ছবিগুলো দেখলাম, সেলমা বলল।
পরীক্ষা করে দেখো ওগুলো, স্যাম বলল। খুব সম্ভবত ওটাই আমাদের সাইফার হুইল।
কিছুক্ষণ কোনো জবাব দিলো না সেলমা। তারপর বলল, এটা নিশ্চিতভাবেই অনেক কিছু বদলে দিচ্ছে।
কপাল খারাপ যে এটা এখন হারিয়ে গেছে, স্যাম জানালো। এজন্যেই তোমাকে কল করেছি। তুমি কি ছবিটা জুম করে বৃত্তের সীমানায় থাকা চিহ্নগুলো পড়তে পারবে?
আচ্ছা, পিট আর ওয়েন্ডির যোগাযোগ করছি। ছবি জুম করায় তাদের দক্ষতা ভালো।
ওকে, তাই করো। দ্রুত ফলাফল জানিয়ো আমাদেরকে, বলল স্যাম।
****
কিংস লিনের সাউথ গেটে গিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে প্রায় বিকেল চারটার মতো লেগে গেলো তাদের। কিংস লিন একসময় ব্রিটেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরের একটা ছিলো। শতবর্ষী পুরোনো দালান এবং খোয়া বিছানো রাস্তাটা যেন সেই সময়েরই ছাপ প্রকাশ করছে।
শহরের অন্যান্য আরো কয়েকটি দালানের মতো মেজ ক্রাওলির বাড়িটাও তৈরি করা হয়েছিলো সেই পুরোনো সময়কালেই। বাড়ির সামনের ইটের গেটে নেমপ্লেট অনুযায়ী ১১০০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছিলো এই বাড়িটা। মুগ্ধ হয়ে বাড়িটার দিকে তাকালো রেমি। বাড়ির ছাদের চিমনির ছিদ্র দিয়ে ধোয়ার পাক বেরুতে দেখে আশা করলো যে মহিলা হয়তো এখন বাড়ির ভিতরেই আছেন।
গাড়ি থেকে নেমে খোয়াবিছানো চত্বরটা পেরিয়ে দরজায় টোকা দিলো স্যাম। টোকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বাদামি-চুলো এক স্থূলকায় মহিলা দরজা খুলে এসে দাঁড়ালো তাদের সামনে। মহিলার বয়স প্রায় গ্রেসের বয়সের কাছাকাছিই হবে। চোখে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মহিলা।
স্যাম আলতো হেসে মহিলাকে বলল, আমরা মেজ ক্রাওলির কাছে এসেছিলাম।
আমিই মেজ ক্রাওলি।
গ্রেস হারবার্ট-মিলার আপনার ঠিকানাটা দিয়েছেন আমাদের। তিনি বলেছেন আপনি হয়তো একটা পুরোনো পারিবারিক কিংবদন্তির ব্যাপারে কিছু জানেন। কিং জনের সম্পদ রক্ষার কিংবদন্তিটা নিয়ে।
শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন মহিলা। মহিলাকে একদম চুপ করে যেতে দেখে রেমি ভাবছে মহিলা হয়তো এখনই তাদেরকে ধাপ্পাবাজ ভেবে তাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু তার বদলে হাত নেড়ে তাদেরকে ভিতরে ঢোকার ইশারা করে বললেন, জানতাম যে কেউ না কেউ একদিন অবশ্যই এটা নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসবে।
.
৩৭.
আমি কি জানতে পারি আপনারা কেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ করছেন? মানে গ্রেস আর…? বলে মুচকি হাসলেন মহিলা। আশা করছেন যে স্যাম ও রেমিরা শূন্যস্থানটা ভরাট করে নিতে পারবে।
জবাবটা দিলো স্যাম, মিসেস হারবার্ট বলেছেন আপনি পারিবারিক কিংবদন্তি টার সম্পর্কে জানেন! মানে কিং জনের গুপ্তধনের কিংবদন্তিটার সম্পর্কে।
হা, জানি। তবে বড় প্রশ্ন হলো আপনারা কেন খোঁজ করছেন ওটার?
কেউ একজন মিসেস হারবার্টের বাড়ি থেকে সদ্যই উত্তরাধিকারে পাওয়া একটা আর্টিফ্যাক্ট চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ওটার সাথে কিংবদন্তিটার সম্পৃক্ততা আছে।
মানে গুপ্তধনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে?
হ্যাঁ, বলল স্যাম।
কিছু না বলে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন মিস ক্রাওলি। তারপর বললেন, আপনারা যদি আপনাদের আগ্রহের কারণটা ভেঙে বলতেন, তাহলে হয়তো আমি সাহায্য করতে পারতাম।
আমরা গুপ্তধন শিকারি, স্যাম বলল।
গুপ্তধন শিকারি? অবিশ্বাসের সুরে বলে উঠলেন মিস ক্রাওলি।
নিজেদের লাভের জন্য করি না কাজটা, রেমি বলল। আমরা প্রাপ্ত সম্পদগুলো হয় কোন দাঁতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে দিই, অথবা সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিই। ইন্টারনেটে ঢুকলেই আমাদের সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে পারবেন।
ওসব তথ্য যে সত্য তাই বা আমি বুঝবো কী করে? এখনকার যুগে ওয়েব পেজ বানানো খুব কঠিন কিছু না, মিসেস ফার্গো।
বুঝবেন, কারণ- বলতে গিয়েও থেমে গেলো রেমি। আসলেই বলার মতো কিছু নেই তার। দুঃখিত, আমাদের মুখের কথাই বিশ্বাস করতে হবে আপনাকে।
আরো কিছুক্ষণ চুপ করে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন মিস ক্রাওলি। তারপর বললেন, আমি নিজেকে মানুষ চেনায় দক্ষ বলে ভাবতে পছন্দ করি। আশা করছি আপনারা আমাকে ভুল প্রমাণ করবেন না। কী কী জানতে চান আপনারা?
জবাবে স্যাম বলল, হারবার্ট পরিবারের সাথে গুপ্তধন সম্পর্কিত তথ্যগুলো জানার প্রতিই আমাদের আগ্রহ বেশি।
তথ্যগুলো একসাথে জড়ো করে রেখেছিলাম আমি। একটু অপেক্ষা করুন, আমি ওগুলো খুঁজে বের করে নিয়ে আসছি, বলে সিঁড়ি ধরে ওপরতলায় চলে গেলেন মিস ক্রাওলি। কয়েকমিনিট পর একটা ম্যানিলা খাম নিয়ে ফিরে এলেন আবার।
পাঠ্যক্রম? মহিলার হাত থেকে খামটা নিয়ে খুলে ভিতরের কাগজটার ওপর একবার চোখ বুলিয়ে বলল স্যাম।
হ্যাঁ, এই বিষয়ের ওপর একটা বই লিখার পরিকল্পনা করেছি আমি। ওটারই একটা খসড়া এটা। আমি একজন লাইব্রেরিয়ান। আমি যে লাইব্রেরিতে কাজ করি সেখানে প্রতিমাসেই ইতিহাসে আগ্রহীদের একটা গ্রুপ মিটিং হয়। কয়েকবছর আগে গ্রুপের এক মিটিংএ আমি কিং জনের ব্যাপারটার ওপর একটা গবেষণাপত্র উত্থাপন করেছিলাম। ভেবেছিলাম গবেষণাটা হয়তো সবাই উষ্ণভাবে নিবে। তবে, নাইজেল রিজওয়েল নামের গ্রুপ মেম্বারদের একজন এতে অহোটা মুগ্ধ হতে পারেনি। নাইজেল রিজওয়েল এক স্থানীয় কলেজের সাবেক ভাষাবিদ ও ইতিহাস অধ্যাপক। তার মতে আমার গবেষণাটা নাকি ইতিহাস পরিবর্তন বা সংশোধনের অপচেষ্টা। ভদ্রলোক বেশ অভিমানও করেছিলো এতে।
