যাই হোক, ঝুঁকি নেওয়া উচিৎ হবে না তবুও। জলদি করুন।
কল কেটে দ্রুত বইয়ের প্রতিটা পাতার ছবি তুলতে শুরু করলো আলেক্সান্দ্রা। তার মন বলছে, চার্লসের গোপনীয় কাজটার সাথে এগুলোর অবশ্যই কোনো সম্পর্ক আছে।
ছবি তোলা শেষে ল্যাপটপটা চালু করলো। ল্যাপটপ পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড থাকলেও, পাসওয়ার্ডটা জানে ও। চার্লস প্রায় সবকিছুতেই এই পাসওয়ার্ডটা ব্যাবহার করে। পাসওয়ার্ডের ঘরে Pirate লিখতেই লকটা খুলে গেছে। লকটা খুলে যেতেই কম্পিউটারের ফোল্ডারগুলো ঘেটে দেখতে শুরু করছে ও।
আগ্রহ জাগানোর মতো কিছুই নেই ফোল্ডারগুলোতে।
আলেক্সান্দ্রা জানে সে কিছু একটা মিস করছে। কী মিস করছে ভাবতে ভাবতে চেয়ারে হেলান দিয়ে আবার তাকালো অফিসের চারপাশে।
ঠিক তখনই তার নজর পড়লো টেবিলে থাকা নোটপ্যাডটার দিকে। প্যাডের ওপরের কাগজটা অবশ্য ছিঁড়ে নেওয়া, তারপরও কাগজে লেখা ফার্গো শহরের নামটা এখনো মনে আছে তার। কথাটা মনে পড়তেই ইন্টারনেটে ফার্গো লিখে সার্চ দিলো। নর্থ ডাকোটায় চার্লস কী করছে সেটা সে কোনোভাবেই ভেবে বের করতে পারছে না।
তবে ইন্টারনেট সার্চ হিস্টোরিতে নর্থ ডাকোটার ব্যাপারে কিছুই নেই।
তার বদলে রয়েছে ফার্গো গ্রুপ, স্যাম ফার্গো, রেমি ফার্গো জাতীয় কিছু নাম।
হোয়াট দ্য…?
আরো কিছুটা ঘাটাঘাটি করতেই ফার্গো দম্পতিদের ওপর চার্লসের আগ্রহের কারণটা ধরতে পারলো ও।
ফার্গোরা আসলে গুপ্তধন শিকারী।
ঠিক তখনই আবার ফোন বেজে উঠলো তার। অবশ্যই, কিপের কল এটা। ফোন ধরেই সে বলল, তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না এটা। চার্লস কিসের পিছে লেগেছে তা জেনে গেছি আমি।
দ্রুত বেরিয়ে আসুন ওখান থেকে। আপনার স্বামী ফিরে এসেছে।
.
৩০.
পরদিন সকালে সেলমার কল পেয়ে স্যাম জিজ্ঞেস বলল, আশা করছি ভালো কোনো সংবাদ দিতে পারবে।
আগের দিন পোর্ট রয়েল থেকে ডিজিটাল কপিটা নিয়েই পাতাগুলো সেলমাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলো স্যাম। সেলমা আসলে এইগুলোরই আশা করছিলো। এতে জামাইকা থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো নিয়ে গবেষণা করতে সুবিধা হয়েছে ওর।
আমিও, সেলমা বলল, স্নেক আইল্যান্ডে ডোবা জাহাজ এবং জামাইকায় ক্যাপ্টেন ব্রিজম্যানের কার্গো থেকে চুরি যাওয়া জাহাজ দুটোর মধ্যে সংযোগসূত্র পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো, ডুবে যাওয়া জাহাজের নামটা আসলে অনেকগুলো শূন্যস্থানই পূরণ করে দিয়েছে। বিশেষ করে এখন আমরা নিশ্চিত জানি যে সাইফার হুইলটা ঐ জাহাজের সাথে করেই ডুবেছিলো।
কিভাবে জানলে এটা? স্যাম জানতে চাইলো।
ব্রিজম্যান আসলে পাইরেট হেনরি এভোরির আরেক নাম ছিলো।
এভোরি? রেমি বলে উঠলো। এভেরি আর এভোরি শব্দ দুটো প্রায় একই রকম শোনাচ্ছে। এটা কি কোনো কাকতালীয় ব্যাপার?
না, সেলমা জানালো। ভুল উচ্চারণের কারণে নামটা বদলে গেছে। তবে বেশিরভাগ নথিপত্রেই দুটো নামই ব্যবহার করা হয়েছে। হেনরি এভোরি বা এভেরি, যেটাই বলেন না কেন-আসলে এই লোকই ছিলো ক্যাপ্টেন হেনরি ব্রিজম্যান। প্রথমে দাস ব্যবসায়ী ছিলো, তারপর একসময় জলদস্যুতে পরিণত হয়। অবশ্য আমার দৃষ্টিতে দুটো আসলে একই জিনিস।
তো, কী হয়েছিলো তার? স্যাম জিজ্ঞেস করলো।
গায়েব হয়ে গিয়েছিলো পুরোপুরি। সর্বশেষ বাহামাসে দেখা গিয়েছিলো তাকে। ধারণা করা হয় এরপর ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাকি জীবন সেখানেই লুকিয়েছিলো। ঐ সময়টায় ওয়ান্টেড অপরাধীদের একজন ছিলো লোকটা। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই পৃষ্ঠাগুলো ছাড়া কিন্তু অন্য কোথায়ই ব্রিজম্যান বা ফ্যান্সির জামাইকা যাত্রা করার কোনো তথ্য নেই। স্পষ্টতই, চার্লস এভেরি এই তথ্যটা আমাদের থেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছিলো।
এছাড়া আর কী কী লুকিয়ে রাখতে চাচ্ছে?
দুটো জিনিস। এক, এভোরির প্রথমবার মিরাবেল আক্রমণ করার ব্যাপারটা। দুই, মিরাবেলর প্রতি আগ্রহ থাকা ইংরেজ বিনিয়োগকারীদের পরিচয়।
বিনিয়োগকারীদের? মানে, জাহাজের মালিক সংখ্যা একের থেকে বেশি?
মালিক আসলে একজনও হতে পারে। তবে কয়েকজন বিনিয়োগকারী থাকার অর্থ মনে হচ্ছে, জাহাজের ক্ষমতা আসলে বেশ কয়েকজনের হাতে ছিলো। আর ক্রু মেম্বারের বক্তব্য থেকে আমরা যেটা জানতে পেরেছি স্পেনের উপকূলে প্রথমবার মিরাবেল আক্রমণের সময় এভোরি একটা জিনিস ছিনিয়ে নিয়েছিলো। ধরে নিচ্ছি সাইফার হুইলটাই কেড়ে নিয়েছিলো। এই আক্রমণটা হয়েছিলো জামাইকার ঘটনার আরো কয়েক বছর আগে। বক্তব্য থেকে জানা গেছে, এভোরি নাকি জাহাজের প্রতিটা কোনা খুঁজে খুঁজে দেখেছিলো। এর মানে সে আগে থেকেই জানতো যে হুইলটা ঐ মিরাবেলেই আছে। আর তাছাড়া জাহাজটা ধ্বংস বা নিজের জলদস্যু না ভিড়িয়ে ওটাকে ছেড়ে দিয়েছিলো এভোরি। এমনকি জাহাজের ক্যাপ্টেন বা ক্রুদেরও কাউকে হত্যা করেনি।
দ্রুত ওখান থেকে চলে যেতে চাইছিলো, স্যাম বলল। আর দ্বিতীয় আক্রমণটা হয়েছিলো জামাইকাতে?
মিরাবেল আসলে তাকে অনুসরণ করে গিয়েছিলো ওখানে। বক্তব্য অনুযায়ী, জামাইকাতে এভোরির থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা চুরি হয়েছিলো বলে জানা গেছে। এরপর মিরাবেল পালিয়ে যায়। ধরে নিচ্ছি সাইফার হুইলটা নিয়েই পালিয়েছিলো। ফ্যান্সির ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময়ই স্নেক আইল্যান্ডে ডুবে যায় জাহাজটা। আর এরপরের ইতিহাস তো আপনারা জানেনই। মিরাবেলের সাথে সাথে হুইলটাও হারিয়ে গিয়েছিলো এভোরির নাগাল থেকে। খুব সম্ভবত এই কারণেই পরবর্তীতে জলদস্যুতা ছেড়ে দিয়েছিলো লোকটা।
