অবশ্য শ্বাস টিকিয়ে রাখাটা বেশ কঠিন একটা কাজ তার জন্য। গত কিছুদিন ধরে চার্লস যেভাবে আচরণ করছে তাতে চার্লসের কবল থেকে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। নিশ্চিতভাবেই চার্লস তার সাম্রাজ্যকে নিজের কাছে। রাখার জন্য কোনো না কোনো উপায় খুঁজছে।
যাই হোক, এখন তাকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে চার্লস কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে অন্যদের কাছ থেকে। এবং সে এতে পুরোপুরি নিশ্চিত যে প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটা একমাত্র চার্লসের অফিসেই পাওয়া যাবে।
ভাবতে ভাবতেই লবিতে এসে দাঁড়ালো আলেক্সান্দ্রা। সে এসে দাঁড়াতেই ডেস্কে কাজ করা সিকিউরিটি গার্ড তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, একটু আগেই আপনার স্বামী বেরিয়ে গেছে, মিসেস এভেরি।
আমার সেলফোনটা নিশ্চয় ডেস্কে রেখে যায়নি, তাই না?
না, ম্যাম।
মনে হয় তার অফিসেই ফোনটা ফেলে রেখে এসেছি। আমিই গিয়ে নিয়ে আসছি। আর আমার ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কয়েকটা ফোন কল করতে হবে আমার।
কিছু না বলে আস্তে করে মাথা ঝাঁকালো গার্ড লোকটা। তারপর আবারো ফিরে গেলো তার মনিটরে চোখ রাখার কাজে।
যাক, এতে অন্তত দেরি হলেও সে কিছু সন্দেহ করবে না, ভেবে পেন্টহাউজে যাওয়ার এলিভেটরের দিকে পা বাড়ালো আলেক্সান্দ্রা।
চার্লসের সেক্রেটারিও চলে গেছেন। তাই অফিসের সামনের লবিটাও পুরোপুরি খালি হয়ে আছে। পারফেক্ট। অবশ্য চার্লসের অফিসের দরজাটায় ঠিকই তালা দেওয়া। চাবির সেট বের করে আনলো আলেক্সান্দ্রা। সবগুলোই ডুপ্লিকেট চাবি। যেসব রুমকে গুরুত্বপূর্ণ চার্লস তার থেকে আড়াল করে রাখতে চায় সেসব রুমের চাবিই এগুলো।
লোকটা কত চেষ্টাই করছে, কিন্তু লাভ হচ্ছে না…যদি খালি সে এই চাবির সেটের কথাটা জানতো….
চাবি দিয়ে দরজাটা খুলে অফিসে ঢুকলো আলেক্সান্দ্রাতখনই গুপ্ত ক্যামেরার বিষয়টা মাথায় এলো ওর।
তবে এটা কোনো কাজে দিবে না। সে যতোটা জানে, কোম্পানির অর্ধেক মালিকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা করাটা প্রায় অসম্ভব কাজ।
ভিতরে ঢুকেই কাজে লেগে গেলো আলেক্সান্দ্রা। প্রথমেই ডেস্ক ড্রয়ারগুলো খুলে খুলে দেখছে। লোকটা খুবই পরিপাটি মানুষ। সবকিছুই একদম নিখুঁতভাবে সাজিয়ে রাখে। নিশ্চিতভাবেই লুকিয়ে রাখার মতো কোনো কিছু একদম সরাসরি নজরে পড়ার মতো কোনো সাধারণ জায়গায় রাখবে না। এটা ভেবেই চার্লসের চেয়ারটায় বসে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো আলেক্সান্দ্রা। অফিসের কোনার টেবিলের ওপর থাকা ম্যাপ বইটাই শুধু চোখে পড়লো তার। এই বইটা নিয়ে খুবই মোহাগ্রস্ত হয়ে আছে চার্লস।
উঠে গিয়ে বইটা হাতে নিলো ও বইটার মধ্যে কী এমন আছে যার জন্য লোকটা এতো পাগল হয়ে গেছে? দেখে বইটাকে খুব একটা বিশেষ কিছু মনে হলো না আলেক্সান্দ্রার কাছে। দেখতে তাদের লাইব্রেরিতে থাকা পুনর্মুদ্রিত বইটার মতোই দেখাচ্ছে। মলাট উল্টে বইয়ের ভঙ্গুর পাতাগুলো দেখেই পার্থক্যটা বুঝতে পারলো। তবে আকর্ষণ পাওয়ার মতো কিছুই নেই বইটাতে। এই ভেবে বইটা বন্ধ করতে যাবে, তখনই দেখলো যে কেউ একজন পেন্সিল দিয়ে বর্ডারের দিকে কিছু চিহ্নের ওপর গোল দাগ দিয়ে রেখেছে। চিহ্নগুলোকে দেখতে একটু অন্যরকম লাগছে। মনে হচ্ছে যেন…
ওগুলো কি কোনো বর্ণ?
আসলেই ওগুলো বর্ণ। প্রাচীন-ধাচের বর্ণগুলোকে দেখতে অনেকটা দক্ষ হাতে থাকা চিত্রের মতো দেখাচ্ছে।
তো, এগুলোর ওপর গোল দাগ দেওয়া কেন?
ভেবে ভালো করে দেখার জন্য আরো কাছে কুঁকলো আলেক্সান্দ্রা। ঠিক তখনই বেজে উঠলো তার ফোন।
কাউচে রাখা পার্সটার দিকে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা বের করে আনলো আলেক্সান্দ্রা। কিপ কল করেছে। কল রিসিভ করে বলল, কপাল ভালো নিচে থাকার সময় ফোন দাওনি তুমি।
ফোন সাইলেন্ট করা না আপনার? ওসবের কথা মনে থাকে কার?
আপনার অন্তত থাকা উচিৎ। যেহেতু আপনি আপনার স্বামীর অফিসে চুরি করে ঢুকেছেন, তাই সতর্ক থাকা জরুরি। অফিসে পৌঁছে তো আপনার আমাকে ফোন করার কথা ছিল।
তুমি যদি আমার জায়গায় থাকতে-আসলে তোমাকে এই কাজের জন্যই ভাড়া করেছি আমি-তাহলে এটা নিয়ে এতো দুঃশ্চিন্তা করার সুযোগ পেতে না।
ঠিক বলেছেন। তবে আপনার স্বামীর অফিসে আপনি খোঁজাখুঁজি করলে সেটা নিয়ে কেউ সন্দেহ করবে না। আমার মতো অপরিচিত কেউ করতে গেলেই সন্দেহের উদ্রেক হবে। আর তাছাড়া কোনটা মানানসই আর কোনটা বেমানান সেটাই বা আপনার থেকে ভালোকরে জানে কে? তো, যাই হোক, খুঁজে পেয়েছেন কিছু?
এখনো না। শুধু একটা জলদস্যুর বই পেয়েছি মাত্র। তার দাবি এটা নাকি পূর্বপুরুষদের থেকে চুরি গিয়েছিলো।
অরিজিনাল বইটা পেয়েছেন?
হা। অবশ্য বইটায় কৌতূহল জাগানোর মতো কিছুও আছে, বলে টেবিলে রাখা হলুদেটে কাগজগুলোর দিকে তাকালো আলেক্সান্দ্রা। কেউ একজন বইয়ের বর্ণগুলোর ওপর গোল দাগ দিয়ে রেখেছে। বর্ণগুলোও দেখতে কিছুটা অন্যরকম। অনেকটা গুপ্তসংকেতের মতো।
তার মোহের কারণটা বুঝা যাচ্ছে। আপনি ওগুলোর ছবি তুলে নিয়ে আসুন। আমি চেক করে দেখবো। আপনি কি উনার কম্পিউটারটা দেখেছেন?
না। এখনো না।
দ্রুত করুন তাহলে। এমনিতেই অনেক সময় পেরিয়ে গেছে।
তার সাথে থাকা আইটেমটাকে তো দেখেছো? আমার মনে হয় না খুব শীঘ্রই তার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে।
