শূন্যবদ্ধ সমাধিগহ্বর হতে তিনি কি
উঠে এসেছেন পুনরুজ্জীবিত হয়ে?
পুনরায় কি সমাসীন হয়েছেন তিনি
পূর্ণ গৌরবের আয়ত উন্নত আসনে?
পুনর্জন্মের গৌরবে আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে
কি তার এই অপ্রতাশিত নবজীবন?
কিন্তু আমরা এই মর্তভূমির অধিবাসী
তার দর্শনাভিলাষী একান্ত বিশ্বস্ত অনুচর হয়েও
কেন তাঁকে দেখতে পাচ্ছি না?
দেখা দাও হে প্রভু। আমরা কাঁদছি।
আমাদের অশ্রুসজল এই সকাতর প্রার্থনায় সাড়া দাও।
তোমার সন্দর্শনসুধাদানে ধন্য করো আমাদের।
দেবদূতগণের গান
সমস্ত নরকের পাপ আর দুর্নীতির গর্ভ
বিদীর্ণ করে বেরিয়ে এসে পুনরাবির্ভূত হয়েছেন খ্রিস্ট।
যতসব অবিশ্বাস আর সঙ্কীর্ণতার কারাগার ভেঙে
বেরিয়ে এস তোমরা!
স্বার্থসম্পৃক্ত আত্মার দুষিত গুহা থেকে তোমরা বেরিয়ে এস!
দীর্ণ-বিদীর্ণ করে ফেল সমস্ত অন্ধকার।
দিক দিগন্তে অনন্ত প্রসারিত হয়ে উঠেছে যে বিপুল আলোকতরঙ্গ
তাতে অবগাহন করো, অভিম্নত হও।
খ্রিস্টের প্রশস্তি গান করো।
অখণ্ড অন্তরের অনন্ত ব্যাকুলতা নিয়ে কামনা করো
সেই প্রেমঘন মূর্তিকে।
ভাই-এর মতো তার হাত ধরে খাওয়াও।
তাঁর উত্তরাধিকারীরূপে তার বাণী প্রচার করো।
মনে রেখো, আমাদের প্রভু এইখানেই আছেন
আমাদের কাছেই আছেন।
দ্বিতীয় দৃশ্য
নগরদ্বারের সম্মুখস্থ স্থান
(বিভিন্ন শ্রেণীর পথচারীদের আগমন)
কয়েকজন শিক্ষানবিশী : ওদিকে যাচ্ছ কেন তোমরা?
অন্যান্যরা : আজ আমরা শিকারির বাসভবনের দিকে যাচ্ছি।
অন্যান্যদের মধ্যে একজন : আমরা অদূরবর্তী ঐ নিচু জায়গায় অবস্থিত একটা কারখানায় যাচ্ছি।
প্রথম শিক্ষানবিশী : আমার মতে ট্রাভার্ন নদীতে তোমাদের যাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় শিক্ষানবিশী : কিন্তু যাই হোক, পথটা ভালো নয়।
অন্যান্যরা : কিন্তু তোমরা কোথায় যাবে?
চতুর্থ শিক্ষানবিশী : বার্গডফ পর্যন্ত যাবে? সেখানে গেলে প্রচুর আনন্দের খোরাক পাবে। কত উৎকৃষ্ট মদ আর সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে পাবে সেখানে। কত হাসিঠাট্টার উপকরণ যে আছে! আমার কথা বিশ্বাস করো।
পঞ্চম শিক্ষানবিশী : তোমার গোপন কথা কি আবার ফাঁস করে ফেলতে চাও? এই নিয়ে তিনবার হলো। খুব হয়েছে। আর বড়াই বা বাহাদুরী করতে হবে না। আমি আর সেখানে যাব না। ও সব হাসিঠাট্টা আর ভালো লাগে না আমার।
তরুণী ভৃত্য : না, না, আবার শহরে ফিরে যাব।
অন্য তরুণী : নিশ্চয় আবারা তাকে ঐ সব পপলার গাছের পাশে পাব।
প্রথম তরুণী : তাতে আমার কোনও সৌভাগ্য বৃদ্ধি হবে না, তা আমি বেশ জানি। তুমি তাকে পাবে এবং তারই সঙ্গে সর্বত্র ঘুরে বেড়াবে। তুমি হবে তারই নৃত্যের সহচরী কিন্তু তাতে কি যায় আসে?
অন্য তরুণী : সে নিশ্চয় একা নেই আজ। আমি তাকে বলতে শুনেছিলাম তার সঙ্গে থাকবে কোন কুঞ্চিতকেশা তরুণী।
জনৈক
ছাত্র : হা ভগবান, মেয়েগুলো কেমন হাঁটছে দেখো। আমরা তাদের বসে বসে দেখব। পুরনো কড়া মদ আর একটা পাইপ যদি পাই তাহলে রবিবারের উজ্জ্বল পোশাক পরিহিতা এই সব মেয়েদের দেখে বড় মজা পাই আমি।
জনৈক ভদ্র নগরবাসীর কন্যা : ঐ সব সুন্দর যুবকগুলোর কাণ্ড দেখো। আমি বলছি, সমাজে যখন ভদ্র পরিবারের মেয়েরা রয়েছে তখন ঐ সব নিম্নশ্রেণীর দাসী মেয়েদের পিছনে ছোটা ওদের পক্ষে সত্যিই লজ্জাজনক ব্যাপার।
দ্বিতীয় ছাত্র (প্রথম ছাত্রের উদ্দেশ্যে) : এত তাড়াতাড়ি যেও না বাছা! একজন সামনে, আর দুজন পিছনে। কী চমৎকার ঝকঝকে পোশাক পরেছে দেখো। ওদের মধ্যে একজন আবার প্রতিবেশিনী দেখছি। ও আমার হৃদয় কেড়ে নিয়েছে। তারা কোনও দিকে না তাকিয়ে এক কৃত্রিম ঔদাসিন্যে আত্মলীন হয়ে এগিয়ে চলেছে। তবু তারা আমাদের নিবেদিত প্রেমকে স্বীকার করে নেবে, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।
প্রথম
ছাত্র : না ভাই। তাদের গতিবিধি আমার কিন্তু ভালো লাগছে না। তাড়াতাড়ি করো। তা না হলে ওরা আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে কোথায় চলে যাবে। শনিবারে তাদের যে হাত সম্মার্জনী ধারণ করে গৃহমার্জনা করে, রবিবার সেই হাতই আদর প্রভৃতি নানারূপ শৃঙ্গারকার্যে থাকবে ব্যাপৃত।
জনৈক নাগরিক : নূতন পৌরপতিকে আমার তো মোটেই ভালো লাগে না। উনি ওঁর পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কোনও কাজ হয়নি। ওঁর অহঙ্কার শুধু দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। উনি আসার পর আমাদের শহরের কি কোনও উপকার বা উন্নতি হয়েছে? উন্নতি তো দূরের কথা শহরের অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। উনি শুধু আমাদের কাছ থেকে আগের থেকে আরও বেশি করে আনুগত্য আর কর চাইছেন আর আমরা তা অকাতরে দিচ্ছি।
ভিক্ষুকের গান : হে ভদ্রমহোদয়গণ এবং সুন্দরী নারীগণ! আপনাদের মুখমণ্ডল কত সুন্দর, আপনাদের পোশাক কত সুন্দর! একবার আমার দিকে তাকান। দেখুন আমার পক্ষে আপনাদের সাহায্য কতখানি প্রয়োজন। আপনারা ইচ্ছা করলেই আমার দুঃখ-দুর্দশার অনেকখানি লাঘব করতে পারেন। আপনাদের নিকট আমার আবেদন যেন ব্যর্থ না হয়। দেখবেন দানেতেই আছে প্রকৃত আনন্দ। আজ ছুটির দিন আপনারা যদি একটু দয়া করেন তাহলে সেটা আমার পক্ষে সত্যিই লাভজনক হবে।
অন্য একজন নাগরিক : রবিবার আমার মোটেই ভালো লাগে না। শুধু যুদ্ধের গল্প আর গল্প। সুদূর তুরস্কের কোথায় যুদ্ধ হচ্ছে, পৃথিবীর আর কোথায় কারা যুদ্ধ করছে, ঘরের মধ্যে জানালার ধারে বন্ধুদের সঙ্গে মদের গ্লাস হাতে বসে বসে শুধু সেই গল্প করে সময় কাটাতে হয়। আর মাঝে মাঝে নদীর উপর দিয়ে নিঃশব্দে যে সব জাহাজ চলে যায় তা দেখা। তারপর রাত্রিতে বাড়ি ফিরে গিয়ে নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়া।
