রেমি চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে বলল, আমি কি একটু কাছ থেকে দেখতে পারি ওটা?
অবশ্যই।
বলে উঠে দেয়ালের কাছে চলে গেলো রেমি।
ওদিকে স্যাম কাগজে থাকা তালিকাটা দেখতে দেখতে বলল, এখানে বেশ পাঁচমিশালী দ্রব্যাদির কয়েকটা বাক্সের কথা উল্লেখ আছে দেখি। ওগুলোতে কী আছে আসলে?
কিছু টুকিটাকি জিনিসপত্র। কাগজের স্তূপ, বইই বেশি। একটা বাক্স দেখে মনে হচ্ছিলো কেউ একজন কোনো ভাঙ্গা বৰ্ম ভরে রেখেছে ওটার ভিতর। অ্যাপ্রেইজারের ধারণা ওগুলোর কিছুর ঐতিহাসিক মূল্য থাকলে থাকতেও পারে। এজন্যেই আমি আর আমার কাজিন ওগুলোকে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি জানি না আসলেই ওগুলোর কোনো সত্যিকার মূল্য আছে কিনা….. বলতে বলতেই হুট করে মহিলার চোখ পড়লো স্যামের খালি চায়ের কাপটার দিকে। আরেককাপ দিবো?
না, না। ধন্যবাদ।
এরপর মহিলা নিজের কাপে আরেকবার চা ঢেলে নিয়ে বললেন, এমন না যে আমরা ধনী বলে ওগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি। আসলে আমাদের ওগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় পড়ে থাকার চেয়ে জিনিসগুলোকে মিউজিয়ামে রাখাতেই আগ্রহ বেশি আমাদের। সামনের সপ্তাহান্তে হয়তো ফান্ড-রেইজারদের একটা অনুষ্ঠান আছে মিউজিয়ামে। ঐ অনুষ্ঠানেই জিনিসগুলোকে প্রদর্শনীতে রাখতে চাচ্ছে ওরা
ফান্ড-রেইজার? দেয়ালের কাছ থেকে ফিরে এসে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো রেমি। আমাদেরও যাওয়া উচিৎ তাহলে।
টিকিটের বিক্রি খুব সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে, বললেন মিসেস হারবার্ট মিলার। কয়েক সপ্তাহ আগেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
কপাল খারাপ তাহলে, স্যাম বলল। ঐ অনুষ্ঠানের পূর্বেই কি জিনিসগুলো দেখার মতো সুযোগ করে দিতে পারবেন আপনি?
অবশ্যই।
বলে মিউজিয়ামের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বরটা তাদেরকে জানালেন মিসেস হারবাট-মিলার। দেরি না করে সাথে সাথেই মোবাইলে তথ্যগুলো টুকে নিলো স্যাম। আরো বেশ কিছুক্ষণ কথা বলল ওরা। তারপর একটা সময় সব কিছু সম্পর্কে জানার পর মহিলাকে অতিথিপরায়ণতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেওয়ার জন্য পা বাড়ালো ওরা।
দরজা দিয়ে বেরুতে যাবে ঠিক তখনই দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা পেইন্টিংগুলোর দিকে চোখ আটকে গেলো স্যামের। ছবির শিল্পীর নামটা তার পরিচিত না। তবে তার নজর আটকে গেছে কোট-অফ-আর্মসটা দেখে। ঘুরে মহিলার দিকে তাকিয়ে বলল, এটার একটা ছবি তুললে নিশ্চয় কিছু মনে করবেন না আপনি?
আরে নাহ। আপনি চাইলে ছবি তুলতে পারেন।
মোবাইল বের করে কয়েকটা ছবি তুলে নিলো স্যাম। কোট-অফ-আর্মস এবং এর নিচে ঝুলানো ঢাল দুটোরই ছবি তুলে নিচ্ছে। পারিবারিক চিহ্নের ইংরেজ ঐতিহ্যের সাথে খোদাইকৃত কেল্টিক নটটাকে কিছুটা উদ্ভট লাগছে। তবে কেউ যদি এর কোনো মানে বের করতে পারে, তাহলে একমাত্র সেলমাই পারবে না। তবে বয়সের প্রভাবে ঢালের চিহ্নটা ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় এবং মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠায় পরিষ্কার ছবি ভোলা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফ্ল্যাশ বন্ধ করেই ছবি তুললো স্যাম। তবে রুমে আলো কম থাকায় এতেও খুব একটা লাভ হলো না। অবশ্য, সেলমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। এটা দিয়েই তথ্য বের করে আনতে পারবে মেয়েটা। ছবি তোলা শেষে মহিলাকে আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে নিলো স্যাম।
মিসেস হারবার্ট-মিলার মুচকি হেসে বলল, আরে ধন্যবাদ লাগবে না। আপনাদের সাথে কথা বলে বেশ ভালো লেগেছে আমার। তবে আমার স্বামী আপনাদের সাথে দেখা করতে পারেনি বলে দুঃখিত। হুট করেই বেড়া মেরামতের কাজ পড়ে গিয়েছে। তবে আমার মনে হয় গতকালের মেহমানদের ওপর কিছুটা অসন্তুষ্ট ও।
মেহমান? রেমি বলে উঠলো।
আপনাদের কালও কয়েকজন এসেছিলো উত্তরাধিকারের ব্যাপারে কথা বলতে। সত্যি বলতে, আমি জানি না সবাই কেন এটা নিয়ে এতো মেতে আছে। দুৰ্গটা দেখলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এটা। আমার স্বামীর ভাষায় ওটা শুধু পাথরের একটা স্তূপ মাত্র।
দরজার মুখে গিয়ে থেমে দাঁড়ালো স্যাম। আপনি কি তাদের নাম বলতে পারবেন? অথবা তারা কী নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছিলো সেটা?
দুঃখিত, নামগুলো ঠিক মনে নেই আমার। তবে তারাও আপনাদের মতোই মিউজিয়ামে দিয়ে দেওয়া বাক্সগুলো নিয়েই আগ্রহী ছিলো।
এরপর আর কিছু না বলে মহিলার থেকে বিদায় নিলো। গাড়িতে গিয়ে বসে ফোনটা রেমির হাতে দিয়ে স্যাম বলল, একটা কাজ করো। ছবিগুলো সেলমাকে পাঠিয়ে দাও।
কোট-অফ-আর্মসটা বেশ অদ্ভুত লাগলো। মহিলার পূর্বপুরুষ ছিলো সাধারণ এক জমিদারের নাজায়েজ ছেলে মাত্র। সেই তুলনায় ক্রেস্টে আভিজাতিক প্রতীকের সংখ্যা কিন্তু অনেক বেশি।
আমিও ঠিক এটাই ভাবছি, বলতে বলতে খামারের ড্রাইভওয়ে থেকে মূল সড়কে গাড়ি বের করে আনলো স্যাম। সাথে রিয়ারভিউ মিররটাও চেক করে নিচ্ছে।
পাঠিয়ে দিয়েছি, বলে ফোনটা গাড়ির সেন্টার কনসোলে রেখে দিলো রেমি। তারা আমাদের আগে আসায় খুব একটা অবাক হইনি আমি।
প্রতিবারই তাদের থেকে এককদম পিছিয়ে আছি আমরা। এতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি এখন।
আশা করছি মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জিনিসগুলো দেখানোর আগে এদের ব্যাপারে কিছুটা খতিয়ে দেখবে। নাহলেও অন্ততপক্ষে পরিচয় পত্র দেখতে চাইবে।
