শুনে মুচকি হাসলো মহিলা।
আমাদেরকে বলা হয়েছিলো যে আপনাদের কাছে পুরোনো জাহাজের ঘোষণাপত্রের কপিগুলো আছে। বিশেষ করে বললে ১৬৯৪ থেকে ১৬৯৬ এর গুলো।
না। আমরা খুবই দুঃখিত। আপনারা কি কিংস্টনের আর্কাইভে খুঁজে দেখেছেন?
দুর্ভাগ্যবশতঃ ঐ বইটা সম্পূর্ণ ছিলো না। আমাদেরকে একজন জানালো আপনাদের কাছে হয়তো ওটার কপি থাকতে পারে।
আমার জানামতে নেই। এর জন্য আবারো ক্ষমা চাইছি আমি।
আচ্ছা, ধন্যবাদ, বলে মহিলাকে বিদায় জানালো ওরা।
মহিলা চলে যেতেই স্যাম বলল, ভালো চেষ্টা করেছে। হয়তো সেলমা এতক্ষণে কিছু বের করে ফেলেছে।
দুজনই জানে এটা শুধুই একটা সান্ত্বনাবাণী মাত্র। সেলমা কিছু পেয়ে থাকলে এতক্ষণে তাদেরকে জানিয়ে দিতো।
নাই মামার চেয়ে তো কানা মামা ভালো, স্যাম বলল।
কানা মামা আছে কোনো?
আমরা তো এখন চাইলে আমাদের ছুটিটা নিতে পারি।
শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুচকি হাসলো রেমি। হাসলেও চোখ থেকে হতাশার ছাপটা দূর করতে পারছে না। চলো, বাসায় ফিরে যাই।
বেরিয়ে আসতে যাবে, ঠিক তখনই দ্বিতীয় মহিলা তাদের দিকে এগিয়ে এসে নিচু কণ্ঠে বলল, আপনার কথাগুলো শুনতে পেয়েছি আমি। পুরোনো জাহাজগুলো ঘোষণাপত্র খুঁজছেন আপনারা?
হ্যাঁ, স্যাম জবাব দিলো।
কিংস্টনের আর্কাইভ ডিপার্টমেন্ট পুরোনো সব রেকর্ডকে ডিজিটাল কপিতে পরিণত করতে চেয়েছিলো, কিন্তু বাজেটের কারণে সম্ভব হয়নি। আমাদের কপাল ভালো যে টাকা ফুরিয়ে যাবার আগেই কিছু কপি স্ক্যান করে ফেলতে পেরেছিলাম। ডিরেক্টদের একজন মিউজিয়ামের জন্য ওগুলোর রিপ্রিন্ট করার আশা করছে। তবে ভূমিকম্পের ঠিক পরের কয়েকবছরের কপি ছাড়া আর কিছুই নেই।
ভূমিকম্পের পরের কয়েক বছরের কপি? আশাবাদী কণ্ঠে বলে উঠলো রেমি। কোন কোন বছরের?
ষোলশো তিরানব্বই থেকে ষোলশো ছিয়ানব্বইয়েরগুলোই আছে শুধু।
প্লিজ, ওগুলোই দেখান আমাদের, বলল রেমি।
.
২৯.
রাস্তার অপর পাশ থেকে স্বামীর গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছে আলেক্সান্দ্রা এভেরি এবং ভাড়াটে পার্সোনাল ইনভেস্টিগেটর কিপ রজার্স। চার্লসের বেরিয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে প্রায়, ভাবতেই চার্লস এভিরেকে অফিস বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে আসতে দেখলো আলেক্সান্দ্রা। লোকটার সাথে তার স্বঘোষিত ক্লায়েন্টও আছে।
দ্রুততার সাথে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলো কপি। দেখতে তো বেশ, ঐ মেয়েটা।
ওরা সবাই দেখতে বেশ, বলল আলেক্সান্দ্রা। চার্লস কিভাবে তার মেয়ের বয়েসী কারো সাথে ডেট করতে সেটা কখনো ভেবে পায় না সে। অবশ্য চার্লস কখনোই তার সন্তানদের সাথে অতোটা ঘনিষ্ঠও ছিলো না। বাচ্চাকালে নিজের কাছে রাখার চেয়ে বেবিসিটারের কাছেই রাখতো বেশি। তারপর বয়স বাড়তেই পাঠিয়ে দিয়েছিলো বোর্ডিং স্কুলে। আলেক্সান্দ্রা সবসময়ই সপ্তাহান্তে গিয়ে দেখা করতো তাদের সাথে, ফোনে খোঁজ নিতো। আর চার্লস দূরত্বটাকেই বেশি পছন্দ করতো, বলতো এতে নাকি বাচ্চাদের চরিত্র বিকশিত হবে।
আর এখন, চার্লসই অবাক হয়, কেন তার সন্তানরা কখনো তার সাথে কথা বলে না ভেবে।
আপনার কাজে লেগে যাওয়া উচিৎ, চার্লসের গাড়ি রাস্তার মোড় ঘুরে হারিয়ে যেতে দেখে বলল কিপ।
মাথা ঝাঁকালো আলেক্সান্দ্রা। অফিসে পৌঁছে তোমাকে ফোন দিবো আমি।
আমি আছি এখানেই।
বলে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পেরিয়ে অফিসের দিকে পা বাড়ালো আলেক্সান্দ্রা। সে কী করতে যাচ্ছে সেই ব্যাপারে যদি চার্লসের বিন্দুমাত্রও ধারণা থাকতো, তাহলে সে কখনোই অফিসে ঢোকার সুযোগ পেতো না। আর তাছাড়া আগের সপ্তাহে বেশ কয়েকবার এখানে আসার কারণে গার্ডরাও তাকে চিনে ফেলেছে ভালোভাবে।
সবাই তাকে বিরক্তিকর, যন্ত্রণাদায়ক এবং শীঘ্রই সাবেকে পরিণত হতে যাওয়া এক মহিলা ভাবে। শেষ অংশটা সত্য। শীঘ্রই চার্লসের সাবেক পত্নীতে পরিণত হয়ে যাবে সে। যাই হোক, এতে করে এই মুহূর্তে তার এখানে অনবরত আসাটাকে অদ্ভুতভাবে দেখবে না কেউ। যদিও সে নিশ্চিত না, তারপরও এটা বুঝতে পারছে যে তার স্বামী এখন সচারচর কোম্পানি কিনে ফতুর করার ব্যবসা থেকে অন্য কিছু নিয়ে মেতে আছে। নিশ্চিতভাবেই কোম্পানি ফতুর করার ব্যবসা দিয়েই নিজের সাম্রাজ্য দাঁড় করিয়েছে চার্লস। তবে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সে খেয়াল করছে তার স্বামী শুধু টাকা বাড়ানোর জন্যই এটা করে না, বরং মানুষের জীবন ধ্বংস করাটাও বেশ উপভোগ করে লোকটা।
এমন না যে সে তার স্বামীর চেয়ে খুব ভালো কেউ। মানুষটাকে তো সে তার টাকার জন্যই বিয়ে করেছিলো। অবশ্য পরবর্তীতে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তার আচরণেরও পরিবর্তন ঘটে। ধীরে ধীরে ন্যায়বোধ, বিবেকের জন্ম নেয় ওর মাঝে। খুব সম্ভবত সন্তানদের ওপর এই ধরনের জীবনযাপনের প্রভাব দেখেই কিছুটা বদলে যায় ও।
সন্তানদের জন্য বদলে যাওয়ার ভাবনাটা বেশ ভালো লাগলেও বদলানোর কারণটা ঠিকই ভালোভাবে জানে আলেক্সান্দ্রা। স্বামীর সম্পদ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও আছে তার মনে। তাদের বিবাহিত সময়কালে স্বামীর অর্জন করা সম্পদের ওপর থেকে অধিকার ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার। এজন্যেই আইনজীবীদের দলে কিপকেও ভাড়া করেছে ও।
যতক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরে এক রত্তি শ্বাস টিকে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত চার্লসকে তার অধিকারের সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যেতে দিবে না।
