গার্ড লোকটাকে কিছুটা দ্বিধান্বিত দেখাচ্ছে এখন। ভিতরে ঢুকতে দিবে কিনা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না যেন। কিছুক্ষণ চুপ করে অন্য গার্ডের থেকে তাকিয়ে থাকার পর বলল, আফা, ঠিক আছে। নাম বলুন আপনাদের।
লংস্ট্রিট, ঝট করে বলে এলো রেমি। তার কুমারী নাম এটা।
সাথে স্যাম যোগ করলো, মি. অ্যান্ড মিসেস।
মি, অ্যান্ড মিসেস লংস্ট্রিট, বলে ঘোষণা করে উঠলো গার্ড লোকটা। তারপর ভিতরের দিকে ঠেলে দিলো তাদেরকে।
তাড়াতাড়ি করে দরজার সামনে থেকে সরে গেলো স্যাম ও রেমি। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে চাচ্ছে। বিশেষ করে ফিস্কেরও তাদের পিছনে নিরাপত্তা কর্মীদের লাগিয়ে দেওয়া অসম্ভব কিছু না। যাক, ভালোয় ভালোয় ঢুকতে পেরেছি শেষমেশ, ভিতরে গিয়ে নিরাপদবোধ করার পর এবং কাউকে তাদের পিছনে ছুটে আসতে না দেখে বলল স্যাম।
সাথে সাথে তাদের পাশ দিয়ে শ্যাম্পেইনের গ্লাস নিয়ে হেঁটে যেতে থাকা ওয়েটারের কাছে দুটো গ্লাসও নিয়ে নিলো স্যাম। একটা রেমির হাতে দিয়ে বলল, চিয়ার্স অপূর্ব সুন্দরী রমনীর প্রতি, যে কিনা একজন ভালো অভিনেত্রীও বটে।
এবং চিয়ার্স শেষ মুহূর্তে অভিনয়ের আইডিয়া বের করা সেই সুদর্শন পুরুষের প্রতিও, বলে স্যামের গ্লাসে টোকা দিয়ে পানীয়তে চুমুক দিলো রেমি।
এরপর আর সময় নষ্ট না করে মিউজিয়ামের প্রশস্ত করিডোর দিয়ে হেঁটে এগিয়ে যাওয়া শুরু করলো ওরা। করিডোর পেরিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার পর একবার পিছনে ফিরে তাকালো স্যাম। তাকে কিছুটা দুঃশ্চিন্তিত দেখাচ্ছে।
ব্যাপারটা নজর এড়ালো না রেমির। কোনো সমস্যা?
এভেরির লোকদের পিছনে নিরাপত্তাকর্মীদের লেলিয়ে দেওয়াটা খুব সম্ভবত মৌমাছির চাকে ঢিল ছুঁড়ার মতো ব্যাপার ছিলো।
আশা করছি, ওরা হুল ফুটানোর আগেই ভিতর থেকে সব তথ্য জেনে বেরিয়ে যেতে পারবো আমরা।
আমিও, বলে প্রদর্শনীর সামনে জমায়েত হওয়া ভিড়ের দিকে পা বাড়ালো স্যাম। এগিয়ে যাওয়ার সময় আশেপাশের সবকিছুর দিকেই নজর রেখে এগুচ্ছে, চোখ রাখছে সন্দেহজনক মনে হওয়া মানুষগুলোর দিকে। সাদা পোশাকে থাকা বেশ কিছু নিরাপত্তারক্ষককে দেখতে পেলো ও। অবশ্য এই জায়গায় এটা খুবই স্বাভাবিক। ওদেরকে হুমকির চোখে না দেখে এভেরি বা ফিস্কের জন্য কাজ করা কেউ আছে কিনা সেটাই দেখছে শুধু।
তবে কেউ নেই। পরিস্থিতি এখনো তাদের পক্ষেই আছে বলা যায়।
গ্যালারির প্রবেশমুখে যেতেই এক মহিলা তিন ভাঁজ করা পুস্তিকা ধরিয়ে দিলো তাদের হাতে।
পুস্তিকাটা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো রেমি। আর স্যাম এই ফাঁকে লম্বা। রুমে জমায়েত হওয়া মানুষগুলোকে দেখে নিচ্ছে। রুমের কেউই তাদেরকে দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না দেখে বেশ সন্তুষ্ট ও।
চমৎকার, হুট করে বলে উঠলো রেমি।
কী?
রেমি তার হাতের পুস্তিকাটা দেখিয়ে বলল, প্রদর্শনীতে তারা যা যা দেখাচ্ছে, তা দেখলে তুমি হয়তো ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য তাদের ভিন্ন কোনো নাম বাছাই করা দরকার ছিলো। অনুষ্ঠানটার আভিধানিক নাম ইলেজিটিমেট রয়েল চিলড্রেন অফ ইংল্যান্ড।
ভালোভাবে ভাবলে কিন্তু এটাকে অ্যা রয়েল নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়ামর মতো অতোটা আকর্ষণীয় শোনাবে না। বলে রুমের দিকে চোখ বুলাতেই এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকা বৃদ্ধ পৃষ্ঠপোষকদের দেখতে পেলো স্যাম। নিশ্চিতভাবেই, অনুষ্ঠানের জন্য চেকবুক লিখতে গিয়ে এদের অনেকেরই বেশ কষ্ট হয়েছে।
কথাটা শুনে হেসে উঠলো রেমি। ভালো বলেছো, ফার্গো। তো, কী নিয়ে এতো সবার এতো আগ্রহ সেটা তো এখন দেখা উচিৎ আমাদের, তাই না?
বলে স্যামের হাত ধরে প্রদর্শনীতে সাজিয়ে রাখা জিনিসগুলো দেখতে শুরু করলো ওরা। প্রদর্শনীতে সবকিছুই বছর এবং পরিবারের নাম অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাগে সারিবদ্ধ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
অর্ধেকটা এগুনোর পরই গ্রেস হারবার্ট-মিলার এবং তার জ্ঞাতি ভাইয়ের দান করা সামগ্রির ডিসপ্লেটা খুঁজে পেলো ওরা। পেইন্টিং, যুদ্ধের বর্ম, অস্ত্র, গহনা থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু সাজিয়ে রাখা হয়ে এই প্রদর্শনীতে। সাইফার হুইলটাও থাকতে পারে। তবে চোখের সামনে নেই আর কী। হয়তো অন্যান্য সামগ্রির নিচে লুকিয়ে আছে। যাই হোক, দেরি না করে আইটেমগুলো পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেছে ওরা। সময় নিয়ে প্রতিটি আইটেমই নিখুঁতভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছে।
ছবি তুলে নাও তুমি, দেখা শেষের পর বলল স্যাম। ফিস্ক আসছে কিনা সেটার দিকে নজর রাখছি আমি।
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিয়ে ফোন বের করে ছবি তুলতে শুরু করলো রেমি। প্রতিটা আইটেমেরই ছবি তুলে নিচ্ছে ও। কয়েকমিনিট পর ছবি তোলা শেষে বলল, হয়ে গেছে আমার।
ঠিক তখনই বিজনেস স্যুট পরা এক মহিলা এগিয়ে এলো তাদের দিকে। স্যটের বুকের কাছে থাকা আইডি কার্ডটা জানান দিচ্ছে যে মহিলা এই মিউজিয়ামেরই কর্মী। দেখতে খুবই চমৎকার না ওগুলো?
স্যাম প্রথমে মহিলার সাথে সায় দিতে চাচ্ছিলো, কিন্তু তখনই মনে পড়লো যে সায় দিলে মহিলার থেকে আর বেশি তথ্য পাওয়া যাবে না। তাই গাম্ভীর্য বজায় রেখে বলল, কোনগুলো?
মর্টিমার কালেকশনগুলোর কথা বলছি। আমাদের নতুন সংযোজন। প্রদর্শনীর জন্য আমিই সাজিয়েছি ওগুলো।
