এছাড়া আর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই? স্যাম জিজ্ঞেস করলো। অন্য আর এমন কেউ কি আছে যে এই গল্পটা শুনেছে?
না। আমার ভাইদের কারোরই নিজের সন্তান ছিলো না। আর আত্মীয় বলতে আমি শুধু নটিংহ্যামের ঐ কাজিনের কথাই জানি… বাক্যটা শেষ করার আগেই থেমে গেলেন মহিলা। ভ্রু কুঁচকে কিছু একটা ভাবছেন। তারপর বলে উঠলেন, সত্যি বলতে, আরেকজন আছে। মেজ ক্রাওলি, আমার কাজিনের প্রাক্তন-স্ত্রী। তার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। ডিভোর্সের পর থেকে আসলে অনেক বছর ধরেই তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই আমার। নরফোকের দিকে থাকে খুব সম্ভবত। আপনাদের দরকার লাগলে তার ঠিকানাটা খুঁজে দেখতে পারি।
ঠিকানাটা দিলে খুবই উপকার হবে আমাদের, স্যাম বলল।
কিছুক্ষণের মধ্যের মেজ ক্রাওলির ঠিকানাটা খুঁজে পেলেন মিসেস গ্রেস হারবার্ট-মিলার। কিংস লিনে থাকেন মহিলা। ঠিকানা নিতেই নিতেই পুলিশ অফিসারও এসে হাজির হলো খামারে। স্যাম অফিসারকে তার স্টেটমেন্ট দিলো, সাথে সাথে কেস নিয়ে তদন্ত করা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দার কথাও জানালো অফিসারকে।
সব শুনে অফিসার তার নোটবুক থেকে চোখ তুলে তাকালো স্যামের দিকে। আপনি নিশ্চিত আপনাদের ঘটনাটার সাথে চুরির কোনো সম্পৃক্ততা আছে? আপনি তো বললেনই যে, মিউজিয়ামেই ফিস্ক তার জিনিসটা পেয়ে গেছে। পেয়ে যাওয়ার পরও এখানে আসবে কেন?
আমরা যেন জিনিসটা খুঁজে না পাই সেটা নিশ্চিত করা জন্য।
শুনে দ্বিধাগ্রস্ত দৃষ্টিতে দেয়ালের শূন্যস্থানটার দিকে তাকালো অফিসার। তারপর গ্রেস হারবার্টকে জিজ্ঞেস করলো, মূল্যমান কেমন ঐ ঢালটার?।
জবাবটা দিলো রেমি। পুরোনো আর্টিফ্যাক্ট। অন্য কারো কাছে এটার মূল্য না থাকলেও, মিউজিয়ামের কাছে এটা অমূল্য সম্পদ।
ইতিহাস। জানি না ইদানিং সবাই এই ইতিহাস নিয়ে এতো মেতে আছে। কেন, বলতে বলতে সবগুলো তথ্য নোটবুকে লিখে নিলো অফিসার। লেখা শেষে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, কিছু জানতে পারলে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবো আমি।
ধন্যবাদ, বলে অফিসারকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলেন গ্রেস হারবার্ট। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে এলেন বৈঠকখানায়।
মহিলায় ফিরে আসতেই রেমি বলল, আশা করছি আমাদের ক্ষমা করবেন আপনি। শুরু থেকেই আপনার সাথে পুরোপুরি সৎ থাকতে পারিনি আমরা। অবশ্য সত্যি বলতে, আমরা নিজেরাও শুরু থেকে অতোটা জানতাম না।
আমি যদি জানতাম এমন কিছু হতে পারে, তাহলে অন্য জিনিসগুলোর সাথে ঢালটাও মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিতাম, বলে মচকি হাসলেন মিসেস গ্রেস হারবার্ট-মিলার। আমার মনে হয় আপনাদেরও আর কিছু জানার নেই এখানে? যে ধকল গেলো, এখন আমার সাধারণ জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারলেই খুশি হতাম।
কথার ইঙ্গিতটা বুঝতে পেরেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো স্যাম ও রেমি। বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো ওরা।
মিসেস গ্রেস হারবার্টও এগিয়ে আসছেন তাদের সাথে সাথে। যদি আপনারা কিছু খুঁজে পান, তাহলে অবশ্যই মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েন ওগুলো। আমাকে কিছু দিতে হবে না। আমার যা আছে তা দিয়ে খুব সুখে শান্তিতেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো।
মিসেস হারবার্ট-মিলারকে আরো একবার ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় জানিয়ে গাড়ির দিকে পা বাড়ালো ওরা। গাড়িতে উঠেই মেজ ক্রাওলির ঠিকানাটা রেমির দিকে বাড়িয়ে দিলো স্যাম। কিংস লিন। প্রায় সাড়ে তিন-চার ঘন্টার যাত্রা। অনেক সময়।
হোক, আমার সমস্যা নেই তাতে। তোমার ব্যাপারে জানি না, তবে আমার আজ সারাদিনে অন্য কোনো কাজ নেই।
আমারও নেই, বলে ঘড়িতে সময় দেখে গাড়ি চালু করলো স্যাম। সেলমা হয়তো এতোক্ষনে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। তাকে কল দাও। আশা করছি আমাদের তোলা ঐ ছবিগুলো ও কাজে লাগাতে পারবে।
শুনে মাথা ঝাঁকিয়ে জিপিএস ডিরেকশনটা সেট করে নিলো রেমি। তারপর স্পিকার অন করে সেলমাকে কল করে বলল, বেশ কিছু কাজ করতে হবে তোমাকে। প্রথমত, আমরা কিংস লিনের দিকে যাচ্ছি। তো, থাকার জন্য জায়গা ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
ওকে, লেগে যাচ্ছি কাজে। স্যাভয়র স্যুইট কি ছেড়ে দিবো তাহলে?
না, ওটা ওভাবেই থাকুক। কিংস লিনে তো আর বেশিদিন থাকবো না, বলে এরপর গ্রেসের থাকা জানা পারিবারিক ইতিহাস এবং কিং জনের সম্পদের ব্যাপারে পাওয়া সবগুলো তথ্যই সেলমাকে জানিয়ে দিলো রেমি।
যত যাই হোক, স্যাম বলল, এখন ঐ চামড়ার ঢালের ওপরই বেশি আগ্রহ আমার। বিশেষ করে ঢালের কেন্দ্রে থাকা ঐ বৃত্তটার ওপর। আমাদের পাঠানো ঢালের ঐ ছবিগুলো দিয়ে কি কোনো কাজ করা যাবে?
দাঁড়ান, একটু দেখে নিই।
সেলমার সাথে সাথে রেমিও তাদের তোলা ছবিগুলো আরেকবার দেখে নিচ্ছে। তাদের তোলা ছবিগুলোর কিছু হয় ফ্ল্যাশের কারণে ঝলসে গেছে, নয়তো আলোর অভাবে বেশি কালো হয়ে আছে। প্রথমদিনের মতো এবারও তার নজর পড়লো ঢালের কেন্দ্রে থাকা কেল্টিক নকশাটার ওপর। বৃত্তের সীমানায় থাকা ছোটো রুনের মতো চিহ্নগুলোকে প্রথম দেখায় কেল্টিক নকশার বর্ধিত অংশ বলেই মনে হয়েছিলো। হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই নকশাটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাইফার কোডটা কারো নজরে না পড়ে। চোখের সামনেই লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা। হাজার হোক, একটা পুরোনো চামড়ার ঢালে চোখ বুলাতে যাবে কে?
