও তখন ভালো কাজ করেছি। কিন্তু এখন সে সব কিছু হচ্ছে না।
গ্রন্থকার : আজ ভালো বই কে পড়বে? আজকালকার লোকে ভালো বইকে বলে সেকেলে। আজকের যুবকরা বড় উদ্ধত এবং অমার্জিত।
মেফিস্টোফেলিস : (সহসা বুড়ো হয়ে গেল। আমার মনে হয় শেষ বিচারের দিন এসে গেছে। আমি শেষবারের মতো এসেছি এই ডাইনিদের পাহাড়ে। আমার। জীবনরূপ মদ্য হয়ে গেছে নিঃশেষিত। এবার পৃথিবীর শেষ।
হাক্সটার ডাইনি : শোনো হে ভদ্রলোক, এভাবে আমাকে উপেক্ষা করো না। এ সুযোগ নষ্ট হতে দিও না। আমার জিনিসপত্রগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখ। আমি বেশি কিছু সংগ্রহ করতে না পারলে ও আমার কাছে আছে অনেক বিরল বস্তু। আমার মতো এই দোকান পৃথিবীতে কোথাও পাবে না তুমি। এই দোকানে যে সব জিনিস আছে তার প্রত্যেকটি পৃথিবীর মানবজাতির কোনও না কোনও ক্ষতি সাধন করেছে। এখানে এমন কোনও ছুরি নেই যে কোনও মানুষের রক্তপাত ঘটায়নি। এমন কোনও কাপ নেই যা বিষ প্রয়োগের দ্বারা কারও না কারও মৃত্যু ঘটায়নি। এখানে এমন কোনও মণিমুক্তো নেই যা কোনও নারীকে বিপদাপন্ন করে তোলেনি। এমন কোনও তরবারি নেই যা পিছন থেকে কোনও প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেনি।
মেফিস্টোফেলিস : থামাও তোমার কথার কচকচি। এখনকার সময়টা ধরতে পারছ না। বুঝতে পারছ না কালের স্বরূপ। যা হয়ে গেছে গেছে। অতীতের কথা ছেড়ে দাও। নূতন কি জিনিস আছে বললো। একমাত্র নূতনত্ব দিয়েই আমাদের ভোলানো যায়।
ফাউস্ট : আমি যেন এই সব জিনিস দেখে ভুলে না যাই। এ রকম মেধা জীবনে কখনও দেখিনি আমি।
মেফিস্টোফেলিস : এই ঘূর্ণিটা উপরে উঠতে চাইছে। আর তার সঙ্গে তোমাকেও টেনে নেওয়া হচ্ছে।
ফাউস্ট : কিন্তু কে ও?
মেফিস্টোফেলিস : ওকে বিশেষভাবে দেখো। ওর নাম লিলিথ।
ফাউস্ট : কে সে?
মেফিস্টোফেলিস : ও হচ্ছে আদমের একমাত্র স্ত্রী। ওর মাথায় সুন্দর কেশপাশ আর তার বিন্যাস ও অলঙ্করণই হলো ওর একমাত্র লোভনীয় সৌন্দর্যসম্ভার। তাই দিয়েই ও অনেক যুবককে ফাঁদে ফেলে। আবার তাকে শীঘ্রই মুক্তি দেয়।
ফাউস্ট : ঐ যে ওরা দুজন–একজন বৃদ্ধ ও একজন যুবক–ওরা অনেকক্ষণ নেচেছে।
মেফিস্টোফেলিস : আজ রাতে কারও কোনও বিশ্রাম নেই। আজ বুড়ো-ছোকরা সর্বক্ষণ শুধু নাচবে। একবার হয়ে গেলে আবার নাচবে।
ফাউস্ট : (এক তরুণী ডাইনির সঙ্গে নাচতে নাচতে) একদিন আমি একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্নের মাঝে আমি একটি ফলন্ত আপেল গাছ দেখি। তাতে দুটি সুন্দর পাকা আপেল ছিল। আমি তার আবেদনে মুগ্ধ হয়ে গাছে উঠে পড়ি তৎক্ষণাৎ।
সুন্দরী ডাইনি : যে আপেল তুমি কামনা করেছিলে সে আপেল প্রথমে স্বর্গে জন্মায়। আজ আমি একথা জেনে খুব আনন্দ পেলাম যে এ আপেল আমার বাগানে এখন জন্মাচ্ছে।
মেফিস্টোফেলিস : (এক তরুণী ডাইনির সঙ্গে নাচতে নাচতে) একদিন একটা ভয়ঙ্কর অসুন্দর স্বপ্ন আমি দেখি। তাতে একটা ভাঙা গাছ দেখতে পাই। যাই হোক, আমি স্বপ্নে তাই দেখেছিলাম।
বুড়ি ডাইনি : আমি বুড়ো পা-ভাঙা নাইটকে আমার সাধ্যমতো সেবা ও সম্মান দান করলাম।
কোনও এক পুরুষ ডাইনি : তোমার সাহস তো কম নয়। তুমি কি জান না যে বাড়ির মালিক বা আশ্রয়দাতা আর অতিথির মর্যাদা এক নয়! অথচ তুমি তার সঙ্গে নাচছ।
সুন্দরী ডাইনি : ও তাহলে এসেছে কেন আমাদের এই নাচের আসরে?
ফাউস্ট : (নাচতে নাচতে) সব জায়গায় ওর উপর তোমরা কেন পড়ছ? অন্যেরা যখন নাচছে ও তখন তাদের নাচ দেখছে। ও আগে থেকে হয়তো ঠিক নাচতে পারে না। কিন্তু যদি তোমরা আগে যাও ও পিছনে যাবে অথবা তোমরা যদি চক্রকারে ঘুরে ঘুরে নাচ তাহলে ও ভালোই নাচবে। অবশ্য তোমরা যদি তার কথা শুনে চলো।
পুরুষ ডাইনি : এখনও তুমি এখানে রয়েছ? এমন কথা কখনও শুনিনি। এখনি চলে যাও। শয়তানরা কোনও ভালো কথা শুনতে চায় না। কোনও আইন-কানুন মানতে চায় না। আমরা সব নির্বুদ্ধিতাকে মন থেকে সরিয়ে মনটাকে পরিষ্কার করার জন্য কত ঝাঁট দিয়েছি।
সুন্দরী ডাইনি : আমাদের নাচের আসরে এভাবে বিরক্ত করো না আমাদের।
পুরুষ ডাইনি : শোনো প্রেতাত্মারা, আমি তোমাদের মুখের সামনে বলে দিচ্ছি, আমি তোমাদের কোনও আধিপত্য মানব না। আমার মন তা কখনও মানবে না আর সে আধিপত্য দেখাতেও চায় না।
(নাচ চলতে থাকে)
ফাউস্ট : এই সব আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে আমি কোনও চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করতে পারব না। তবু আমি আশা করি মৃত্যুর আগে আমি কবি আর শয়তানদের করায়ত্ত করব।
মেফিস্টোফেলিস : সে আবার জলের ধারে মাটির ঢিবির উপর বসবে। যখন জোকগুলো তার পায়ে ধরে রক্ত চুষতে থাকবে তখনই তার ঘাড় থেকে সব ভূত-প্রেত। নেমে যাবে। (ফাউস্টের নীচ শেষ হতে) যে সুন্দরী মেয়েটি নাচের সময় ভালো গান গাইছিল তাকে কেন ছাড়লে?
ফাউস্ট : নাচের সময় সে যখন গাইছিল তার মুখ থেকে তখন হঠাৎ একটা ইঁদুর বার হলো। এই কারণেই তাকে ত্যাগ করেছি।
মেফিস্টোফেলিস : ওটা কিছু নয়। এতে রাগ করার কিছু নেই। একটা ইঁদুর থেকে তোমার ভয় পাবার কিছু নেই। বিশেষ প্রেমের সময় ওসব দিকে কেউ নজর দেয় না। ওসব কথা কেউ ভাবে না।
ফাউস্ট : তারপর আমি দেখলাম–
মেফিস্টোফেলিস : কী দেখলে?
ফাউস্ট : মেফিন্তে, তুমি কি দেখেছ, একা একা একটি সুন্দরী মেয়ে মলিন ও বিষণ্ণ মুখে দূরে বসেছিল? মনে হচ্ছিল তার পায়ে যেন বেড়ি লাগানো ছিল। আমার মনে হচ্ছিল সে যেন আমার প্রিয়তমা মার্গারেট।
