দুঃখজনক, রেমি বলল। আপনি ভালো করে ভাবলেই দেখবেন যে কিং জনের গুপ্তধনের কিংবদন্তির চেয়ে বড়ো ইতিহাসের পরিবর্তন তো আর কোনোটাই হতে পারে না।
একদম ঠিক বলেছেন। আমারও একই মত, বললেন মিস ক্রাওলি। অবশ্য আমি বেশি চমকেছি আরো পরে, যখন নাইজেলকে আমার গবেষণা ও কাজের ওপর ভিত্তি করে নিজের নামে বই প্রকাশ করতে দেখে। শুধু তাই নয়, তার এক ক্লাসের কোর্সের জন্য আমার পাঠ্যক্রমও চুরি করে নিয়েছিলো। তবে এতে বেশি সুবিধা করতে পারেনি। সত্যটা জানাজানি হয়ে যেতেই কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয় তাকে। তার জন্য বেশ খারাপ লাগে আমার, তবে তাকে তো আর আমার কাজ চুরি করতে দিতে পারি না আমি।
খুবই স্বাভাবিক এটা, বলল স্যাম।
শিক্ষকতার চাকরি হারানোর পর এখন ট্যুর গাইডের কাজ বেছে নিয়েছে ও। আমাদের গ্রুপের আরেক সদস্যের থেকে জানতে পেরেছি, ভ্রমণকারীদের কাছে সে এখনো আমার তথ্যগুলোকে গুপ্তধনের কিংবদন্তির অনেকগুলো গল্পের একটি হিসেবে বর্ণনা করে।
সাধারণ জনগণ সত্যিই কিংবদন্তির গল্প পছন্দ করে, বলল রেমি।
হ্যাঁ, আসলেই। একবার ভেবেছিলাম আমি তাকে থামতে বলবো, পরে ভাবলাম একটা মানুষকে তার বিপদের সময় আর কতোটাই বা বিপদে ফেলা যায়?
কাগজগুলোর ওপর একবার চোখ বুলিয়ে স্যাম বলল, আপনি কি পুরোটা একটু সংক্ষেপে বলতে পারবেন?
সহজে বললে, হারবার্টরা পেমকের প্রথম আর্ল উইলিয়াম দ্য মার্শালের বংশধর। রাজকুমারকে আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কিং জুন তার রাজসম্পদ লুকানোর দায়িত্ব দিয়েছিলো উইলিয়ামকে। জলের ধারে সম্পদের হারিয়ে যাওয়ার গল্পটা আসলে রটানো হয়েছিলো আসল ঘটনাটা লুকানোর জন্য।
রেমির হাতে কাগজগুলো তুলে দিয়ে স্যাম জিজ্ঞেস করলো, আর আপনার ধারণা আপনি জানেন আসলে কী ঘটেছিলো?
কাগজেই পুরোটা বর্ণনা করা আছে। উইলিয়াম পেমব্রুক সম্পদগুলো কোনো গুপ্তজায়গায় লুকিয়ে ফেলেছিলো। আর এই গুপ্ত তথ্যটা রক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছিলো তার বাছাইকৃত বংশধরদের ওপর। পেমব্রুকের ছেলেরা মারা যাওয়া পর গুপ্ত তথ্যটা রক্ষার দায়িত্ব পড়ে তার মেয়ে মাওদ ডি ব্রুজের ওপর, সেখান থেকে এটা রক্ষার দায়িত্ব বর্তায় ব্রুজের ছেলে এডমুন্ড মর্টিমারের ওপর। এডমুন্ড মর্টিটার এই তথ্যের কপি তৈরি করে একটা দেয় তার বৈধ সন্তান রজার ডি মর্টিমারকে এবং আরেকটা দেয় তার অবৈধ ছেলে স্যার এডমুন্ড হারবার্টের কাছে। যেটা সত্যি বলতে বেশ বুদ্ধিমানের একটা কাজ ছিলো বলেই ধরা হয়। মর্টিমারের বৈধ ছেলে রানি ইসাবেলার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং ফলাফলস্বরূপ একসময় প্রাণ হারায়, বলতে বলতে মৃদু হেসে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলেন মিস ক্রাওলি। খুব সম্ভবত মর্টিমার তার ছেলের ব্যাপারে জানতে এবং বুঝতে পেরেছিলো যে তার অবৈধ ছেলেই বেশি সৎ। তবে এটা শুধু গুপ্ততথ্যটা কার হাত থেকে কার কার গেছে তারই ইতিহাস মাত্র; সম্পদগুলো কোথায় লুকানো আছে তা কিন্তু জানা যায়নি কোথাও থেকে।
মহিলার কথা শেষ হতেই রেমি খামটা দেখিয়ে বলল, আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে কি আমরা এটা ধার নিতে পারি? কপি করেই আবার আপনাকে ফিরত দিয়ে দিবো।
ওটার দরকার নেই। আমি যতোই এই গল্প নিয়ে মেতে থাকি না কেন, এটা আমার বলার গল্প না। গল্পটা বলার দায়িত্ব আমার প্রাক্তন স্বামী হেনরি ম্যাকগ্রেগর এবং তার কাজিন গ্রেসের। যদিও তাদের কারোরই এটার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। বছরের পর বছর ধরেই আমার কাছে পড়ে আছে এটা। এখন এটা আপনাদের। নিশ্চিতভাবেই গ্রেস আপনাদেরকে বিশ্বাস করে, নাহলে সে কখনোই আপনাদেরকে আমার কাছে পাঠাতো না। কী খুঁজে পেলেন আমাকে শুধু সেটা জানালেই চলবে।
অবশ্যই জানাবো। সাহায্যের জন্য আরো একবার ধন্যবাদ আপনাকে।
বলে মিস ক্রাওলির বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। গাড়িতে উঠেই খাম থেকে আবারো কাগজগুলো বের করে আনলো রেমি। অনেক অনেক তথ্য রয়েছে এখানে।
তবে কাজে লাগার মতো তেমন তথ্য কিন্তু পাওয়া যায়নি, বলল স্যাম।
এখানে সাইফার হুইলের একটা অরিজিনাল কপি থাকলে বেশি ভালো হতো, কাগজের পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে বলল রেমি? সেলমাকে এটা দেখানো উচিৎ আমাদের। কয়েকজন মিলে দেখলে হয়তো কিছু না কিছু জানা যাবে এখান থেকে।
হোটেলে পৌঁছেই কাগজগুলো স্ক্যান করে সেলমাকে ইমেইল করে দিলো রেমি! হোটেল রুমটাও সেলমাই বুক করে দিয়েছে তাদের জন্য। অবশ্য ইমেইল পাঠিয়ে তারা নিজেরাও অবসরে বসে নেই। তারাও কাগজের গাদাগুলোর চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে একবার একবার করে।
কাগজগুলো পড়তে পড়তে রেমি বলল, এডমুন্ড মর্টিমার যদি গুপ্ত তথ্যটা তার দুই ছেলের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু সাইফার হুইলগুলোর একটার হারিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়।
কথাটা শুনেই স্যাম তার ভাগে থাকা কাগজগুলোর ওপর থেকে চোখ তুলে তাকালো রেমির দিকে। মিউজিয়ামে মর্টিমারের অবৈধ ছেলের ডিসপ্লেতে থাকা লেখাটার কথা কি মনে আছে তোমার?
হ্যাঁ, মনে আছে।
আর রাজার একসময়ের প্রেমিক যে পরবর্তীতে জলদস্যুতার পথ বেছে নিয়েছিলো তার কথা?
হ্যাঁ, হিউ ডেসপেন্সর। এবং তার অবৈধ ছেলে ব্রিজম্যানের কথাও মনে আছে।
