শুনেই মিস ওয়ালশের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদুটোর দিকে তাকালো স্যাম। জ্যাকেটের ডান পকেটে হাত ঢুকিয়ে রাখা ইভান হাসছে তার দিকে তাকিয়ে। ফিস্ক যে এখন তার কথাই বলছে, সেটা যেন জানে লোকটা। সাথে সাথে ফিস্কের কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য জ্যাকেটটা পাশে সরিয়ে পিস্তলটা বের করে তাক করে ধরলো রেমির দিকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বেজে উঠলো ফায়ার অ্যালার্মটা। সাথে সাথে ফিস্কও বলে উঠলো, মি, ফার্গো, সিদ্ধান্ত তোমার হাতে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও।
.
৩৩.
ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠতেই স্যামের হাত খাবলে ধরলো রেমি। স্যামকে রেখে কোথাও যাচ্ছি না আমি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তোমার ওপর নয়, মিসেস ফার্গো।
স্যাম জিজ্ঞেস করলো, আপনাকে সাহায্য করলে রেমির সাথে কী করা হবে?
তোমার মিসেস সুবোধ মেয়ের মতো একাকী হেঁটে গিয়ে মিউজিয়ামের সামনে দাঁড়ালেই আমার লোকেরা বিস্ফোরক সরিয়ে নিবে। তবে পুলিশ আসার আগেই সামনে গিয়ে পৌঁছাতে হবে তাকে। তবে সে ঠিকঠাক কাজটা করতে না পারলে তোমার কী হবে সেই প্রশ্ন করা উচিৎ মিসেস ফার্গোর। বলে রেমির দিকে তাকালো ফিস্ক। ভালোভাবে প্রবেশমুখের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, আর ফোন ব্যবহার করবে না। ভালোয় ভালোয় দায়িত্ব পালন করলে তোমার স্বামী নিরাপদেই থাকবে।
স্যাম…
আমি ঠিকই থাকবো, রেমি। তুমি যাও। বলে এক্সিটের দিকে তাকালো স্যাম। মিউজিয়ামের কর্মীরা মেহমানদের বের করছে এক্সিট দিয়ে।
চলে যাওয়ার আগে শীতল দৃষ্টিতে ফিস্কের দিকে তাকালো রেমি। যাওয়ার আগে ফিস্ককে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য আরেকবার স্যামের দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল, এদের কোনো বিশ্বাস নেই। তাই সাবধানে থাকবে।
স্যামও মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলো তার কথায়। এরপর বলতে গেলে প্রায় জোর করেই এক্সিটের দিকে পা বাড়ালো রেমি। এক্সিটের কাছে পৌঁছে শেষবারের মতো আরেকবার ফিরে তাকালো স্যামের দিকে। আশা করছে স্যাম ফিরে চাইবে তার দিকে।
স্যামদেরকে নিয়ে গ্যালারির প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে ফিস্কের লোকেরা। দরজা খোলার জন্য প্রায় জোর করেই মিস ওয়ালশের দিকে সাদা কী-কার্ডটা ছিনিয়ে নিতে হয়েছে। দরজার খোলার পর অবশেষে রেমির দিকে ফিরে তাকালো স্যাম। হাতের আঙুল ভাজ করে একবার কপালে ছুঁয়ে তাক করে দেখালো রেমির দিকে।
রেমিও একই কাজ করলো। এটা তাদের নিজস্ব সংকেত। এই সংকেতের মাধ্যমেই তারা একজন আরেকজনকে ভালোবাসা ও দুঃশ্চিন্তা না করার ইশারা দেয়।
তারপর জোর করেই শান্তভাবে পা চালিয়ে ভিড়ের অন্যদের সাথে মিশে গেলো রেমি। নিঃশ্বাস স্বাভাবিক রেখার চেষ্টা করছে, ভয়টাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে। স্যামের সামর্থ্যের ব্যাপারে সে খুব ভালো করেই জানে। যদি ফিস্ককে কেউ হারাতে পারে, তাহলে তা স্যামই পারবে। তারপরও দুঃশ্চিন্তা দূর করতে পারছে না।
এভাবেই হেঁটে বাইরে পৌঁছানোর পর শরীরে শীতল বাতাসের ছোঁয়া পেলো রেমি। চারপাশ থেকে ভেসে আসা সাইরেনের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। অন্যান্য মেহমানরাও ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে প্রবেশমুখের সামনে।
হাসি ও কথোপকথনের মৃদু গুঞ্জনে ভরে উঠেছে জায়গাটা। মেহমানদের কাউকেই অতটা আতঙ্কিত দেখাচ্ছে না।
তবে বাইরে কোনো অ্যাম্বুলেন্সের দেখা পেলো না রেমি। এমনকি, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের অভিনয় করার মতো কোনো লোককেও না।
ফিস্ক মিথ্যা বলেছে তাদেরকে।
ঘটনা বুঝতে পেরেই মনে মনে গালি দিয়ে উঠলো রেমি। ধ্যাত, গাধার মতো লোকটার ধাপ্পা বিশ্বাস করেছি।
সাথে সাথেই ঘুরে দরজার দিকে দৌড় লাগালে আবার। দরজায় দাঁড়ানো সিকিউরিটির লোকেরা এখনো মেহমানদেরকে বের করছে মিউজিয়াম থেকে। সে পুনরায় ঢোকার চেষ্টা করতেই এক গার্ড তাকে আটকে দিয়ে বলল, স্যরি, ম্যাম। এখন ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এসে নিশ্চয়তা দেওয়া পর্যন্ত বাইরেই থাকতে হবে সবাইকে।
আমার স্বামী, কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলো রেমি। সাথে সাথে চেহারাও আতঙ্কের ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে। সে ডায়াবেটিকের রোগী। ইনসুলিন দেওয়ার জন্য রেস্টরুমে গিয়েছিলো। এখনো আসেনি। বাইরেও কোনো জায়গায় দেখতে পাচ্ছি না তাকে। ফাস্ট-ফ্লোরের রেস্টরুমে আছে ও। প্লিজ, একটু যদি ঢুকতে দিতেন…? বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি টলটল করছে। অবস্থায় ফুটিয়ে তুলেছে রেমি। তাকে পাওয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে আসবো আমি।
এক মুহূর্তের জন্য ভেবে নিলো গার্ড। তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, যান। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসবেন।
ধন্যবাদ। জলদিই করবো আমি।
বলে মিউজিয়ামের বিশাল করিডোর ধরে হাঁটতে শুরু করলো রেমি। কিছুটা যাওয়ার পর পিছনে তাকিয়ে দেখলো গার্ড লোকটার তার দিকে কোনো মনোযোগই নেই। পারফেক্ট। এটাই চাইছিলো ও। হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এখন। জন পঞ্চাশের মতো মেহমান আছে এখনো মিউজিয়ামের ভিতরে। দ্রুত গতিতে বামের বক্রাকার সিঁড়িটার কাছে এগিয়ে যেতেই দেখলো, সিঁড়ির দুই পাশে দুই তরুণী মহিলা দাঁড়িয়েছে। দুজনই মিউজিয়ামের কর্মী। সিঁড়ির সামনে অনবরত একই কথা বলে যাচ্ছে মেয়ে দুটো। ইমার্জেন্সি! প্লিজ, নিকটবর্তী এক্সিটের দিকে চলে যান সবাই। ধন্যবাদ।
