তাহলে দেখছি মেরিটাইম হিস্টোরির ট্যুরই জিতে গেলো, হাতের কাগজটা রেমির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল স্যাম।
এরপর আর কিছু না বলে ট্যুরে বেরিয়ে পড়লো ওরা। গাইডের নির্দেশনা পুরোপুরি অনুসরণ না করে নিজেদের মতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘুরার ফাঁকে ফাঁকে কিংস লিনের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ছবিও তুলে নিচ্ছে। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে নেলসন স্ট্রিটের মাঝপথে থাকা ধনু আকৃতির একটা প্রবেশমুখ চোখে পড়লো রেমির। প্রবেশমুখের পাশের প্রেক্যার্ডের লেখাটা দেখে রেমি বলল, ডেভিলস অ্যালি। হুমম, শয়তানের গলি। এর পিছনের গল্পটা ইচ্ছা হচ্ছে আমার।
স্যাম তার হাতের পুস্তিকাটা একবার ঘেটে দেখে বলল, এখানে এই ব্যাপারে কিছু লেখা নেই।
হয়তো ট্যুরের অন্ধকার অংশে লেখা আছে এটা। ডাইনি আর খুনীদের অংশে হয়তো।
ঠিক তখনই এক বৃদ্ধা মহিলা বেরিয়ে এলো ধনু আকৃতির গলির অপর পাশ থেকে। মহিলার হাতে থাকা লাঠিটা ঠকঠক করে কাঁপছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীরেই কালো পোশাক পরে রেখেছে মহিলা। বয়সের ভারে মহিলার কাঁধও কিছুটা ঝুলে গেছে। গলি থেকে বেরিয়ে স্যামদের দেখেই মহিলা সাইনবোর্ডের দিকে নির্দেশ করে বলে উঠলো, সে ওখানে আছে।
কে? ডেভিল? জিজ্ঞেস করলো রেমি।
হ্যাঁ। একদিন জাহাজে করে এসেছিলো এখানে। তখন এক বিশপের প্রতিনিধি পবিত্র জল ও প্রার্থনার মাধ্যমে থামিয়ে দেয় ওকে। ডেভিল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলো ঐ গলিতে। এখনো তার পায়ের ছাপ আছে ওখানে। এমনটাই কথিত আছে শুনেছি।
পুরোনো কিংবদন্তি শুনতে বেশ পছন্দ করে রেমি। তাই স্যামের দিকে তাকিয়ে বলল, চলো, গিয়ে একবার দেখে আসি।
মহিলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্যামও রেমিকে অনুসরণ করতে যাবে ঠিক তখনই বৃদ্ধা আবারো বলে উঠলো, কালো দানোর থেকে সাবধানে থাকবেন।
কালো কী?
দানো। নরকের লাল-চোখা নেকড়ে ওগুলো। অন্ধকার হলেই বেরিয়ে আসে ওগুলো। শুনেছি ওগুলো এখনো ডেভিলের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওখানে, বলে তাদের থেকে বিদায় নিয়ে উলটো দিকে পা বাড়ালো মহিলা। লাঠিতে ভর করে যেতে যেতে আরো কী কী যেন বলতে বলতে যাচ্ছে।
বৃদ্ধা চলে যেতেই রেমির দিকে ফিরে তাকালো স্যাম। রেমি এখন খোয়া পাথরে বিছানো রাস্তাটায় ডেভিলের পায়ের ছাপ খোঁজায় ব্যস্ত হয়ে আছে। সূর্যও ঐদিকে ডুবতে বসেছে। প্রকৃতিও ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যেতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ডেভিলের পায়ের ছাপ খোঁজাটা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
পেলে কিছু? কিছুক্ষণ খোঁজার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
না। কিছু না পেলেও গলির কয়েকটা ছবি ঠিকই তুলে নিলো রেমি।
এরপর আবারো পা বাড়ালো সামনের দিকে। দুটো খালি পার্কিং লটের ভিতরের রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ জেটি বরাবর এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। পানির ধার ধরে হাঁটতে হাঁটতে ম্যারিয়ট ওয়্যারহাউজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হাতে সময় থাকায় সেখানে মহানদী উজের ধারে বসে কিছুক্ষণ ড্রিংক করারও সিদ্ধান্ত নিলো। সবসময়ের মতো এবারও গিনিস পান করছে স্যাম। ধীরে ধীরে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই কুয়াশা জমতে শুরু করেছে নদীর ওপর। নাইজেলের সাথেও তাদের দেখা করার সময় ঘনিয়ে এসেছে প্রায়। তাই আর বেশিক্ষণ বসে না থেকে আবারো কাস্টম হাউজে ফিরে এলো ওরা।
অবশ্য নাইজেল এখনো তার টুর থেকে ফিরে আসেনি। তাই কাস্টম হাউজের সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে স্যাম ও রেমি। সন্ধ্যা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার ঘনত্বও বাড়তে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ঘড়িতে সময় দেখলো স্যাম। দেখা করার নির্ধারিত সময়ের প্রায় বিশ মিনিট পেরিয়ে গেছে। তাই সেলমার থেকে নাইজেলের ফোন নম্বর নিয়ে ভয়েস মেইল দিলো যে তারা কাস্টম হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। এভাবেই আরো দশ মিনিট অপেক্ষা করার যখন ভাবলো যে আজকের মতো ফিরে যাবে, তখনই দেখলো যে কুয়াশার ভিতর থেকে এক ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে তাদেরকে। তবে ছায়ামূর্তিটা নাইজেলের না, অন্য কারো।
আপনাদের কোনো সাহায্য করতে পারি? তাদের দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো লোকটা।
নাইজেল রিজওয়েলের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা।
আচ্ছা! শেষ টুর থেকে ফিরতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। যাই হোক, সে বলেছিলো যে কারো সাথে তার এখানে দেখা করার কথা। অপেক্ষা করুন। তবে।
ধন্যবাদ।
এরপর আর কিছু না বলে দরজার তালা খুলে বিল্ডিংর ভিতরে চলে গেলো লোকটা।
লোকটা চলে যেতেই রেমি তার শরীরের কোটটা ভালোভাবে জড়িয়ে নিয়ে বলল, আশা করছি লোকটা জলদিই চলে আসবে। ঠাণ্ডা বাড়ছে প্রচুর।
কিছুক্ষণ পরই আবার ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো লোকটা। দরজার তালা লাগিয়ে বিদায় নিতে যাবে, ঠিক তখনই স্যাম লোকটাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এক্সকিউজ মি, আপনি কি জানেন মি. রিজওয়েল লাস্ট কোন টু্যর নিয়ে বেড়িয়েছিলেন?
খুব সম্ভবত মেরটাইমের টুরে। এমনটাই জানতাম। দক্ষিণ জেটির ম্যারিয়ট ওয়্যারহাউজে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা টুরটার। ওখানে গিয়ে দেখতে পারেন আপনারা। টুরিস্টদের অনেকেই ডিনারের জন্য যায় ওখানে।
লোকটাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিতেই রেমি বলে উঠলো, কিন্তু আমরা তো কিছুক্ষণ আগেই ওখানে ছিলাম।
