এভেরির পূর্বপুরুষকে কি আর এতো সহজে ভুলা যায়? বলে আবারো কাগজের দিকে চোখ ফিরিয়ে নিলো স্যাম। মর্টিমারদের ওপর রাজা কোনো কারণে ক্ষেপে ছিলো, তাই না? খুব সম্ভবত ডেসপেন্সর মর্টিমারদের থেকে কিছু একটা চুরি করে নেওয়ার কারণেই তাদের ওপর রাজা ক্ষীপ্ত হয়েছিলো।
হ্যাঁ, এটাই, বলল রেমি। ডেসপেন্সর মর্টিমারদের থেকে সাইফার হুইলের একটা কপি চুরি করেছিলো। সেটাই কয়েকশো বছর পর সমুদ্রের তলায় হারিয়ে গেছে।
এভেরির এটা ফিরে পাওয়ার মোহের কারণটা কিন্তু এখন ভালোভাবেই বুঝা যাচ্ছে।
এটা আসলে তার মোহের একটা অংশ মাত্র। আমি নিশ্চিত যে সে নিজেই এই গুপ্তসম্পদটা খুঁজে বের করতে চাচ্ছে।
ভালো বলেছো, বলে কাগজগুলো আবার একত্র করে খামে ঢুকিয়ে রাখলো স্যাম। তারপর বলল, আশা করছি এভেরি খুঁজে পাওয়ার আগেই আমার খুঁজে পাবো গুপ্তধনটা।
****
পরদিন খুব সকালে অফিস ডেস্ক থেকে সেলমা স্কাইপেতে ফোন করলো তাদেরকে। ওয়েন্ডি আর পিট ছবিগুলো কিছুটা জুম করতে পেরেছে, আর লাযলো এখন ম্যাপের অর্থ বের করার কাজ করে। বলে এডিট করা ছবিটা পর্দার সামনে তুলে ধরলো সেলমা। ছবির একটা অংশ আলোর অভাবে এখনো অনেকটা কালো হয়ে আছে। আলোটা খুব ভালো ছিলো না। এডিট করার পরও খুব একটা পরিষ্কার হয়নি। যাই হোক, তারপরও কয়েকটা চিহ্ন মোটামুটি স্পষ্টভাবেই পড়া যাচ্ছে এখন। যদিও এগুলোর অর্থ কী তার ব্যাপারে নিশ্চিত না আমরা।
মোদ্দা কথা হলো…? রেমি জানতে চাইলো।
এটার ওপর এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। লাযলো অর্থ বের মোটামুটি কিছুটা চেষ্টা করেছে, তবে অনুবাদের ফলে মূল অর্থ বিকৃত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
ঠিক তখনই পর্দায় লায়লো ভেসে উঠতে দেখা গেলো। সেলমা ঠিকই বলেছে। তবে আশা করছি অর্থ খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। উত্তর আমেরিকার বদলে আপনাদের দক্ষিণ আমেরিকায় পাঠানোর মতো অতোটা বদলায়নি অর্থ।
কথাটা শুনেই একজন আরেকজনের দিকে তাকালো স্যাম ও রেমি। তারপর আবার পর্দার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে স্যাম বলল, আমাদের কি এখন দক্ষিণ আমেরিকায় যেতে হবে?
আরে না, বলল লাযলো। আমি শুধু অনুবাদের ভুলের প্রভাব কী হতে পারে তার একটা উদাহরণ দিচ্ছিলাম মাত্র। মানে অতোটা বড়ো ভুল হবে না আর কী।
তো আমরা কোথায় যাচ্ছি এবার? রেমি জানতে চাইলো।
ভালো প্রশ্ন। যদি মিস ক্রাওলির তথ্যগুলো নিখুঁত হয়ে থাকে… যদিও মহিলা এগুলো গবেষণা করেই সংগ্রহ করেছেন, তারপরও ভিত্তিটা কিন্তু সেই শৈশবের গল্পই, তাই কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিত…
ওটা জানি আমরা, লাযলোকে থামিয়ে দিয়ে বলল স্যাম।
যাই হোক, মহিলার তথ্যগুলো সঠিক হয়ে থাকলে, এখন আপনাদেরকে নাইজেল রিজওয়েলের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
রিজওয়েল? স্যাম বলল। তুমি নিশ্চিত?
মোটামুটি। পুরোনো ইংরেজির ওপর ভালো দক্ষতা আছে লোকটার। প্রাক্তন অধ্যাপক। ম্যাপ থেকে আমি যা যা ডিসাইফার করেছি, তার অর্থ বের করতে ভদ্রলোকের সাহায্য লাগবে আপনাদের। অবশ্য, আপনারা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলে আলাদা কথা।
ইন্টারেস্টিং বলল স্যাম। সত্যি বলতে, এই নাইজেল রিজওয়েলই মেজ ক্রাওলির গবেষণা চুরি করেছিলো।
.
৩৮.
হোটেলের লবিতে আলেক্সান্দ্রা এভেরিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রচণ্ড চমকে গেছে কলিন ফিস্ক। মহিলাকে দেখে কোনোরকমে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, মিসেস এভেরি? আমি জানতামই না যে আপনি লন্ডনে আছেন।
আসলেই জানতে না তুমি, মুখভঙ্গি স্বাভাবিক রেখে বলল আলেক্সান্দ্রা। আমি চমক পছন্দ করি খুব। তুমি করো না?
এখানে কী করছেন আপনি?
আমার মনে হয় তুমি যে কারণে এসেছো, আমিও একই কারণে এসেছি। আমার স্বামীর মতো আমিও রহস্যময় ঐ গুপ্তধনটা খুঁজছি। তো, কতোটা এগুলে?
এই তো কিছুটা এগিয়েছি মাত্র।
হুমম। আর ফার্গোদের ব্যাপারটা বলো? তারা নিশ্চয় তোমার পথে খুব বেশি বাগড়া দিচ্ছে না?
আপাতত কয়েকদিন আর বাগড়া দিবে না। আলেক্সান্দ্রা ফার্গোদের ব্যাপারে জানে দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত বোধ করছে ফিস্ক। যদিও সে ভালো করেই জানে যে তার এখন একেবারেই চমকানো সম্ভব না। চার্লস এভেরির অধীনে কাজ করার সময় থেকেই ফিস্ক জানে, মহিলা খুব একটা সামাজিক প্রকৃতির মানুষ না। অন্ততপক্ষে চার্লস এভেরি যতোটা বলে দাবি করে ততোটা না। মি, এভেরি কি আপনার ব্যাপারে জানেন?
শুনে হেসে উঠলো আলেক্সান্দ্রা। একদমই না। আমি চাই সে যেন সবসময়ই আমার থেকে এক কদম পিছনে থাকে। যাই হোক, আমি আসলে এখানে এসেছি তোমার সাথে কথা বলতে। আমাকেও তোমার এডভেঞ্চারের অংশ করে নাও। নাহলে মিশন পরিচালনার জন্য চার্লস তোমাকে যে ফান্ড থেকে টাকা দিচ্ছে সেটা কিন্তু হুট করেই বন্ধ হয়ে যাবে। বলে মিষ্টিভাবে হাসলো আলেক্সান্দ্রা। আমার মনে হয় সে তোমাকে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার কথাটা বলেছে?
হ্যাঁ, বলেছে।
সে হয়তো এটা বলেনি যে তোমাকে সে কোথা থেকে টাকা দিচ্ছে। আমার ফরেনসিক অ্যাকাউন্টেন্ট অবশ্য উৎসটা খুঁজে বের করে ফেলেছে। টাকাটা যাচ্ছে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে। তো হিসাব অনুযায়ী তোমার এই মিশনের অর্থায়ন কিন্তু আমি করছি। তবে আপাতত এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি কাউকে কিছু বলবো না। অবশ্য আমি এটা একটা শর্তেই করবো যদি তুমি আমার এখানে আসার ব্যাপারটা গোপন রাখো, বলে আবারো মিষ্টি হাসি হাসলো আলেক্সান্দ্রা।
