পাশের বিল্ডিং-এর পাওয়ার জেনারেটর চালু হয়ে যাওয়ায় ইভানের বাকি কথাগুলো আর শুনতে পেলো না ওরা। তারপর কথা শেষ করে এগিয়ে গেলো তাদের উলটো দিকে। স্যাম তাকিয়ে দেখলো কোনার দিকে গিয়ে হারিয়ে গেছে ইভান।
আপাতত পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে আছে ভেবে স্বস্তি পেলো স্যাম। তারপর অন্য দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা ঠিক আছো?
মাথা ঝাঁকালো অন্যরা।
বেশ। তাহলে চলো এখন বেরিয়ে যাই এখান থেকে। বলে তার পিছনে থাকা দরজাটার দিকে তাকালো স্যাম। এই দরজাটা দিয়ে কি কোথাও যাওয়া যাবে?
মাথা নাড়লো মিস ওয়ালশ। চমকটা মোটামুটি সামলে উঠেছে সে। এটা মেইনটেইন্যান্সের অফিস। ভিতর থেকে এটার কোনো দরজা নেই। আমাদের কি পুলিশে ফোন করা উচিৎ না?
অবশ্যই উচিৎ। তবে পুলিশকে স্টেটমেন্ট দেওয়ার আগে নিজেদের প্রাণ বাঁচানো দরকার। ভিতরে কিভাবে ঢুকবো আমরা?
আমরা যে পথ দিয়ে বেরিয়ে এসেছি, ওটাই সবচেয়ে সহজ পথ, বলল মিস ওয়ালশ। তবে তারা তো আমার কী-কার্ড নিয়ে গেছে।
আমার কাছে একটা আছে, বলে পার্স থেকে কী-কার্ডটা বের করে আনলো রেমি। আপনাদের আরেককর্মীর থেকে ধার নিয়েছি এটা।
চমৎকার, বলে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে থেমে গেলো স্যাম। ওপরে সব কিছু স্বাভাবিক আছে নিশ্চিত হয়ে অন্যদেরকে উঠে আসার ইশারা করে বলল, সরাসরি দরজার কাছে চলে যাবে।
কী-কার্ড দিয়ে দরজা খুলে পুনরায় মিউজিয়ামে ফিরে এলো ওরা। তবে দরজাটা পুরোপুরি না লাগানো পর্যন্ত কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না স্যাম।
সিকিউরিটি অফিসে যাওয়া দরকার আমাদের, মিস ওয়ালশ বলল। পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত আমরা ওখানেই নিরাপদ থাকতে পারবো।
তারা যে কাগজটা নিয়ে গেছে, সিকিউরিটি অফিসের দিকে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করলো স্যাম, ওটা কি আপনি ভালো করে দেখতে পেরেছিলেন?
একটা স্কেচ ওটা। কিসের?
একটা গোলাকার বস্তুর। কিছু সংকেতও আছে ওটাতে। হারবার্ট কালেকশনের তালিকা করার সময় খুব সম্ভবত এটা একবার দেখেছিলাম আমি। তাই লোকটা বলার সাথে সাথেই বুঝে গিয়েছিলাম।
কী ধরনের সংকেত ছিলো ওটা কি মনে আছে আপনার?
না, স্যরি। সংকেতটা মনে নেই আমার।
****
এক ঘন্টা পর ক্লান্ত হয়ে অবশেষে আবারো তাদের হোটেল রুমে ফিরে এলো স্যাম ও রেমি। এতোটাই ক্লান্ত যে এসেই বিছানায় শুয়ে পড়েছে দুজন। বিছানায় শুয়ে ওপরের ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে তারা। আমি ভাবতেও পারছি না যে আমরা মৃত্যুর এতো কাছে চলে গিয়েছিলাম, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর বলল রেমি।
ভালো প্রচেষ্টা ছিলো তাদের। তবে যথেষ্ট ছিলো না।
প্রতিবারই তারা কিভাবে আমাদেরকে এক কদম এগিয়ে থাকে?
ভালো প্রশ্ন, ভাবলো স্যাম। তথ্য ফাঁস হওয়ার পথ তো বন্ধ করে দিয়েছে তারা। আর্চারও তাদেরকে নিশ্চয়তা জানিয়েছে ওইদিনের পর থেকে ব্রিও আর কখনো তার কাজিন ল্যারেইনের সাথে যোগাযোগ করেনি। এবং তারপরও এভেরির লোকেরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের থেকে এক পদক্ষেপ করে এগিয়ে আছে। আমাদের কিছুদিন আগে থেকে শুরু করেছে ওরা। সময়ের সুবিধাটা পাচ্ছে আর কী!
সেলমাকে কল করা দরকার। হয়তো সে কিছু জানাতে পারবে আমাদের।
তুমি কল করবে না আমি করবো?
কোনো উত্তর দিলো না রেমি। রেমির থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে স্যাম তার দিকে তাকাতেই দেখলো যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত রেমির দিকেই কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো ও। সন্ধ্যার পরের ঘটনাটা নিয়ে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে তার মধ্যে। সে জানে ফিস্কের তাকে জীবিত ফেরত পাঠানোর কোনো ইচ্ছা ছিলো না। কেউ বাঁচাতে না আসলে হয়তো লড়াইয়ের আপ্রাণ চেষ্টা করেও একটা সময় হাল ছেড়ে দিতে হতে তাকে। তারপরও এটা ভেবে নিশ্চিন্ত ছিলো যে তার রেমিতো বাইরে নিরাপদেই আছে। তবে ইভান রেমিকে টেনে নিয়ে আসার পরই সবকিছু বদলে গেছে।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেনি তার সুন্দরী বধূ। শুধু তাইই না, বুদ্ধি করে সুযোগমতো অস্ত্রও সরবরাহ করেছে। তাকে।
এভাবেই পাশে শুয়ে রেমির ঘুমন্ত নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনছে স্যাম, আর ভাবছে রেমির চতুর, ছলনাময়ী অভিনয়ের ব্যাপারগুলো।
ভালো দেখিয়েছে, রেমি, ভাবতে ভাবতে আনমনেই ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো স্যাম। এভাবেই ভাবতে ভাবতে একসময় নিজেও ঘুমিয়ে পড়লো স্যাম।
আর এই ঘুম ভাঙলো ফোন বাজার শব্দ শুনে। চোখ খুলে প্রথমে সূর্যালোক দেখে কিছু চমকে গেলো ও। ঠিকমতো বুঝতে পারছে না যে তারা এখন আসলে কোথায়। যখন বুঝতে পারলো যে তারা হোটেলে আছে, তখনই রেমিকে ঘুমজড়িত কণ্ঠে ফোনে বলতে শুনলো, হ্যালো…? দাঁড়ান একটু… কী বললেন?
কে? স্যাম জিজ্ঞেস করলো।
মিস ওয়ালশ, ফোন কানে নিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে বলল রেমি। তারপর ফোনে কথা বলা শেষে স্যামের দিকে ফিরে বলল, মহিলা বলছেন সাংকেতিক চিহ্নওয়ালা ঐ বস্তুটা কোথায় আছে তা তিনি জানেন।
.
৩৫.
কিভাবে আমাদের চোখ এড়িয়ে গেলো ওটা? জিজ্ঞেস করলো রেমি।
এটাই স্বাভাবিক, গ্যাস প্যাড়ালে চাপ বাড়িয়ে দিয়ে বলল স্যাম। লম্বা রাস্তাটা আজ বেশ খালি, তাই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারছে ওরা। যদিও জানে যে কেউ তাদেরকে অনুসরণ করবে না, তারপরও রিয়ারভিউ মিররে চোখ রাখছে স্যাম। আর এভেরির লোকেরা কেনই বা অনুসরণ করবে তাদেরকে? ফিস্ক তো যেটার জন্য এসেছিলো সেটা পেয়েই গেছে। চোখের সামনেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো ওটা, আর আমরাও সঠিক জায়গাটায় দেখিনি।
