ইতিহাস বলছে ঐ সময়ের পর হেনরিকে আর দেখা যায়নি, স্যাম বলল! যদি এটাই হয়ে থাকে, তাহলে এটাও তো ধরে নেওয়া যায় যে সে মিরাবেলকে আটকাতে পেরেছিলো। তাই না? হয়তো পাথরে ধাক্কা খেয়ে জাহাজের সাথে সাথে সেও ডুবে গিয়েছিলো পানিতে। এমনটার কি সম্ভাবনা নেই?
যৌক্তিক ধারণা, সেলমা জানালো। তবে স্নেক আইল্যান্ডের ঠিক কোথায় সাইফার হুইলটা খুঁজতে হবে এটার ম্যাপ কিন্তু অন্য কথা বলছে। ম্যাপটা দেখে মনে হচ্ছে এভোরি হুইলের সঠিক স্থানটা মনে গেঁথে নিয়ে ফিরে এসেছিলো। হয়তো পরবর্তীতে গিয়ে ওটা তুলে আনার ইচ্ছা ছিলো তার। তবে, লোকটার ভাগ্য খারাপ ছিলো। তার ব্রিজম্যান ছদ্মনামটা ফাঁস হয়ে গিয়েছিলো তখন। রয়েল নেভির সাথে সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও ধাওয়া করছিলো তাকে। খুব সম্ভবত এরজন্যেই এভোরি স্নেক আইল্যান্ডে আর কখনো ফিরে যেতে পারেনি। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, সে ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছিলো এবং গুপ্তসম্পদ তুলতে না পারায় কাঙাল হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলো। লাযলোর ধারণা ইংল্যান্ডে ফিরে লোকটা তার বাকি থাকা সমস্ত অর্থ খরচ করেছিলো মূল সাইফার হুইলটা খোঁজার পিছনে। এই কারণেই শেষমেশ কাঙালে পরিণত হতে হয়েছিলো তাকে।
আমরা কি নিশ্চিত যে সে কখনো মূল সাইফার হুইলটা বের করতে পারেনি? আর, তাছাড়া এটার কি আসলেই কোনো অস্তিত্ব আছে? বলল রেমি।
পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যায়, সেলমা জানালো। প্রথমত, হেনরি এভোরি যদি সাইফার হুইলটা হাতে পেয়ে যেতো, তাহলে চার্লস এভেরি কখনোই এটার পিছনে লাগতো না। লোকটা তার পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানে। আর দ্বিতীয়ত, লায়লোর গবেষণা কনফার্ম করছে যে আসলেই এটার অস্তিত্ব আছে। এটা দখল করার আগেই এভোরি-ব্রিজম্যান হয় মারা গিয়েছিলো নয়তো ধরা পড়ে গিয়েছিলো রয়েল নেভির হাতে। তবে, এই সাইফার হুইলটা কোথা থেকে এসেছিলো বা এটা মালিক কে ছিলো সেটার ব্যাপারে সে কিছু বলে যায়নি। ধরে নিচ্ছি, সে এই তথ্যগুলো জানতো। যাই হোক, চার্লস এভেরিও এই ঘোষণাপত্রগুলো পেয়ে গেছে এখন। কোনো সন্দেহ নেই যে সেও এখন এটার পিছে লেগেছে।
হাত বাড়িয়ে মেরিটাইম মিউজিয়াম থেকে আনা ডিজিটাল কপিটা টেনে এনে ওটার দিকে তাকালো স্যাম। কিংস্টনের আর্কাইভে পড়া কোর্টের বক্তব্যের কয়েকটা পৃষ্ঠাই শুধু আছে এখানে। তো, সে এই সাইফার হুইলটা প্রথমে কার থেকে চুরি করেছিলো সেটা জানা এখনো বাকি আছে আমাদের?
ঘাটাঘাটি করে মিরাবেল-এর দুজন বিনিয়োগকারীর পরিচয় বের করেছি আমরা। দুজনই ইংল্যান্ডে থাকতো। তারমানে ধরে নেওয়া যায় যে জাহাজটাও ইংল্যান্ডেরই ছিলো। তো, পরবর্তীতে ওখানেই যেতে হবে আপনাদের।
রেমির দিকে তাকালো স্যাম। তো, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে যাত্রার ব্যাপারে কী মত তোমার?
কোনো অমত নেই। বছরের এই সময়ের ব্রিটেন আমার বেশ ভালোই লাগে।
****
পরদিন বিকালের দিকে লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টে গিয়ে পৌঁছালো ওরা। রাতটা বিশ্রাম তার পরদিন খুব সকাল সকাল কাজে লেগে গেলো আবার। সেলমা তাদেরকে দুটো নাম ও ঠিকানা দিয়েছে। একজন গ্রেস হারবার্ট, ব্রিস্টলের ঠিক পাশেই থাকে মানুষটা। অন্যজন হ্যারি ম্যাকগ্রেগর, থাকে কিছুটা দূরের নটিংহামের উত্তরে। তবে তাদের কার কাছে গেলে সুবিধা হবে সেই ব্যাপারের কিছুই বলতে পারেনি সেলমা। তাই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার ফাঁকে আগে কোথায় যাবে সেটা নির্ধারণের জন্য কয়েন দিয়ে টস করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো স্যাম। হেডস আসলে হারবার্টের ওখানে যাবো। টেইলস আসলে ম্যাকগ্রেগরের ওখানে, বলে কয়েনটা শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে আবার খাবলে ধরলো স্যাম।
হেডস আসুক, রেমি বলল। আমার মন বলছে ব্রিস্টলে গেলে হয়তো কিছু পাওয়া যাবে।
যদি ওখানে আমাদের আকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা না পাই, তাহলে কিন্তু তখন অনেক দূরের নটিংহামে যেতে হবে।
মহিলাদের অনুমানশক্তি হিসেবে ভেবে নাও এটাকে। আমি ব্রিস্টলের পক্ষে, হেডস আসুক।
হাত খুলে কয়েনটার দিকে তাকালো স্যাম। টেইলস। দেখেই কয়েনটা পকেটে ভরে রেমির দিকে তাকিয়ে বলল, এভাবে খেলার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো মানে হয় না। তোমার অনুমানের প্রতি বিশ্বাস আছে আমার।
টেইলস এসেছে, তাই না?
গাড়ি এসে যাওয়ায় প্রশ্নটার জবাব না দিয়ে স্যাম বলল, তুমি চালাও, আর আমি দিক নির্দেশনা দিই। ঠিক আছে?
কী! আমি নাহয় ড্রাইভ করলাম, কিন্তু তুমি যে ম্যাপের দিকে মনোযোগ রাখবে সেটা কিভাবে বিশ্বাস করবো?
কখনো কি ভুল নির্দেশনা দিয়েছি আমি?
একবার কিন্তু…
বাদ দাও, বলে ভত্যকে বখশিস দিয়ে গাড়ির চাবিটা নিয়ে নিলো স্যাম।
লন্ডনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। ধীরে ধীরে রাস্তার পাশের দালানের সংখ্যা কমছে, সেই সাথে বাড়তে শুরু করেছে খামারের সংখ্যাও। মৃদু কুয়াশাও পড়তে শুরু করেছে। উইন্ডশিল্ডের ওয়াইপার চালু করে নিলো স্যাম। পরের দুই ঘন্টা এই কুয়াশার ভিতর দিয়েই এগিয়ে গেলো ওরা।
পাহাড়ের ঢালের সবুজ দৃশ্য দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। খুবই মনোরম একটা জায়গা।
হ্যাঁ, যদি কুয়াশাচ্ছন্ন শীতলতা তোমার পছন্দ হয় আর কী!
শুনে স্যামের দিকে তাকিয়ে রেমি বলল, এটার থেকে কি জামাইকার ঐ উত্তপ্ত আবহাওয়াই পছন্দ তোমার?
