সিঁড়ির সামনে পৌঁছে রেমি মহিলাদের একজনকে বলল, এক্সকিউজ মি। আমার স্বামীকে নিয়ে একটু দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে। কোথাওই খুঁজে পাচ্ছি না তাকে। খুব সম্ভবত ওপরতলায় আছে ও।
এখানেই অপেক্ষা করুন, ম্যাম। সিকিউরিটি ওপর থেকে সবাইকেই বের করে আনছে।
ধন্যবাদ, বলে পিছিয়ে যেতে গিয়ে জুতায় হোঁচট খেলো রেমি। টাল সামলাতে না পেরে ঝট করে পড়ে গেলো সামনে দাঁড়ানো মহিলার ওপর। পড়তে গিয়ে পার্সটাও হাত থেকে ছিটকে দূরে উড়ে গেছে। ওহ নো, বলে উঠলো রেমি। মহিলার সহায়তায় আবারো উঠে দাঁড়িয়ে বলল, খুবই দুঃখিত আমি।
আপনি ঠিক আছেন তো?
হ্যাঁ, রেমি বলল। আহত হইনি, তবে লজ্জিত প্রচুর। আপনি ব্যথা পাননি তো কোনো?
না। দাঁড়ান। আপনার পার্সটা এনে দিচ্ছি।
আরে না, কষ্ট করা লাগবে না আপনার। আমিই নিতে পারবো, বলে মহিলার পাশ কাটিয়ে গিয়ে পার্সটা মাটিতে থেকে তুলে গলায় ঝুলিয়ে নিলো রেমি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। ফালতু হাই হিল! বলে ওপরতলার দিকে তাকালো রেমি। আমার স্বামীকে দেখতে পাচ্ছি না। হয়তো আমার আগেই বাইরে চলে গেছে।
বলে মহিলার কাছে আবারো ক্ষমা চেয়ে ভিড়ের সাথে করে আবারো এক্সিটের দিকে পা বাড়ালো রেমি। যাওয়ার সময় পার্সের আড়ালে চুরি করা কী-কার্ডটা লুকিয়ে রেখেছে। যখন দেখলো পিছে থাকা মহিলাদের তার দিকে কোনো নজর নেই, তখনই সোজা দৌড় লাগালো একটা দরজার দিকে। আশা করছে ঐ দরজা দিয়েই স্যামের কাছে যাওয়া যাবে। দরজার সামনে পৌঁছে কী-কার্ড দিয়ে তালা খুলে নিলো; তারপর পার্সের ভিতর রেখে দিলো কী কার্ডটা। নিচের থেকে নেমে যাওয়া একটা সিঁড়ি রয়েছে দরজার ওপাশে। সিঁড়ির অন্যপ্রান্তে থাকা একটা ভোলা দরজা রয়েছে। কেউ তার ওপর নজর রাখছে না দেখে নিশ্চিত হয়ে আস্তে করে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে পা বাড়ালো সিঁড়ির দিকে।
সিঁড়ি থেকে নেমে হলওয়ে ধরে দৌড় শুরুর আগে জুতোগুলো খুলে নিলো রেমি। জুতোর শব্দ দিয়ে ফিস্ককে আগমনী বার্তা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার। এগিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি দরজা খুলে পেলো ঠিকই, তবে সবগুলো দরজাই তালা দেওয়া। দরজাগুলো চেক করতে করতে হলওয়ের ৩ শেষপ্রান্তে পৌঁছে গেলো একসময়। এই করিডোরটা আসলে ইংরেজি T-(টি) আকৃতির মতো। এখন তার দুই পাশেই দুটো রাস্তা আছে। প্রথমে বামদিকে তাকাতেই এক্সিট লেখা একটি দরজা দেখতে পেলো রেমি। সে নিশ্চিত ফিস্কের লোকেরা ঐদিক দিয়ে যায়নি। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত মিউজিয়াম থেকে বেরুবে না ফিস্কের দলটা। তাই ডান দিকেই পা বাড়ালো রেমি। দশ ফুটের মতো এগিয়ে যেতেই কণ্ঠস্বরের ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পেলো। করিডোরের শেষ মাথা থেকে ভেসে আসছে শব্দটা।
ঝট করে দাঁড়িয়ে শব্দটা শোনার চেষ্টা করলো রেমি। অবশ্য কে কথা বলছে বা কী নিয়ে কথা বলছে তার কিছুই ধরতে পারছে না। তবে, এখন এটা নিশ্চিত যে সে ঠিক পথেই এগুচ্ছে।
দেয়ালের কাছ ঘেষে নিঃশব্দে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ও। কণ্ঠস্বরের শব্দও ধীরে ধীরে জোরালো শোনাতে শুরু করেছে এখন।
খুঁজতে থাকো। কণ্ঠস্বরটাকে ফিস্কের মতো লাগলো তার কাছে।
আপনি কী খুঁজছেন, এক মহিলার কণ্ঠস্বর, সেটা বললে হয়তো সাহায্য করতে পারতাম?
তোমাকে বলেছি আগেই। গোলাকার একটা জিনিস, বেশ কিছু সংকেত আছে ওটাতে।
রুমের একদম কাছে পৌঁছে গেছে রেমি। দেয়ালে পিঠে ঠেকিয়ে রুমের ভিতরের শব্দ শোনার চেষ্টা করছে। রুমের দরজাটা চাপানো, তবে শক্ত করে লাগানো নয়। হালকা একটু ফাঁকা হয়ে আছে। ফাঁকা দিয়েই ভিতরের দৃশ্যটা দেখতে পেলো রেমি। দরজার দিকে পিঠ ফিরিয়ে সামনের কিছুর দিকে তাকিয়ে আছে ফিস্ক। আরেকটু ভালো করে উঁকি দিতেই দেখতে পেলো যে, মিস ওয়ালশ এক টেবিলের ওপর থাকা কিছু জিনিসে ঘাটাঘাটি করছে। ফিস্ক ওটার দিকেই তাকিয়ে আছে। আর তাদের পাশে চাকু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মারলো নামের লোকটা। তবে স্যাম বা ইভানের কাউকেই দেখতে পেলো না। দরজাটার আরো কাছে এগিয়ে গেলো ও। হালকা একটু ধাক্কা দিয়ে দরজাটা ফাঁক করে নিলেই তার কাজ হয়ে যাবে। দরজায় হাত দিয়ে মৃদু একটা ধাক্কা দিলো রেমি। এক ইঞ্চির মতো ফাঁক হয়ে গেছে দরজাটা। রুমটার দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলো যে এটাই আসলে হারবার্ট কালেকশনের স্টোরেজটা। এখানেই প্রদর্শনীতে না থাকা সামগ্রিগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে। টেবিলের ওপর অনেকগুলো অস্ত্র দেখতে পেলো রেমি। হাতল ছুটে যাওয়া গদার মাথা, পুরোনো চামড়ার ঢাল, শারীরিক বর্মের টুকরো টুকরো অংশসহ অনেক কিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে টেবিলের ওপর। তবে এগুলোর কোনোটাকেই আসলে এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ঠিক তখনই তার চোখ পড়লো একটা পিতলের তারকার ওপর। এককালে চামড়ার বর্মটার সাথে জুড়েছিলো এই তারকাটা। ছুটে গিয়ে এখন আলাদা একটা অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। তারকার কোনাগুলো তীক্ষ্ণ ও ধারালো হওয়ায় যথেষ্ট জোরে ছুঁড়ে মারলে ভালোই ক্ষতি করা সম্ভব।
আরো দেখতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনই ঝট করে খুলে ফাঁক হয়ে গেলো দরজাটা। চোখ তুলে তাকাতেই পিস্তলের নল দেখতে পেলো রেমি। ইভান বেরিয়ে এসেছে রুম থেকে। একদম নড়বে না।
