বলে বেরিয়ে গেলো ফিস্ক।
এটা ভালো লক্ষণ না, মনে মনে ভাবলো স্যাম। তারপর ইভানের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার পিস্তলে তো মাত্র দুটো বুলেটই আছে, তাই না?
ওটা নিয়ে ভেবো না। পকেটে আরো অনেকগুলো আছে। আর, মারলেও তার নতুন চাকুটা কাজে লাগানোর জন্য পাগল হয়ে আছে।
সাথে সাথেই চাকুটা উঁচিয়ে ধরলো মারলো। মিস ওয়ালশের দিকে তাকিয়ে হাসছে যেন চাকুটা।
হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। অনেক হয়েছে। মারবেই যখন, তার আগে অন্তত জুতোটা পরে নিতে দাও। সম্মান নিয়েই মরি। এই ধরো তো এগুলো, বলে পার্সটা স্যামের বুকে ঠেসে ধরলো রেমি। এমনভাবে ঠেলে দিয়েছে হাত বাড়িয়ে ব্যাগটা ধরা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না স্যামের কাছে। তারপর উবু হয়ে ধীরে সুস্থে জুতোটা পায়ে লাগাতে শুরু করলো রেমি।
হতভম্বের দৃষ্টিতে রেমির দিকে তাকিয়ে আছে ইভান। বিশ্বাসই করতে পারছে না যেন। একটু পরই মরতে যাওয়া একটা মানুষ কিভাবে তার ফ্যাশন নিয়ে ভাবতে পারে।
স্যামও কিছুটা অবাক হয়ে আছে। তবে বুকের কাছে ধরে রাখা রেমির পার্সটার দিকে তাকাতেই ঘটনাটা বুঝতে পারলো ও। পার্সের আড়ালে একটা পিতলের তারকা রয়েছে। তারকার কোনাগুলো বেশ তীক্ষ্ণ। জিপ-টাইটা কাটার জন্য এই মুহূর্তে এই ধরনের কিছুরই আশা করছিলো ও।
হঠাৎই মিস ওয়ালশের ঝাঁকিয়ে উঠার শব্দ এলো তার কানে। মারলো মহিলার গলায় চাকু ঠেকিয়ে ধরেছে। সাথে সাথেই পার্স ফেলে উঠে দাঁড়িয়ে তারকাটা ছুঁড়ে মারলো স্যাম। মারলোর ঘাড়ে গিয়ে লাগলো অস্ত্রটা। চমকে চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে মারলোর। চাকুটাও খসে পড়ে গেছে তার হাত থেকে। শ্বাস নিতে গিয়ে হাঁসফাস করছে রীতিমতো। তারপর ঝট করে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো রুমের মেঝেতে মারলোকে ওভাবে পড়ে যেতে দেখেই রেমির দিকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরলো ইভান। গুলি করতে যাবে ঠিক এমন সময়ই তার ওপর এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো স্যাম। গুলিটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। হাত বাধ অবস্থায়ই ইভানের সাথে হুড়োহুড়ি করছে ও। স্যামের গ্রাস থেকে বাঁচতে আবারো গুলি করলো ইভান। স্যামের গাল ঘেঁষে গেলো যেন বুলেটটা। পিস্তলটা ফেলে দিয়ে টেবিল থেকে গদাটা তুলে নিলো ইভান। তারপর সজোরে ঘুরালো স্যামের দিকে। কোনোরকমে পিছিয়ে গিয়ে গদার আঘাতটা প্রতিহত করলো স্যাম। তারপর আবার ঝাঁপিয়ে পড়লো ইভানের ওপর। ধাক্কার তীব্রতায় টেবিলে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছে দুজনই।
জলদি পালাও এখান থেকে! রেমিদের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো স্যাম।
দেরি না করে মিস ওয়ালশকে সাথে নিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রেমি।
ওদিকে টেবিলের ওপর থেকে কাটা লাগানো গদার মাথাটা খাবলে ধরে আবারো স্যামের দিকে ঘুরালো ইভান। হাতবাধা অবস্থায় কোনোরকমে চামড়ার ঢালটা আঁকড়ে ধরে ছুঁড়ে মারলো ইভানের দিকে। তারপর ধাক্কা দিয়ে মারলোর লাশের ওপর ফেলে দিয়েই দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
রেমি ও মিস ওয়ালশ এতোক্ষণে অনেকটা দূর এগিয়ে গেছে। করিডোরের মোড়টার কাছে গিয়ে থেমে গেছে ওরা। মোড়ের একটা রাস্তা চলে গেছে মিউজিয়ামের দিকে, আর অন্যটা চলে গেছে ইমার্জেন্সি এক্সিটের দিকে। কোন দিকে যাবো? জিজ্ঞেস করলো রেমি।
দুই দিকেই তাকালো মিস ওয়ালশ। এতোটা চমকে আছে কোনদিকে যাবে সেটারও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
তখনই স্যাম পিছন থেকে ছুটে এসে বলল, এক্সিটের দিকে যাও। জলদি! সে আশা করছে এক্সিট দিয়ে বেরুলেই বাইরের জমায়েত হওয়া ভিড়ের সাথে মিশে যেতে পারবে ওরা। তাছাড়া সিকিউরিটিকেও সতর্ক করতে পারবে।
তবে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে দরজা খুলতেই হতাশ হতে হলো তাদেরকে। সামনের প্রবেশমুখ থেকে বেশ কিছুটা দূরে হওয়ায় ভিড়ের কোনো চিহ্নও নেই এখানে। তার বদলে বরং একটা অন্ধকার সরু রাস্তা খুঁজে পেলো ওরা। শুধুমাত্র মেইনটেইন্যান্সের জন্যই এই পথটা ব্যবহার করা হয়।
যেভাবেই হোক এখন তাদেরকে মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে যেতেই হবে। এই মুহূর্তে ডান ও বামে দুটো রাস্তা আছে তাদের। বাম দিকের রাস্তাটাই বেছে নিলো স্যাম। কিছুটা এগিয়ে যেতেই দেখতে পেলো একটা সরু সিঁড়ি নেমে গেছে নিচের বেজমেন্টের দিকে। নিচে একটা দরজাও দেখতে পাচ্ছে। এদিকে আসো, বলে অন্যদেরকে সাথে নিয়ে অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে নামতে যাবে, ঠিক তখনই ইমার্জেন্সি এক্সিটের দরজা খোলার কাঁচকাঁচে শব্দ শুনতে পেলো।
ইভান বেরিয়ে এসেছে বাইরে। পিস্তল হাতে নিয়ে তাদেরকেই খুঁজছে।
কোনোরকমে শ্বাস আটকে সিঁড়ির দেয়ালের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। ইভান চলে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। এর ফাঁকেই পকেটনাইফটা বের করে এনে স্যামের হাতের বাঁধনটা কেটে দিলো রেমি।
হঠাৎ করেই ইভান ঘুরে দাঁড়ালো তাদের দিকে। ইভানকে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেই জমে গেলো ওরা। লোকটা তাদের এতো কাছে দাঁড়িয়ে আছে যে স্যাম চাইলেও এখন লোকটার পায়ের গোড়ালি আঁকড়ে ধরতে পারবে। তবে ইভান তাদেরকে এখনো দেখেনি। কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকিয়ে ফোন বের করে কাউকে কল দিয়ে বলল, মারলো মরে গেছে… না। ফার্গোদেরও হারিয়ে ফেলেছি। তবে এদিকে চেক করে দেখছি আমি। আর তুমি রাস্তার দিকে নজর রাখো… তাদেরকে না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাওয়া যাবে না। বস তাদেরকে…
