লা জোলার উষ্ণ বায়ুর আবহাওয়াই বেশি পছন্দ আমার।
জবাব না দিয়ে ফোনের পর্দার দিকে তাকালে রেমি। সোজা পথে আরো দশ মাইল পর একটা মোড় পাবে। মোড়ে গিয়ে ডানে বাঁক নিবে।
বাক নিয়ে খোয়া বিছানো দুই লেনের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। এভাবেই আরো কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে হারবার্টদের খামার বাড়িটা চোখে পড়লো ওদের। একটা বড়ো কটেজ এবং কিছু ছোটো ছোটো দালানে গড়ে উঠেছে বাড়িটা। কটেজের চিমনি দিয়ে ধোয়া বেরুচ্ছে।
পার্ক করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। নুড়ি বিছানো ড্রাইভওয়েটা ক্রস করে গিয়ে নক করলো দরজায়। এক মহিলা এসে খুললো দরজাটা। মহিলার বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি, বাদামি চুলগুলো ছোটো ছোটো করে ছাঁটা, কপালের দিকের চুলগুলো কিছুটা ধূসর বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। চোখগুলোও কিছুটা ধূসর। দরজা খুলে কৌতূহলের দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনারা নিশ্চয় ফার্গো দম্পতি?
হ্যাঁ। আপনিই মিসেস হারবার্ট? বলল স্যাম।
আসলে, হারবার্ট-মিলার। তবে আমাকে গ্রেস বললে ডাকলেই খুশি হবো। আসুন, ভিতরে আসুন। চা চলবে? কেটলি চুলোতেই বসানো আছে।
অবশ্যই, বলল রেমি।
বলে তাদেরকে নিয়ে বৈঠকখানার দিকে এগিয়ে গেলেন মহিলা। তারা রুমে গিয়ে বসার কিছুক্ষণ পরই চীনামাটির চায়ের কাপসহ একটা রুপালি ট্রে নিয়ে ফিরে এলেন আবার। লম্বা ভ্রমণের পর স্যাম আসলে এই মুহূর্তে একটা কড়া কফির আশা করছিলো, তবে তারপরও চায়ে আপত্তি জানালো না। দুধ চিনি ছাড়া চায়ে চুমুক দিতে দিতে মিসেস হারবার্ট-মিলারের কথা শুনছে। নিজেকে ঐতিহাসিক সম্পদসমূহেরর উত্তরাধিকারিণী হিসেবে আবিষ্কারের পর চমকে যাওয়ার অভিজ্ঞতার ব্যাপারে জানাচ্ছেন মহিলা।
হুট করেই একদিন একটা কল এলো, চায়ের কাপে চিনি নিয়ে নাড়তে নাড়তে বলছেন মহিলা। সেটাও আবার লন্ডনের এক সলিসিটরের কল। কল দিয়ে জানতে চাইলো আমি মিলফোর্ড হারবার্টসের গ্রেস হারবার্ট কিনা। বলে চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে নিলেন মহিলা। স্বাভাবিকভাবেই ঐসব সম্পদ বিক্রির তালিকায় তুলে দিয়েছিলাম আমরা। পুরোনো শীতল একটা দুর্গে গিয়ে। থাকার কথা চিন্তাও করতে পারি না আমি। যদিও মিলফোর্ড খুবই সুন্দর একটা জায়গা। এমনটাই শুনেছি আমি। তবে আমার মনে হয় না আমি চাইলেও আমার স্বামীকে ওখানে গিয়ে থাকার ব্যাপারে কখনো রাজি করাতে পারব কিনা।
জায়গাটা আসলেই সুন্দর, রেমি বলল। অনেক বছর আগে আমি একবার গিয়েছিলাম ওদিকে।
স্যাম অবশ্য আলোচনাটা আরো দ্রুত সারতে চাচ্ছে। তাই বলল, ওখানে কি ঐতিহাসিক মর্যাদাসম্পন্ন কিছু চোখে পড়েছে আপনার? অবশ্যই, ঐ দুৰ্গটা ছাড়া।
আমি আসলে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। সব কিছুই ভাগাভাগি করা হয়ে গেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে আমি দুৰ্গটা পেয়েছি, আর আমার নটিংহামের কাজিন হ্যারি ম্যাকগ্রেগর পেয়েছে ওখানের কিছু ভূসম্পত্তি পেয়েছে। খুব সম্ভবত সে হয়তো কিছু জানলে জানতে পারে। অবশ্য আমার মতো সেও ঐতিহাসিক মর্যাদার সবকিছু মিউজিয়ামে দিয়ে দিয়েছে। মিউজিয়াম বেশ আগ্রহের সাথেই গ্রহণ করে নিয়েছে ওগুলো। যদিও পরে জানা গেছে যে স্যার এডমুন্ড হারবার্ট আসলে নাজায়েজ সন্তান ছিলেন। বলে বিস্কুটের প্লেটটা হাতে তুলে নিলেন মিসেস হারবার্ট-মিলফোর্ড। কুকি?
স্যাম তুলে নিলো একটা বিস্কুট। ধন্যবাদ। তবে রেমি নিলো না একটাও।
প্লেটটা আবার টেবিলের কোনায় রেখে মহিলা বললেন, আমার কাজিন আর আমি যে আসলেই আত্মীয় এটার প্রমাণ বলতে শুধু একটা পারিবারিক বংশলতিকার বইই আছে আমার কাছে। অন্যান্য জিনিসগুলোর সাথে বইটাও আমার ভাগে পড়েছিলো। যদি বংশলতিকাটা আমি ঠিকমতো পড়ে থাকি তাহলে আমরা মায়ের দিক থেকে জ্ঞাতি ভাই-বোন এবং পরিবারের সর্বশেষ পুরুষ উত্তরাধিকারের বংশধর।
ঐতিহাসিক জিনিসগুলোর কি কোনো তালিকা আছে আপনার কাছে? স্যাম জানতে চাইলো।
হ্যাঁ, আছে। আপনারা দেখতে চান?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
টেবিল থেকে উঠে পাশের রুমে বিলের হিসাব করতে থাকা সেক্রেটারি কাছ থাকে একটা ম্যানিলা খাম নিয়ে এলেন মিসেস হারবার্ট-মিলার। তারপর খাম থেকে একটা কাগজের গোছা বের করে এনে তুলে দিলেন স্যামের হাতে। আসলে খুব বেশি কিছু ছিলো না। সবই নিলামের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছিলো। মনে হয় খুব সম্ভবত তাদের কাছে সবগুলো জিনিসের ছবি তোলা আছে। ছবিগুলো এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি।
স্যামের দিকে ঝুঁকে কাগজগুলোর দিকে তাকালো রেমি। দেখে বলল, তালিকাটা কিন্তু খুব একটা ছোটোও নয়।
ভেবে দেখুন, আমার মতো একজনের বৈঠকখানায় হাপসিকর্ড (বাদ্যযন্ত্র) থাকলে কেমন বিদঘুঁটে লাগতো? অথবা বর্ম রাখলে? যদি ওসব রাখার মতো কোনো আলাদা কক্ষও থাকতো, তারপরও বিদঘুঁটেই লাগতো। এরচেয়ে ভালো ওগুলো বিক্রি করে দিয়ে অর্থটা খামারের কাজে লাগানো। অবশ্য, তারপরও আমি কিছু জিনিস রেখে দিয়েছি।
তাই? রেমি বলল।
এই টি-সেটটা রেখে দিয়েছি। চমৎকার জিনিস এটা।
পিরিচের ধারে আঙুল বুলিয়ে দেখলো একবার। আসলেই।
কিছু পেইন্টিংও রেখে দিয়েছি, বলে দেয়ালে কোট-অফ-আর্মসের (বংশ পরিচায়ক চিহ্ন) দুইপাশে ঝুলানো খামারের দৃশ্যের দুটো ছবির দিকে নির্দেশ করলেন মহিলা। খামারবাড়িতে ওগুলোকে অতোটা বেমানান দেখায় না। আর পারিবারিক ক্রেস্টটা আসলে গৌরবের প্রতীক হিসেবে রাখা। স্বাভাবিকভাবেই, কেউ তো নিশ্চয় প্রতিদিন জানতে পারবে না যে সে এক শাসকের নাজায়েজ ছেলের বংশধর। যদিও সেই শাসক আসলে তেমন কেউ বড়ো কেউ ছিলো না, সাধারণ এক জমিদার ছিলো মাত্র। আর এর নিচের ঐ চামড়ার ঢালটা স্যার হারবার্টের সময়কালীনের নিদর্শন। তবে আমি ওটা রেখে দিয়েছি ওটার কেন্দ্রে থাকা কেল্টিক নটের নকশাটা থাকার কারণে।
