রুমের দিকে একবার চোখ বুলাতেই স্যামকে দেখতে পেলো রেমি। রুমের একপাশে যিপ-টাই দিয়ে হাত বেঁধে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে স্যামকে। তবে এছাড়া আঘাতের কোনো ছাপ দেখা যাচ্ছে না তার চেহারায়। সহিংসতার কোনো দরকার নেই, আমি এমনিই ঠিক থাকবো, ইভানের পিস্তলটার দিকে নির্দেশ করে বলল রেমি।
তোমার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিলো।
ফিরে যেতে কোনো সমস্যা নেই আমার।
বেশি দেরি হয়ে গেছে এখন, বলে হ্যাঁচকা টান দিয়ে রেমিকে রুমের ভিতরে নিয়ে গেলো ইভান।
.
৩৪.
রেমিকে রুমে টেনে এনে টেবিলের কাছে ঠেলে দিতে দেখেই রাগে জ্বলে উঠলো স্যাম। তার ইচ্ছা করছে এখনই ছুটে গিয়ে ইভানের মুখে ঘুষি লাগাতে, তার ঘাড় ভেঙে দিতে-কিন্তু সে জানে এখন এসব না করে অপেক্ষা করাটাই হবে শ্রেয়তর কাজ। ইভানের ছোটো হ্যান্ডগানটাতে হয়তো বেশি হলে দুটো বুলেট আছে, কিন্তু কাজ সারার জন্য তো দুটোই যথেষ্ট।
এটা কী? রেমিকে দেখে বলে উঠলো ফিস্ক।
অতিথি।
উত্তরটা শুনে একটু হতাশ মনে হলো বৃদ্ধ নোকটাকে। এখানের কেউই কি কোনো কথা শুনে না? তারপর মিস ওয়ালশের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি থেমে গেছো কেন? খুঁজতে থাকো।
রেমিকে ঠেলে আনতে দেখে মিস ওয়ালশও কাজ থামিয়ে দিয়েছিলো। ফিস্কের নির্দেশ শুনে আবারো কাগজের স্তূপের ভিতরে খোঁজা শুরু করলো মহিলা।
টেবিলের দিকে ঝুঁকে টেবিলের ওপরে থাকা জুতোটা আবারো হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে রেমি। ইভানের ধাক্কা খেয়ে পড়ার সময় জুতোটা তার হাত থেকে ছিটকে গিয়েছিলো। সাথে সাথেই ইভান তার হাত খাবলে ধরে টেবিলের কাছ থেকে সরিয়ে আনলো তাকে।
দৃশ্যটা দেখেই খেঁকিয়ে উঠলো স্যাম। আমার স্ত্রীকে একা ছেড়ে দাও।
না ছাড়লে কী করবে?
কী করবে দেখানোর জন্য উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো স্যাম, ঠিক তখনই মারলো তার কাঁধে চাপ দিয়ে আবারো চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলল, চুপচাপ এখানে বসে থাকো, নয়তো জবাই হয়ে যাবে।
রেমি তার জুতো ও পার্সটা বুকের কাছে আগলে ধরে ফিরে তাকালো স্যামের দিকে। তাকে অভয় দিয়ে বলল, আমি ঠিক আছি, স্যাম।
ইভান রেমিকে স্যামের পাশের চেয়ারের কাছে ঠেলে এনে বলল, বসো।
স্যাম এবং রেমি দুইজনেরই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরিতে বিশেষ দক্ষতা আছে। অন্তত স্যামের ধারণা এটাই। আর এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবেই এরকম একটা বিকল্প পরিকল্পনা দরকার তাদের। চেয়ারে বসতে বসতে স্যামকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো রেমি, ঠিক তখনই ইভান খেঁকিয়ে উঠলো তাদের দিকে। একদম চুপ। বলে রুমের অন্য প্রান্তে গিয়ে দাঁড়ালো ইভান।
ওদিকে মিস ওয়ালশ আরো একটা বাক্সের সামগ্রি ঢেলে নিয়েছে টেবিলের ওপর। ওগুলোতে খোঁজাখুঁজি করছে এখন। কাজ করার ফাঁকেই একসময় তার পাশে চাকু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মারলোর দিকে তাকিয়ে বলল, আপনার কি ঐ জিনিসটা নিয়ে এতো কাছেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
জবাবে কিছু না বলে চুপচাপ ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো মারলো। ভাবটা এমন যেন কথাটা তার গায়েই লাগেনি।
মিস ওয়ালশকে নতুন বাক্সে থাকা কাগজগুলো নিয়ে ঘাটতে দেখে ঘড়ির দিকে তাকালো ফিস্ক। তারপর বলল, তুমি কি নিশ্চিত যে তুমি ঐ জিনিসটা দেখোনি?
ওরকম কিছু থাকলে আমি অবশ্যই দেখতাম। কিন্তু ওটা ছিলোই না।
শুনে চোখ সরু করে তার দিকে তাকালো ফিস্ক। না থাকলে কাগজের স্তূপ ঘাটছো কেন? নিশ্চিতভাবেই ঐ জিনিসটা তো কোনো খামের ভিতরে থাকবে না।
আপনি তো সংকেতওয়ালা একটা গোলাকার বস্তু খুঁজছেন, তাই না? এরকম কিছু একটার ছবি দেখেছিলাম আমি। বলে ফিস্কের দিকে বাক্সটা বাড়িয়ে দিলো মিস ওয়ালশ। চাইলে আপনি নিজেও খুঁজে দেখতে পারেন।
কিছু না বলে বাক্স থেকে কাগজের একটা গাদা বের করে আনলো ফিস্ক। তারপর ইভান ও মারলোর দিকে ইশারা করে বলল, ফার্গোদের ওপর নজর রাখো।
ফিস্ককে কাগজের গাদা নিয়ে খুঁজতে দেখে রেমির দিকে ফিরে তাকালো স্যাম। তুমি ঠিক আছে?
হ্যাঁ, সত্যিই ঠিক আছি।
তোমার এখানে ফিরে আসা উচিৎ হয়নি।
তোমাদের জন্য দুঃশ্চিন্তা হচ্ছিলো আমার। আর তাছাড়া মিউজিয়ামের সামনে বিস্ফোরক ভর্তি কোনো অ্যাম্বুলেন্সও ছিলো না।
একটু কৌশল নেওয়াই লাগে, তাদের দিকে না তাকিয়েই টেবিলের কাছ থেকে বলে উঠলো ফিস্ক। আর, কাজেও তো লেগেছে ওটা।
তো, যাই হোক, ফিস্কের কথায় পাত্তা না দিয়ে স্যামের কব্জিতে বেঁধে রাখা জিপ-টাইয়ের দিকে তাকালো রেমি। তোমার নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা দুঃশ্চিন্তা হচ্ছিলো।
রেমির কথা শুনে মৃদু হাসলো স্যাম। তারপর চোখ তুলে তাকালো মিস ওয়ালশের দিকে। মহিলা এখনো কাগজগুলো ঘেঁটে ঘেঁটে দেখছে। তবে কাগজগুলো স্পর্শের ব্যাপারে ফিস্কের থেকে বেশি সতর্ক মিস ওয়ালশ। নিশ্চিতভাবেই ঐতিহাসিক এই দলিলগুলোর নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করছে মহিলা। নাহলে, হয়তো বুঝতে পারছে যে ফিস্ক লোকটা তার জিনিসটা পেয়ে গেলেই তাদের জীবনের ইতি ঘটবে।
ঠিক তখনই একটা হলদেটে কাগজ উঠিয়ে ধরে উল্লাসের সাথে চেঁচিয়ে উঠলো ফিস্ক। পেয়ে গেছি।
সাথে সাথেই জমে গেলো মিস ওয়ালশ।
স্যাম ওদিকে তার হাতে লাগানো প্লাস্টিকের জিপ-টাইটা ছুটানোর চেষ্টা করছে। সাথে সাথে চোখ রাখছে ফিস্ক এবং ইভানের দিকেও। ফিস্ক ওদিকে আনন্দে অন্যদের উপস্থিতির কথা যেন ভুলেই গেছে। তারপর হঠাৎ করে মনে পড়তে তাদের দিকে চোখে তাকালো লোকটা। ইভান ও মারলোকে নির্দেশ দিয়ে বলল, তোমাদের কাজ শেষ করে ওপরে দেখা করবে আমার সাথে। সাহায্যের জন্য জ্যাককেও পাঠাচ্ছি।
