চলো আবার ফিরে গিয়ে একবার খুঁজে দেখি, রেমিকে বলল স্যাম। যদি লোকটা ওখানে গিয়ে থাকে, তাহলে হয়তো কেউ না কেউ দেখে থাকবে তাকে।
আর যদি গিয়ে না থাকে?
তাহলে অন্যান্য জায়গায় খোঁজা শুরু করতে হবে।
কুয়াশার পরিমাণ আরো বাড়তে শুরু করেছে এখন। তাদের ওয়্যারহাউজের ক্যাফেতে গিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কুয়াশার কারণে এক হাত সামনেরও কিছু দেখা যাচ্ছে না আর। পানিতে ঢেউ তোলার শব্দ না থাকলে তারা বুঝতেই পারতো না যে তীরের দিকে একটা নৌকা এগিয়ে আসছে। এতই কুয়াশা যে স্ট্রিটল্যাম্পের আলোগুলোকেই একদম ম্রিয়মান দেখাচ্ছে।
ক্যাফেতে ঢুকেই চারপাশে তাকালো ওরা। নাইজেলকে দেখা যাচ্ছে না কোথাও। তবে তাদেরকে দেখে ক্যাফের পরিচারিকা এগিয়ে এসে বলল, কিছু ফেলে গিয়েছেন এখানে? একটু আগে এই মহিলাই সার্ভ করেছিলো তাদেরকে।
আসলে একজনকে খুঁজছি, বলল স্যাম। নাইজেল রিজওয়েল নামের টুর গাইডের সাথে পরিচয় আছে আপনার?
হ্যাঁ আছে, তবে আজ রাতে তার সাথে দেখা হয়নি আমার। যদিও তার একটা টুর ছিলো। তবে তার মেহমানদের কয়েকজন আছে এখানে। বলে জানালার পাশের টেবিলে বসে ওয়াইন খেতে থাকা দুই দম্পতির দিকে ইশারা করে দেখালো মহিলা। স্যাম মহিলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রেমির দিকে ফিরে বলল, আমি আবারো কল করছি লোকটাকে।
ওকে, আর আমি দম্পতিদের কাছে খোঁজ করে দেখি, বলে জানালার ধারে থাকা টেবিলটার দিকে পা বাড়ালো রেমি।
অন্যদিকে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে আবারো নাইজেল রিজওয়েলকে কল করলো স্যাম। বেশ কয়েকবার রিং বাজার পর অবশেষে অপর পাশ থেকে উত্তরে ভেসে এলো, হ্যালো?
মি. রিজওয়েল?
কে-আপনি কে বলছেন?
স্যাম ফার্গো। আমাদের সাথে দেখা করার কথা ছিলো আপনার। আপনি কোথায় এখন।
জবাবে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতাই ভেসে অপর পাশ থেকে, তারপর বলল, সাইলোতে… আ…আমার মনে হয় কেউ ছিনতাই করেছে আমাকে।
নাইজেলের কণ্ঠস্বরটা বেশ টাল-মাতাল লাগছে স্যামের কাছে। সাইলোট কোথায় জিজ্ঞেস করতে যাবে তখনই বীপ বীপ শব্দ ভেসে এলো ফোনের স্পিকার থেকে। লাইন কেটে গেছে। ফোন পকেটে রেখে আবারো ক্যাফের ভিতরে ঢুকলো স্যাম। রেমি এখনোও নাইজেলের টু্যরে থাকা অতিথিদের সাথে কথা বলছে। সেও ঐদিকে এগিয়ে যেতে যাবে, তখনই পরিচারিকাকে কাউন্টারে কাছে ফিরে যেতে দেখে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এখানে সাইলো খুঁজে পাওয়া যাবে কোথায়?
সাইলো? ওগুলো তো আর নেই এখন।
নেই মানে?
কয়েক বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে ওগুলো। কেন?
যদি কেউ বলে যে সে সাইলোতে আছে, তাহলে জায়গাটা কোথায় হতে পারে?
ঐদিকের রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই পাবেন, বলে দক্ষিণের রাস্ত টার দিকে দেখালো মহিলা। ওদিকে গেলেই চোখে পড়বে। ওখানের লটগুলো এখনো খালিই হয়ে আছে।
স্যাম বুঝতে পারলো যে মহিলা আসলে ডেভিলস অ্যালির পাশে থাকা শূন্য লটগুলোর কথা বুঝাচ্ছে। রেমি ফিরে আসতেই মহিলাকে বিদায় জানিয়ে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে এলো স্যাম। মহিলার নির্দেশ করা রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে যেতে রেমিকে বলল, নাইজেলের কিছু একটা হয়েছে। লোকটা বলছে। তার থেকে নাকি ছিনতাই করেছে কেউ।
পুলিশকে জানিয়েছে?
জানি না আমি। তুমি কিছু জানতে পারলে?
তেমন কিছু না। ক্যাফেতে একবার এসেছিলো ঠিকই, তবে বেশ তাড়াহুড়োয় ছিলো নাকি।
আর কিছু না বলে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো স্যাম। ঘন কুয়াশার কারণে আরেকটু হলেই ধনু আকৃতির প্রবেশমুখটা চোখ এড়িয়ে যেতে নিয়েছিলো তার। জায়গাটায় পৌঁছেই শব্দ শোনার চেষ্টা করলো, কিন্তু পানির ঢেউ তোলার শব্দটা ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাচ্ছে না।
এখানে কেন এসেছি আমরা? স্যামকে থেমে যেতে দেখে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো রেমি।
নাইজেল বলেছে সে সাইলোতে আছে।
এখানে তো কোনো সাইলো নেই।
একসময় ছিলো, বলে রেমির হাত খাবলে পথটা ধরে পা বাড়ালো স্যাম। তবে কুয়াশার কারণে সামনের কিছু দেখতে না পারায় কয়েকগজ এগুনোর পরই থেমে গেলো আবার।
তখনই রেমি বলে উঠলো, কিছু একটা শুনতে পাচ্ছি আমি।
স্যামও শুনতে পেয়েছে শব্দটা। শব্দটা তাদের বামে থাকা লট থেকে আসছে। শব্দের উৎসের দিকে ঘুরে নাইজেল বলে ডাক দিলো স্যাম। কিন্তু কোনো জবাব ভেসে এলো না। বরং পায়ের শব্দ ভেসে আসছে এখন। তুমি এখানেই দাঁড়াও, রেমিকে উদ্দেশ্য করে বলে পদচারীদের পথ আটকে রাখা ক্যাবল ব্যারিয়ারটার ওপরে চড়ে বসলো স্যাম। পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পাথুরে মাটিতে জন্মানো লম্বা ঘাসের ওপর দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ও। ঘাসগুলো এখনো সমানই আছে, কারো হেঁটে যাওয়ার কোনো ছাপ নেই। তবে আরেকটু এগিয়ে যেতেই দেখতে পেলো যে ঘাসগুলো একটু এলোমেলো হয়ে আছে। কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এইদিক দিয়ে। দাগটা অনুসরণ করে এগিয়ে যেতেই একটা ঘন ঝোঁপ দেখতে পেলো স্যাম। নড়াচড়ার শব্দ ভেসে আসছে ঝোঁপের ভিতর থেকে।
উঁবু হয়ে ঝোঁপের দিকে ফ্ল্যাশলাইটের আলো ফেলতেই নাইজেলকে দেখতে পেলো স্যাম। নাইজেলকে খুঁজে পেয়েছি আমি, রেমির উদ্দেশ্যে হাঁক ছেড়ে বলল ও।
আলো পড়ায় চোখ পিটপিট করছে নাইজেল। উঠে বসতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে লোকটার। বেশ দ্বিধাগ্রস্ত দেখাচ্ছে তাকে।
