অথবা, ভালোভাবে বললে, তারা আগে জানতো না যে তাদেরকে কী খুঁজতে হবে, তাই দেখার পরও বুঝতে পারেনি। তবে এখন তারা জানে। স্যাম আশা করছে ভুল সূত্র ধরে মিউজিয়ামে খুঁজতে গিয়ে তারা হয়তো বড়ো কোনো ভুল করে বসেনি।
অল্প সময়ের ভিতরেই গ্রেস হারবার্ট-মিলারের খামারে গিয়ে পৌঁছে গেলো ওরা। আগেরবারের মতো এবারও তাদের গাড়ির শব্দ পেয়েই চেঁচিয়ে উঠলো হাঁস-মুরগিগুলো। খামারের সামনে চড়ে বেড়ানো ছাগলগুলোও শব্দ করতে করতে চলে গেছে ভিতরের দিকে।
গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভওয়ে ধরে প্রবেশমুখের দিকে পা বাড়ালো স্যাম ও রেমি। প্রতি পদক্ষেপেই তাদের পায়ের নিচ থেকে মড়মড়ে শব্দ ভেসে আসছে। নিশ্চিতভাবেই, এই খামারে কেউ নিঃশব্দে বা কারো চোখে ধরা না পড়ে ঢুকতে পারবে না। এসব ভাবতে ভাবতেই গিয়ে দরজায় টোকা দিলো স্যাম।
কিন্তু কোনো জবাব এলো না ভিতর থেকে।
একটু পিছিয়ে গিয়ে ওপরের চিমনির দিকে তাকালো স্যাম। চিমনি দিয়ে কোনো ধোঁয়া বেরুচ্ছে না। লক্ষণ সুবিধার লাগছে না। আমাদের হয়তো একটু চেক করে দেখা দরকার।
রেমি কিছু না বলে শুধু মাথা ঝাঁকালো। স্যাম জানে রেমিও এখন একই কথা ভাবছে। হারবার্ট-মিলারদের কিছু একটা হয়েছে।
সামনে থেকে পাশের ইট বিছানো রাস্তার দিকে পা বাড়ালো ওরা। শেওলা জমে থাকায় কিছু কিছু জায়গায় পিচ্ছিল হয়ে আছে রাস্তাটা। আরেকটু এগিয়ে যেতেই রম্বসাকৃতির জানালাটা চোখে পড়লো স্যামের। তবে জানালায় সাদা পর্দা লাগানো থাকায় ভিতরের কিছু দেখতে পাচ্ছে না। বাড়ির পিছনের অংশটায় বেশ ভালো একটা শাক-সজির বাগান গড়ে তুলেছে হারবার্ট মিলাররা। এই দিকেও বেশ কিছু মুরগি আছে, গাজর ও সেলারি শাকের বাগানের ভিতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওগুলো।
আরো কিছুটা এগুতেই পিছনের ঘন সবুজ রঙের দরজাটা খুঁজে পেলো ওরা। দরজাটার কাছে পৌঁছুতেই দরজার তালার কাছে কিছু ক্ষতচিহ্ন খুঁজে পেলো স্যাম। তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলো কেউ। এটা দেখার আশা করিনি আমি।
আমিও না, রেমি বলল।
কিছু না বলে দরজার নবটা ঘুরালো স্যাম। ভিতরে ঢুকতে যাবে ঠিক তখনই বাড়ির সামনে থেকে হাঁস, মুরগী ও ছাগলের উচ্চস্বরে চেঁচানোর শব্দ শুনতে পেলো ওরা। সাথে সাথে ড্রাইভওয়েতে গাড়ির চাকার ঘর্ষণের কর্কষ শব্দও।
নিশ্চিতভাবেই, খুবই শক্তিশালী অ্যালার্ম ওটা, রেমি বলল। আমাদেরও ওরকম কিছুর ব্যবস্থা করা উচিৎ।
আমার মনে হয় না যেলতান তাজা মুরগি দিয়ে লাঞ্চ করার লোভ সামলাতে পারবে।
ওহ, ঠিক। ভুলে গিয়েছিলাম ওটা।
পিছন থেকে নেমে আবার বাড়ির সামনের দিকে পা বাড়ালো ওরা। স্যাম আগে আগে যাচ্ছে। কারা এসেছে ওটা নিশ্চিত না হয়ে কাউকে দেখা দিতে চাচ্ছে না ও। রেমিকে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে বলে বাড়ির কোনায় গিয়ে সামনের দিকে উঁকি দিলো স্যাম। তাকাতেই একটা নীল রঙের ফিয়েট গাড়ির সামনের প্যাসেঞ্জার সিট থেকে গ্রেস হারবার্ট-মিলারকে নামতে দেখলো ও। মহিলার লাল-কালো ফুলেল জামা, ওলের কালো কোট এবং হোটো কালো টুপি দেখে স্যাম বুঝতে পারলো যে মহিলা মাত্রই চার্চ থেকে ফিরে এসেছে।
তবে মহিলার স্বামীকে আশেপাশে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ভয় নেই দেখে রেমিকে এগিয়ে আসার ইশারা করলো স্যাম। তারপর মিসেস হারবার্ট মিলারকে স্বাগত জানানোর জন্য দুইজন একসাথে পা বাড়ালো বাড়ির সামনের দিকে।
গাড়ির ড্রাইভারকে বিদায় জানিয়ে প্রবেশমুখের দিকে তাকাতেই ফার্গো দম্পতিকে দেখতে পেলো মহিলা। তাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, মি. অ্যান্ড মিসেস ফার্গো, আমি জানতাম না যে আপনারা আজ এদিকে আসবেন…
কিছু না জানিয়ে আসার জন্য দুঃখিত, মিসেস হারবার্ট-মিলার, বলল স্যাম। আপনার এবং আপনার স্বামীর সাথে আসলে কিছু কথা ছিলো আমাদের। উনি কি বাসায় আছেন?
না। আজ সকালেই সে তার ভাইকে দেখতে চলে গেছে। তার ভাইয়ের শরীর খুব একটা ভালো যাচ্ছে না কয়েকদিন ধরে। তবে, চলুন, ভিতরে গিয়ে কথা বলি।
বলে সামনের দরজার দিকে পা বাড়ালো মহিলা। সাথে সাথেই স্যাম এগিয়ে গিয়ে মহিলাকে থামিয়ে বলল, আসলে, আমার মনে হয় কেউ একজন তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছে।
কথাটা শুনে কিছুটা চমকে গেলেন মিসেস হারবার্ট-মিলার। তারপর হেসে উঠে আবারো পা বাড়ালেন সামনের দিকে। পার্স থেকে চাবিটা বের করতে করতে বললেন, আমার তা মনে হয় না। লোকালয়ের থেকে অনেক দূরে থাকি আমরা। এখানে কে কার সময় নষ্ট করতে আসবে? এমন না যে আমাদের এখানে খুব মূল্যবান কিছু আছে।
তারপরও, কেউ একজন আপনাদের পিছনের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছে বলে মনে হচ্ছে।
বলে মহিলাকে সাথে নিয়ে আবারো পিছনের দরজার দিকে পা বাড়ালো ওরা। দরজার কাছে পৌঁছেই দরজার তালার পাশে থাকা ক্ষতচিহ্নগুলো দেখালো স্যাম।
ওহ, খোদা, চমকে উঠে বললেন মিসেস হারবার্ট-মিলার।
এগিয়ে গিয়ে স্যাম দরজাটা ধাক্কা দিয়ে খুলে বলল, বেরুনোর আগে তো নিশ্চয় দরজা লক করে গিয়েছিলেন?
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলেন মহিলা, তবে কিছু বললেন না।
আমি নিশ্চিত তারা এতক্ষণে চলে গেছে, বলল স্যাম। তবে, আমার ঝুঁকি নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
কিন্তু এখানে পুলিশ আসতে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। জায়গাটা তো শহর থেকে অনেক বেশি ভিতরে।
