করলে খুবই ভালো হয়, বলল রেমি। আপনাদের কাছে জিনিসগুলো বিস্তারিত কোনো তালিকা আছে?
প্রশ্নটা শুনে একটু চুপ করে গেলো মিস ওয়ালশ। রেমিকে ফোনে টাইপ করতে দেখে কিছুটা দ্বিধা হচ্ছে তার। তাই বলল, আপনাদের আগ্রহের কারণটা কি জানতে পারি আমি?
আমরা লেখক, স্যাম বলল। আমরা আসলে মর্টিমার পরিবার নিয়ে সম্পূর্ণ ইতিহাসটা লেখার আশা করছি। এখানে এসে অবৈধ মর্টিমার-হারবার্ট ধারাটা সম্পর্কেও জানা হলো। এটাও বইয়ে যোগ করে দিবো আমরা।
রেমিও স্যামের সাথে সায় দিয়ে ফোন উঁচিয়ে বলল, সেজন্যেই নোট নিচ্ছি।
ওহ, তাহলে ঠিক মানুষের কাছেই এসেছেন আপনারা, মিস ওয়ালশ বলল। আপনাদের নাম ও যোগাযোগের নম্বরটা দিয়ে যান। খুশিমনেই আপনাদের কল করবো আমি। বলে পকেট থেকে একটা প্যাড ও কলম বের আনলো মিস ওয়ালশ।
লংস্ট্রিট। মি. অ্যান্ড মিসেস লংস্ট্রিট, বলে নিজের ফোন নম্বরটা জানালো রেমি।
আপনাদেরকে কল দিবো আমি।
এরপর মহিলা তাদের থেকে বিদায় নিয়ে অন্য মেহমানদের দিকে চলে যেতেই স্যাম রেমিকে জিজ্ঞেস করলো, সবকিছু মাথায় নিয়ে নিয়েছে তো?
হ্যাঁ। সাথে সাথে সেলমাকেও মেসেজ করে দিচ্ছি।
ফটোগ্রাফিক স্মৃতিশক্তি রেমির। একবার কোনো কিছু জানলে সেটা সে কখনোই ভুলে না। তাই মিস ওয়ালশের বলা কথাগুলো মনে থাকা নিয়ে রেমির প্রতি কোনো সন্দেহ নেই স্যামের। তাহলে চলল, খোঁজ শুরু করা যাক। বলে সামনের দিকে তাকাতেই কলিন ফিস্ককে এগিয়ে আসতে দেখলো স্যাম। পিতলের প্রশস্ত হাতলসহ একটি লাঠি নিয়ে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে লোকটা। যদিও লোকটার পায়ের চলনে খোঁড়ানোর কোনো ছাপ দেখা যাচ্ছে না। তাকিয়ে দেখো কে আসছে।
চমৎকার। আর আমরা ভাবছিলাম আজ আমাদের কপাল হয়তো খুব ভালো যাচ্ছে।
বাহ, কত অরিজিনাল টেকনিক দেখালে, ফিস্ক বলে উঠলো। বন্দুকধারী মানুষ? শুধু এটুকুই ভাবতে পারলে? আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম তোমাদের থেকে।
কাজ তো করেছে, এটাই যথেষ্ট। সম্বোধনের পরিবর্তনটা নজর এড়ালো না স্যামের। স্পষ্টতই সিকিউরিটি লেলিয়ে দেওয়ানোটা পছন্দ হয়নি লোকটার। অবশ্য ফিস্কের সাথে ভাড়াটে গুণ্ডাদের কাউকেই আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। এটা দেখে চমকটা আর এড়াতে পারলো না স্যাম। তাই খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, সাথে কেউ নেই?
আমাদের বোকা ভেবো না। বিপদের সময় সুন্দরী বধূকে বাড়িতে রেখে আসার মতো যথেষ্ট বুদ্ধি অন্তত আছে আমাদের।
কথাটার আড়ালে থাকা প্রচ্ছন্ন হুমকিটা বুঝতে কোনো সমস্যা হলো না স্যামের। রেমির সামর্থ্যের প্রতি তার পূর্ণ বিশ্বাস থাকলেও উদ্বেগটা দূর করতে পারছে না। তাই প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলল, আপনি এখানে কেন এসেছেন সেটা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম। তবে জিজ্ঞেস করেই বা লাভ কী? উত্তরটা তো আমাদের জানাই আছে।
তাই নাকি? যাই হোক, মর্টিমারের কালেকশনটা খুঁজে পেয়েছো দেখছি। অবশ্য তাকে ডেসপেন্সরের ডিসপ্লের পাশে রাখাটা বেশ লজ্জাজনক।
অতীত ইতিহাস অনুযায়ী, এটাকেই তো সঠিক জায়গা বলে মনে হচ্ছে।
সঠিক ইতিহাস জানা থাকলে, ভিন্ন কথা বলতে, বলে শীতলভাবে হেসে উঠলো ফিস্ক। তারপর রেমির দিকে একবার নজর ঘুরিয়ে আবারো স্যামকে বলল, এখন, যদি তোমার মর্জি হয়, তাহলে চলো পিছনের হলের দিকে এগিয়ে যাই আমরা।
কিভাবে ভাবলেন যে আমরা আপনার সাথে কোথাও যাবো?
যাবে না যে, সেটা তো স্বাভাবিক ভাবেই বুঝা যায়। তাই যাওয়ার ব্যবস্থা করেই তো এসেছি। আমাদের সাহায্য করো, নাহলে… ঐ তরুণী কিউরেটরের কী নাম যেন, ওয়ালশ না? হ্যাঁ, এটাই তো। গ্যালারির অন্যপাশে তাকিয়ে কিউরেটরের অবস্থাটা দেখে নাও নিজের চোখেই।
চোখ ঘুরিয়ে ওদিকে তাকালো স্যাম। দেখলো, মিস ওয়ালশ তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে মহিলার। আর মহিলার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে ফিস্কের দুই গুণ্ডা ইভান এবং নতুন আরেকজন।
ওদিকে তাকিয়ে থেকেই স্যাম বলল, আর যদি সাহায্য করতে রাজি না
তাহলে আর কী? মিস ওয়ালশের জন্য কফিনের ব্যবস্থা করতে হবে আর কী!
আপনি ভাবছেন এখানে কাউকে খুন করে সহজেই চলে যেতে পারবেন আপনি? এই ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে?
ওটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে। ওটার ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, তোমরা কতজন মানুষের আহত-নিহত হওয়া দেখতে চাও?
কী ব্যবস্থা? অন্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
জানতে চাও? আচ্ছা বলছি। ষাট সেকেন্ডের মধ্যেই মিউজিয়ামের ফায়ার অ্যালার্মগুলো বেজে উঠবে। এরপর কী হবে তো জানোই। ঐতিহ্যবাহী কায়দায় মেহমানদেরকে ভিতর থেকে বের করা শুরু করবে মিউজিয়ামের কর্মীরা। তবে যেটা কেউ জানে না সেটা হলো, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়া এক লোকের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্স আসার কথা রয়েছে মিউজিয়ামের সামনে। এতোক্ষণে হয়তো এসেও পড়েছে। আর ঐ অ্যাম্বুলেন্সে যে পরিমাণ বিস্ফোরক আছে, তাতে মিউজিয়ামের সামনের দিকটা উড়িয়ে দিতে তেমন সমস্যাই হবে না। তো এখন তোমার সামনে দুটো পথ আছে। এক, তুমি চাইলে অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে তোমার বউকে নিয়ে বেরুনোর জন্য অন্যদের সাথে মিশে যেতে পারো। এতে করে অন্যদের সাথে তোমার সুন্দরী বউয়ের দেহও ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে বিস্ফোরণে। নাহলে দুই, আমার এবং এই ভীত কিউরেটর মহিলার সাথে করে আসতে পারো। এতে করে তোমার বউসহ শত শত মানুষের জীবনও বাঁচাতে পারবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও। মারলোর হাতে থাকা চাকুটা খুবই ধারালো। কিউরেটরের বেশ কষ্ট হচ্ছে এতে। এই কথাটার মাধ্যমে বুঝালো। যে স্যাম তাদের সাথে যেতে না চাইলে কিউরিটরের গলায় চাকু ঢুকিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই হত্যাযজ্ঞের সূচনা হবে। আর এতো কষ্ট করে আমাদের পিছনে সিকিউরিটি লেলিয়ে দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ইভান ঠিকই তার পিস্তুলটা নিয়ে ঢুকতে পেরেছে।
