(মাথা নত করে প্রসকে নমস্কার জানাল)
আলত্মেয়ার (জনান্তিকে) : এবার নাও। ও বুঝতে পেরে গেছে।
সীবেল : একটা আস্ত জুয়োচোর। মুখে-চোখে একটা তীক্ষ্ণ চাতুর্যের ভাব।
প্রসক্ : দাঁড়াও না। আমি ওকে দেখছি।
মফিস্টোফেলিস : কিছুক্ষণ আগে আমরা সুদক্ষ গায়কদের সমবেত কণ্ঠের মধুর গান শুনেছিলাম। সে গান আমরা ভালো করে আবার শুনতে চাই। সুগীত সে গানের সুরধারা আমাদের উপর আবার ঝরে পড়ুক।
প্রসক্ : আপনার কি তীর্থযাত্রী?
মফিস্টোফেলিস : না না, অবশ্য ধর্ম করার ইচ্ছা আমার অনেক বড়, কিন্তু ক্ষমতায় কুলোয় না।
আলতমেয়ার : আমাদের একটা গান শোনান।
মফিস্টোফেলিস : আপনারা যদি একান্তই চান, তবে ঠিক গান নয়, এমনি একটা সুরেলা ছড়া।
সীবেল : তবে যেন একেবারে নতুন ধরনের হয়।
মফিস্টোফেলিস : যে দেশ নিয়ত শুধু মদ, হান আর ঘুমে ভরা সেই সুন্দর স্পেন দেশ থেকে এইমাত্র ফিরে এসেছি আমরা।
গান
কোনও এক সময়ে এক রাজা রাজত্ব করত
তার এক বড় কালো রক্তচোষা গিরগিটি ছিল।
শোনো শোনো! গিরগিটি। কথাটার মানে বুঝেছ? তবে গিরগিটি আমার মতে বেশ পরিচ্ছন্ন অতিথি।
মফিস্টোফেলিস
কোনও এক সময়ে এক যে ছিল রাজা।
তার ছিল একটা বড় কালো গিরগিটি।
তাকে সে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসত;
সে ভালোবাসার কারণ কিছু বোঝাই যেত না।
রাজা একদিন তার দর্জিদের ডেকে বললেন,
ঐ ছেলেটার গায়ের মাপ নিয়ে একটা কোট বানাও।
ব্র্যান্ডার
তবে দেখো যেন দর্জি আবার খেয়ালশূখি মতো
কোনও ভুল না করে। মাপটা যেন ঠিক নেওয়া হয়।
কাপড়টা যেন ঠিকমতো ছাঁটা হয়
আর সেলাইটাও যেন ঠিকমতো হয়।
মফিস্টোফেলিস : এইভাবে দামী রেশমী আর মখমলের পোশাকে সাজানো হলো। তার কোটের উপর ফিতে ঝুলত। বুকে ছিল ক্রুশ চিহ্ন। সে লাভ করল মন্ত্রীর নাম এবং পদমর্যাদা। আর তার আত্মীয়-স্বজনেরা পরিণত হলো রাজদরবারের সভাসদবর্গে।
তারপর দেখা গেল, গিরগিটিগুলো রাজবাড়িতে যত্রতন্ত্র, শোবার ঘরে ও বিছানায় ঘুরে বেড়িয়ে রানি ও রানির সহচরীদের কামড়িয়ে রক্ত বার করে দিচ্ছে। কিন্তু রাজার ভয়ে তাদের গায়ে কারো হাত দেবার সাহস হলো না। কিন্তু আমাদের যদি তারা একবার কামড়ায় তাহলে আমরা তাদের পিষে মেরে ফেলব।
কোরাস
আমাদের যদি একবার তারা কামড়ায় তাহলে
তাদের পিষে মেরে ফেলব আমরা তৎক্ষণাৎ।
প্রসক্ : চমৎকার, খুব ভালো হয়েছে।
সীবেল : প্রত্যেকটা গিরগিটি যেন এমন রাজসম্মান লাভ করে।
ব্র্যান্ডার : তোমার আঙুল বাড়িয়ে এই ধরনের গিরগিটিদের মেরে ফেলো।
আলত্মেয়ার : স্বাধীনতা আর মদ দীর্ঘজীবী হোক।
মফিস্টোফেলিস : তোমাদের সঙ্গে মদ পান করা মানেই স্বাধীনতার অধিষ্ঠাত্রী দেবীর কাছে মদপন করা। অবশ্য তোমাদের যে মদ পান করতে দেখছি তা যদি ভালো হয়।
সীবেল : আবার সেই গান শোনাবে না আমাদের?
মফিস্টোফেলিস : আমার ভয় হচ্ছে বাড়িওয়ালা রেখে যাবে। তা না হলে দেখিয়ে দিতাম কিভাবে আপনাদের মতো সুযোগ্য অতিথিদের আনন্দ দান করতে হয়।
সীবেল : সে আনন্দ দান করো তুমি। বাড়িওয়ালা যা বলার আমাকে বলবে।
প্রসক্ : মদ ভালো হলে আমাদের কাছ থেকে প্রশংসাও পাবে প্রচুর। তবু নমুনা হিসাবে যা দেবে তা যেন খুব অল্প দিও না। কোনও মদ ভালো কি মন্দ তা যাচাই করতে হলে অনেকখানি খেয়ে দেখতে হবে।
আলত্মেয়ার : (স্বগত) রাইন থেকে আনা হয়েছে। আমি অবশ্য তা আগেই ভেবেছিলাম।
মফিস্টোফেলিস : আমাকে একপাত্র এনে দাও।
ব্র্যান্ডার : তা দিয়ে কি করবে? এ তো খুবই অল্প।
আলত্মেয়ার : ঐ অদুরে বাড়িওয়ালার যন্ত্রপাতির বাক্সটার মধ্যে আর এক বোতল আছে।
মফিস্টোফেলিস (পানপাত্র হাতে নিয়ে)
(প্রসকের প্রতি)
এখন তোমাদের কি ধরনের মদ পছন্দ সে-কথা বলো।
প্রসক্ : এ-কথার মানে? তোমার কাছে কি বিভিন্ন রকমের মদ আছে?
মফিস্টোফেলিস : তোমরা ইচ্ছামতো বাছাই করতে পার। মন ঠিক করে ফেলল।
আলত্মেয়ার : তুমি তো মদের কথা শুনেই তোমার হাতের চপটাকে চাটতে শুরু করে দিয়েছ?
প্রসক্ : ঠিক আছে। আমার পছন্দের কথা যদি বলো তাহলে আমাকে দিতে পার রেনিশ মদ। আমাদের পিতৃভুমিতেই এ মদ প্রচুর পাওয়া যাবে।
মফিস্টোফেলিস : (প্রসক্ যেখানে বসেছিল সেইখানে টেবিলের ধারে একটা ছিদ্র করে) আমাকে শীঘ্র একটু মোম দাও। এই বোতলের মুখটা ছিপির মতো আটকে দিতে হবে।
আলত্মেয়ার : এ যে দেখছি যাদুকরের ইন্দ্রজাল।
মফিস্টোফেলিস (ব্র্যান্ডারের প্রতি) : আর তুমি কি নেবে?
ব্র্যান্ডারে : আমি চাই শ্যাম্পেন। বেশ যেন উজ্জ্বল আর টাটকা হয়।
মেফিস্টোফেলিস : (টেবিলে আবার একটা ছিদ্র করল। ইতিমধ্যে একজন মোমের ছিপি দিয়ে বোতলের মুখগুলো বন্ধ করে দিল)
ব্র্যান্ডার : যা বিদেশী জিনিস, যা ভালো জিনিস তা হাতের কাছে সব সময় পাওয়া যায় না। আবার বিদেশী মানুষের থেকে বিদেশী ভালো জিনিসকে আমরা পছন্দ করি বেশি। দেখো, একজন জার্মান একজন ফরাসিকে কাছে পেয়ে সহ্য করতে পারে না; কিন্তু সে ফরাসি মদ খেতে খুব ভালোবাসে।
(মফিস্টোফেলিসকে তার আসনের দিকে আসতে দেখে)
সীবেল : আমার কথা যদি বলতে চাও, আমি টক মদ একেবারে পছন্দ করি না। আমার পাত্রে খুব মিষ্টি মদ ঢেলে দাও।
মফিস্টোফেলিস : অবশ্যই মিষ্টি মদে পানপাত্র ভরে উঠবে তোমার।
