সাথে সাথেই ফিস্ক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, দেরিতে হলেও মিশনে স্বাগতম আপনাকে।
আলেক্সান্দ্রাও ফিস্কের সাথে হাত মিলিয়ে বলল, তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছো দেখে ভালো লাগলো। যাই হোক… তোমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
চলুন ড্রিংক করতে করতে এটা নিয়ে আলোচনা করি? বলল ফিস্ক। আলেক্সান্দ্রা এভেরির মতো মহিলার সাথে কাজ করার কোনো ইচ্ছাই নেই তার। তাই ড্রিংক করার ফাঁকে ফাঁকে মহিলার খপ্পর থেকে কিভাবে রেহাই পাওয়া যাবে সেটা নিয়েই ভেবে দেখতে চাচ্ছে ও।
আচ্ছা ঠিক আছে। চলো।
আপনি আসলে লন্ডনে কোথায় উঠেছেন? বারের টেবিলে গিয়ে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো ফিস্ক।
অবশ্যই, এখানে, তোমার হোটেলে। তবে মাত্র এক রাতই থাকবো এখানে। কাল কিংস লিনের দিকে যাবো।
কথাটা শুনেই চমকে উঠলো ফিস্ক।
তুমিও তো ওখানেও যাচ্ছো, তাই না?
আপনি কিভাবে জানেন এটা?।
আবারো হাসলো আলেক্সান্দ্রা। তবে এবারের হাসিটা আর আগের মতো নিষ্পাপ বা মিষ্টি না। তথ্য জানার জন্য ভালো পরিমাণ টাকা খরচ করি আমি, মি. ফিস্ক। চার্লসের থেকেই শিখেছি এটা। বলে হাত বাড়িয়ে ফিস্কের হাতে মৃদু চাপড় দিলো সে। যাই হোক, আমি কিভাবে তথ্যটা জেনেছি সেটা নিয়ে আর কথা বলে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। আমার মনে হয় এখন আমাদের পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিৎ। হয়তো এতে করে আমরা আমাদের নিজেদের উপকারিতাটা বুঝতে পারবো।
ভালো আইডিয়া, ভাবলো ফিস্ক। হয়তো মহিলার উপস্থিতিটা কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এমনিতেও ইভান আর জ্যাক খুব বুদ্ধিমান না। এখন তাদের সাথে বুদ্ধিমান কেউ যুক্ত হলে হয়তো অবশেষে ফার্গোদের থেকে কয়েক পদক্ষেপ এগিয়ে যেতে পারবে ওরা।
যত ভাবছে, আইডিয়াটা ততোই ভালো লাগছে তার। চার্লস এভেরি মহিলাকে যতোই বোকা বলুক না কেন, মহিলা কিন্তু যথেষ্ট চালাক। স্পষ্টতই, কোনো কায়দায় স্বামীর ফোন-কম্পিউটারের নজর রাখছে মহিলা, কিংবা কে জানে হয়তো চার্লসের অফিসে কোনো বাগ রেখে দিয়েছে। তা নাহলে তাদের পরিকল্পনার ব্যাপারে তো আলেক্সান্দ্রার কিছুই জানার কথা না। ব্যাপারটা তাদের জন্য দুঃশ্চিন্তার হলেও, মহিলাকে ঠাণ্ডা রাখার কায়দাও জানা আছে তার। আর এমন না যে চার্লসকে সে আলেক্সান্দ্রার ব্যাপারে কখনোই বলবে না। অবশ্যই একটা সময় সব খুলে বলবে, তবে এখন না…
…আগে মিশনটা ভালোভাবে সফল হোক, তারপর।
.
৩৯.
পরদিন বিকালে পারফ্লিট জেটির টাউন সেন্টারে নাইজেল রিজওয়েলের সাথে দেখা করতে গেলে স্যাম ও রেমি। কার পার্কে গাড়ি রেখে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। এখানে কাস্টম হাউজের ইনফরমেশন সেন্টারে কাজ করে নাইজেল।
কাস্টম হাউজের সামনে বেশ কয়েকজন ট্যুরিস্টের একটা দল জমায়েত হয়ে আছে। কয়েকজন আবার দাঁড়িয়ে নদীর ছবি তুলছে। আর এই দলটার নেতৃত্ব দিচ্ছে বাদামি চুলের এক হ্যাংলাপাতলা লোক। লোকটার বয়স প্রায় ত্রিশের কোঠায়। তাদেরকে এগিয়ে যেতে দেখেই লোকটা তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে ঘুরতে এসেছেন নিশ্চয়? ভিতর থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন আপনারা।
জবাবে স্যাম বলল, আমরা আসলে এখানে নাইজেল রিজওয়েলের সাথে দেখা করতে এসেছি।
আমিই নাইজেল। তারপর দলটার উদ্দেশ্যে কিছু বলে তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, আপনারাই নিশ্চয় ফার্গো দম্পতি?
ট্যুরিস্ট সেন্টারের সামনে জমে থাকা ভিডের দিকে একবার তাকিয়ে স্যাম বলল, আমরা হয়তো ভুল সময়ে চলে এসেছি। আমি যতদূর জানতাম আপনিই আমাদেরকে এখানে দেখা করতে আসতে বলেছিলেন।
দুঃখিত। আমার আসলে বিকালের দিকে ফ্রি থাকারই কথা ছিলো, কিন্তু আমাদের গাইডদের একজন আজকে আসতে পারেনি। তাই আমাকেই তার কাজটা করে দিতে হচ্ছে। আপনাদের সাথে সন্ধ্যায় কথা বললে চলবে না?
হ্যাঁ, সন্ধ্যায় হলেও অসুবিধা নেই, বলল স্যাম। কয়টার দিকে?
ছয়টার দিকে? তাহলে শেষ টুরের পর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আপনাদের সাথে বসতে পারবো আমি। অবশ্য আপনারা চাইলে আমার সাথে টুরেও আসতে পারেন। অথবা পাঁচ পাউন্ড বাঁচাতে চাইলে ভিতর থেকে একটা ম্যাপ সংগ্রহ করে নিজেরাই নিজেদের টুর তৈরি করে নিতে পারেন।
ধন্যবাদ, বলল স্যাম। আমরা নিজেরাই ঘুরে দেখতে পারবো।
এরপর আর কিছু না বলে আবার ট্যুরিস্ট দলটার কাছে ফিরে গেলো নাইজেল। চলুন তাহলে যাত্রা শুরু করা যাক। বলতে বলতে দলটাকে নিয়ে একটা কোনার দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করলো নাইজেল। কিংস লিন, মধ্যযুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর একটি এটি। এককালে এটা বিশপস লিন নামে পরিচিত ছিলো…
লোকটাকে যথেষ্ট ভালোই মনে হচ্ছে, বলল রেমি।
হ্যাঁ, চুরির ব্যাপারটা বাদ দিয়ে ভাবলে লোকটা খারাপ না, ভাবলো স্যাম। মেজ ক্রাওলির গবেষণা চুরির ব্যাপারটা বেশ বিরক্ত করছে তাকে।
এসব ভাবতে ভাবতেই কিংস লিনের বিভিন্ন টুরের ব্যাপারে লিখে রাখা ক্ষুদ্র পুস্তিকাটা হাতে তুলে নিলো স্যাম। মেরিটাইম হিস্টোরির ভ্রমণের কাগজটা নিয়ে দেখছে, ঐ সময়ই রেমি বলে উঠলো, এটা তো বেশ আগ্রহ জাগানিয়া। লিনের অন্ধকার অংশগুলো। খুন, বিশ্বাসঘাতকতা ও ডাকিনিবিদ্যার গল্পসমূহ। তবে এরপরই কাগজটা আবার তাকে রেখে দিয়ে বলল, যাই হোক, বাদ দাও। গ্রীষ্মকাল ছাড়া এই ট্যুরের অনুমতি দেয় না তারা।
